সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এল ম্যার্কেলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এল ম্যার্কেলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

অভিবাসন নিয়ে জার্মান সরকারে বিতণ্ডা ১৩ বছরের চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের নেতৃত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এই বিতর্কে জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিক্রিয়ায় নজর দিলো ডয়চে ভেলে৷

জার্মানিতে আসতে থাকা শরণার্থীদের নিয়ে জার্মান সরকারের নীতি কী হবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে শাসক জোটে৷ অভিবাসনের প্রশ্নে ম্যার্কেলের পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর দল ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রেটিক সোশ্যাল ইউনিয়ন (সিডিইউ)৷ কিন্তু, ম্যার্কেলের সহযোগী বাভারিয়ার ক্রিস্টিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন (সিএসইউ) দল তাদের নেতা এবং জার্মানির বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফারের পাশে দাঁড়িয়েছে৷ এর ফলে ম্যার্কেলের নেতৃত্ব কড়া চ্যালেঞ্জের মুখেপড়েছে৷ দেখা যাক, বিষয়টি নিয়ে জার্মানির কোন সংবাদমাধ্যম কী বলছে৷

ফ্রাঙ্কফুর্টার অলগেমাইন সাইটুং (এফএজেড) : ম্যার্কেলের ইউরোপীয় সমাধান কখনো সম্ভব হবে না

সিএসইউ সমস্যার সমাধান খোঁজার জন্য ম্যার্কেলকে আর এক পক্ষকাল সময় দেবে না৷ এজন্য তাদের দোষ দেওয়া যায় না৷ এফএজেড পত্রিকার কলামনিস্ট বার্থল্ড কোলার লিখেছেন, অভিবাসন নিয়ে ইউরোপে যে বিতর্ক চলছে, তাতে আর সময় দেওয়া অর্থহীন৷

বাভেরিয়ার দলটির আশঙ্কা, ম্যার্কেল সরকারের অভিবাসন নীতির ফলে আগামী অক্টোবরে রাজ্যের নির্বাচনে পার্লামেন্টে তাদের সংখ্যা গরিষ্ঠতা হারাতে হতে পারে৷ কোলারের বক্তব্য. সিএসইউ তাদের ভোটারদের বলে আসছে, তারা শরণার্থীদের নিয়ে অন্যরকম পদক্ষেপ নিতে পারে, যাতে অনুপ্রবেশ রোখা যায়৷

জুড ডয়চে সাইটুং: সিএসইউ-র কঠোর অবস্থান মূল্যহীন

মিউনিখের এই সংবাদপত্রটি লিখেছে, জার্মানিতে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব দেখে সিএসইউ ‘কৃত্রিমভাবে' এই বিষয়টা তুলেছে৷ এই ঝুঁকি নেওয়া অর্থহীন৷ হ্যারবার্ট প্রান্টল লিখেছেন, এতে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের পতনই হবে না, সমস্যায় পড়বে সিএসইউ-ও৷

জার্মানি যদি সীমান্ত বন্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে অনেক দেশের সঙ্গে তার বাণিজ্যিক সমঝোতা নষ্ট হবে৷ এর মধ্যে অস্ট্রিয়া, ইতালি ছাড়াও রয়েছে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো৷ এতে জার্মানির অর্থনৈতিক অবস্থায় খারাপ প্রভাব পড়বে৷ প্রান্টলের মতে, সীমান্ত থেকে ঘাড়ধাক্কা দেওয়ার বদলে, প্রয়োজন হলে শরণার্থীদের দেশের মধ্যে চিহ্নিত করে  ফেরত পাঠানো উচিত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ডি ভেল্ট: যে সিডিইউ সদস্যরা সেহোফারকে সমর্থন করছে, তাদের বিপুল ক্ষতি হবে

হঠাৎ সিএসইউ কেন সীমান্ত বন্ধের দাবি তুললো, সেই কারণটা বোঝা সহজ৷ অতি দক্ষিণপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) সিএসইউয়ের জনপ্রিয়তায় ভাগ বসাচ্ছে৷ টরস্টেন ক্রাউয়েল লিখেছেন, সিএসইউ দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ চায়৷ কিন্তু, ম্যার্কেল বলছেন, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলে তা ইউরোপে অস্থিরতা দেখা দেবে৷

তাঁর মতে, যারা ম্যার্কেলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বাইরে রয়েছেন, সিডিইউয়ের সেই সদস্যরা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের স্বার্থে অভিবাসন নীতি কঠোর করতে পার্টির পাশে দাঁড়াচ্ছেন৷  

বিল্ড: সিদ্ধান্ত সাংসদদের হাতে, তারা ম্যার্কেলের সঙ্গে যেতে চান নাকি ফের নির্বাচন চান

বুধবার ম্যার্কেল বলেছেন, অভিবাসন নীতি ইউরোপের কাছে অগ্নিপরীক্ষা৷ জার্মানির সর্বাধিক প্রচারিত ট্যাবলয়েড বিল্ড লিখেছে, ‘‘ বিষয়টা ক্রমশ ম্যার্কেলের ক্ষমতায় থাকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে৷''

যদি ম্যার্কেল ও সেহোফার কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারেন, তাহলে ম্যার্কেলকে সংসদে আস্থাভোট নিতে হবে৷ নিকোলাউস ব্লমে লিখেছেন, সাংসদদের ঠিক করতে হবে, তাঁরা ম্যার্কেলের সঙ্গে থাকবেন, নাকি নির্বাচনের অ্যাডভেঞ্চারে নামবেন৷

ফ্রাঙ্কফুটার (এফআর): কেউ কি এসপিডির কথা ভাববে না?

যদি সিডিউ ও সিএসইউ শরণার্থী বিবাদের সমাধান খুঁজেও পায়, তাহলে সেটা ম্যার্কেলের আরেক সহযোগী দল এসপিডি-র পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হবে৷ স্টিভেন গেয়ারের মতে, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা ম্যার্কেলের উদার অভিবাসন নীতিতে লাভবান হয়েছে৷ যদিও সেই দিন আর স্থায়ী হবে না৷

গেয়ার লিখেছেন, এই সংগঠন থেকে ম্যার্কেল বেরিয়ে এলেও দলে তাঁর অবস্থান দুর্বল হবে৷ ফলে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা দেখা দেবে৷ সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে অন্যরকম এক চ্যান্সেলরকে দেখা যাবে৷

ডেভিড মার্টিন/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন