সংবাদ নিয়ন্ত্রণে কর্পোরেট | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 07.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

সংবাদ নিয়ন্ত্রণে কর্পোরেট

সাংবাদিক বলতে বাধ্য হচ্ছেন, যে কর্পোরটের চ্যানেলে বসেছেন, তার বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না৷ এটাই এখন পশ্চিমবঙ্গের সংবাদচিত্র৷

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শুরু হতে তখনো কয়েক সপ্তাহ বাকি৷ প্রতিদিন রাতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে জমজমাট ভোট-বিতর্কের আসর চলছে৷ এক প্রাক্তন সহকর্মী তেমনই একটি চ্যানেলের নামকরা অ্যাংকর৷ বিতর্কে এক বাম বক্তা বিজেপির সঙ্গে আম্বানি-আদানির সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে শুরু করতেই থামিয়ে দিলেন অ্যাংকর৷ সরাসরি জানিয়ে দিলেন, রিলায়েন্সের চ্যানেলে বসে ওই সংস্থার মালিকের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যাবে না

ক্লিপটি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ নেটিজেনরা গালাগালির বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন৷ সত্যি বলতে কী, প্রাক্তন সহকর্মীর ওই ধরনের মন্তব্য শুনে একজন সাংবাদিক হিসেবে আমারও যে খুব ভালো লেগেছিল, এমন নয়৷ কিন্তু এ ছাড়া আর কি কোনো উপায় ছিল তার? আমি তার জায়গায় থাকলে কী করতাম?

ভেবেছি৷ ভাবতে বাধ্য হয়েছি৷ কারণ, আমাদের প্রত্যেককেই কখনো না কখনো এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়৷ পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ চ্যানেল এখন কোনো না কোনো কর্পোরেটের মালিকানাধীন৷ কর্পোরেটের সঙ্গে সরকারের এক আশ্চর্য সম্পর্ক আছে৷ নরেন্দ্র মোদীর সরকারের সঙ্গে রিলায়েন্স বা আদানির সংস্থার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গোপন নয়৷ সেই সংস্থার টাকায় তৈরি চ্যানেলে বসে যদি সেই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হয়, তাহলে অ্যাংকরের পক্ষে থামিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কী বা করার আছে! প্রাক্তন সহকর্মী যে ভাবে থামিয়ে ছিলেন, আমি হলে হয়তো তা করতাম না৷ প্রশ্ন ঘুরিয়ে দিয়ে বক্তাকে থামিয়ে দিতাম৷ কিন্তু থামাতাম৷ চাকরির স্বার্থেই থামাতাম৷

Syamantak Ghosh

স্যমন্তক ঘোষ, ডয়চে ভেলে

থামাতে হয়৷ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাশ করা এক সাংবাদিকতার শিক্ষানবিশকে তার প্রথম বস বলে দিয়েছিলেন মূলস্রোতের সাংবাদিকতার অর্থ৷ পলিসি মেনে কাজ করতে হবে৷ মালিক যা চাইছেন, সে ভাবেই সাজিয়ে ফেলতে হবে যুক্তি৷ একেই বলে পেশাদারত্ব৷

প্রায় ১৫ বছরের পেশাদার জীবনে পলিসির মারপ্যাঁচ কম দেখিনি৷ যে সংস্থা তিন বছর আগে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থন করেছিল, তিন বছর পর তারাই কীভাবে বিরোধী দলকে সমর্থনের পক্ষে চলে যেতে পারে, দেড় দশকে তার গাদা গাদা উদাহরণ দেখেছি৷ দেখেছি, সাংবাদিকতা জীবনের একেবারে গোড়া থেকেই৷

সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন তখন পুরো দমে চলছে৷ ছাত্র জীবনের শেষ পর্বে আমরাও অংশ নিয়েছিলাম সেই আন্দোলনে৷ তার পর পরই প্রথম চাকরিতে যোগ দেওয়া৷ সেখানে শুনলাম, কোনো ভাবেই ওই আন্দোলনকে গুরুত্ব দেওয়া যাবে না৷ এমনই নির্দেশ৷ বুঝতে পারছি আন্দোলন বড় হচ্ছে৷ কিন্তু খবর করতে পারছি না৷ এর শেষ হয়েছিল নন্দীগ্রামে গুলি চালানোর ঘটনায়৷ পুলিশের গুলিতে ১৪ জনের মৃত্যুর পরে চ্যানেল মত বদলাতে বাধ্য হলো৷

এক দশক আগে চ্যানেল মত বদলাতো৷ ইদানীং বদলায় না৷ এক দশক আগে ব্যক্তিগত মালিকানায় অনেক বেশি গণমাধ্যম চলতো পশ্চিমবঙ্গে৷ শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের ব্যবসাই যারা করতেন৷ এক দশক পরে কর্পোরেট ঢুকতে শুরু করেছে সেখানে৷ যে কর্পোরেটের মূল ব্যবসা তেলের অথবা বিদ্যুতের অথবা খনির৷ কিন্তু তারা একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমেও বিনিয়োগ করছে৷ খনির ব্যবসায়ীকে ব্যবসার স্বার্থেই সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে হয়৷ সরকারকে সুবিধা দিতে হয়, পাল্টা নিতেও হয়৷ আর সেই সম্পর্কের জের স্পষ্টভাবে এসে পড়ছে সংবাদমাধ্যমের উপর৷ প্রাক্তন সহকর্মীদের তাই সরাসরি বলে দিতে হয়, আম্বানির নামে কিছু বলা যাবে না৷ যদি তিনি তা না বলতেন, তা হলে চাকরিও চলে যেতে পারতো৷ কিছুদিন আগে বেশ কিছু সহকর্মী চাকরি হারিয়েছিলেন সিএএ বিরোধী আন্দোলনের পক্ষে খবর করার জন্য৷ 

গোটা ভারতে সংবাদমাধ্যমে কর্পোরেট পুঁজি যেভাবে ঢুকেছে, পশ্চিমবঙ্গে তা এখনো ততটা প্রকট নয়৷ এখনো পুরনো সংস্থাগুলি পুরোপুরি গুরুত্ব হারায়নি৷ তবে কর্পোরেটের বাড়বাড়ন্ত যে বাড়ছে, তা অনস্বীকার্য৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়