সংখ্যালঘু নির্যাতনের ‘ডিজিটাল′ ছক | বিশ্ব | DW | 23.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সংখ্যালঘু নির্যাতনের ‘ডিজিটাল' ছক

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের একটি সাধারণ ছক আছে৷ আর এখন এরসঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে৷ কিন্তু প্রশাসন ও পুলিশ সব কিছু জেনেও আগে কোনো ব্যবস্থা নেয় না৷ হামলা বা আক্রমণের পর তারা সক্রিয় হয়৷

Bangladesch Nasirnagar Angriffen auf Hindus (Khukon Singha)

ফাইল ফটো

ভোলায় কথিত ফেসবুক মেসেজ নিয়ে যে সংঘর্ষ এবং হিন্দুদের ওপর হামলা হলো তা হঠাৎ করে ঘটেনি৷ অভিযুক্ত যুবক বিপ্লব চন্দ্র শুভর ফেসবুক আইডি হ্যাকের ঘটনা আগেই জানতে পেরেছিল পুলিশ৷ যারা হ্যাক করেছে তাদেরও আটক করা হয়৷

পরবর্তীতে পুলিশ স্থানীয় ‘তৌহিদী' নেতাদের সাথে বৈঠক করে৷ তারা সমাবেশ করবে না বলার পর পুলিশ আশ্বস্ত হয়৷ কিন্তু পরবর্তীতে শুধু সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনাই নয় প্রায় একই সময় হিন্দুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে৷

হিন্দুদের যেসব বাড়ি ঘরে হামলা হয়েছে তা থানা থেকে মাত্র থেকে দুইশ গজের মধ্যে৷ কিন্তু পুলিশ ওইসব এলাকায় আগাম কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে৷ হামলার শিকার সঞ্জয় দাস জানান, ‘‘একটি মন্দির, একটি দোকান ও নয়টি ঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়৷ আমার বৃদ্ধ মাকে মারধোর করা হয়৷ কিন্তু পুলিশ আগাম কোনো নিরপত্তার ব্যবস্থা নেয়নি৷ এখনো আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি৷''

অডিও শুনুন 03:33

‘যারা গুজব ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখিনি’

২০১৬ সালের অক্টোবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলাও হয়েছিল ঠিক একই পদ্ধতিতে৷ রসরাজ নামের একজন ফেসবুকে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে পোস্ট দিয়েছিল বলে গুজব ছাড়ানো হয়েছিল৷ পরে জানা যায় রসরাজ সেই পোস্টই দেয়নি৷ ফেসবুক সম্পর্কে তার কোনো ধারণাও ছিল না৷ কিন্ত তথ্য প্রযুক্তি আইনে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে৷ পেশায় জেলে রসরাজ তিনমাস কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পায়৷ কিন্তু এক্ষেত্রেও পুলিশ আগাম কোনো ব্যবস্থা নেয়নি৷ অথচ কয়েক দিন ধরেই ওই কথিত ফেসবুক পোস্ট নিয়ে উত্তেজনা চলছিল৷

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ২০১৭ সালের নভেম্বরে হিন্দুদের বাড়িঘরেও একই পদ্ধতিতে হামলা করা হয়৷ টিটু রায় নামে একজনের  বিরুদ্ধে ফেসবুক ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়৷ পরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ কিন্তু তদন্তে জানা যায়, ফেসবুকে পোস্ট দেয়া তো দূরের কথা সে লেখা পড়াই জানে না৷ টিটুর ছবি দিয়ে আরেকজন তার নামে ফেসবুকে আইডি খুলেছিল৷

অডিও শুনুন 01:45

‘পুলিশ ও প্রশাসন যথাসময়ে ব্যবস্থা নিলে প্রতিটি ঘটনাই ঠেকানো যেতো’

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে রামুর বৌদ্ধ পল্লিতে হামলার পেছনেও একই কৌশল অবলম্বন করা হয়৷ উত্তম বড়ুয়া নামে একজনের বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননা করে ফেসবুক পোস্ট-এর গুজব ছড়িয়ে চালানো হয় সেই হামলা৷  হামলার পর থেকে উত্তম নিখোঁজ আছেন৷ তাঁর স্ত্রী রীতা বড়ুয়া এক সন্তান নিয়ে এলাকা ছেড়ে এখন অন্য জায়গায় চলে গেছেন৷ তিনি জানান, ‘‘পুলিশও তাঁর কোনো খোঁজ দিতে পারছেনা৷ আমি একটি সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে আছি৷''

এই প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে হামলার আগে পুলিশ ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেছিল৷ উত্তেজনা ছড়ানো, মাইকিং করার পরও তারা আগাম কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি৷

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ফেসবুকে  ধর্ম অবমাননার গুজব ছাড়িয়ে রামু, উখিয়া, টেকনাফ, পাবনা, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুরসহ আরো অনেক জায়গায় আমরা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা দেখেছি৷ যার সর্বশেষ ঘটনা দেখলাম ভোলার বোরহানউদ্দিনে৷ প্রতিটি ঘটনায় হামলার আগে পরিবেশ নানাভাবে উত্তপ্ত করা হয়৷ পুলিশ নির্বিকার থাকে৷ এমনকি যারা এই গুজব ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধেও পরে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখিনি৷ আর হামলাকারীরাতো বিচারের আওতায় আসেই না৷ তবে এবার ভোলায় একমাত্র ব্যতিক্রম আমরা দেখেছি৷ যারা ফেসবুক হ্যাক করে অপকর্ম করেছে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ কিন্তু তারপরও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় সংঘর্ষ এবং হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘২০১২ সাল থেকে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনে ফেসবুকের মত ডিজিটাল ব্যবস্থাকে গুজব ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে৷ আগে অন্যভাবে গুজব ছড়ানো হতো৷ বাকি কৌশলগুলো একই আছে৷''

মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান  মনে করেন, ‘‘পুলিশ ও প্রশাসন যথাসময়ে ব্যবস্থা নিলেও এই প্রতিটি ঘটনাই ঠেকানো যেত৷ কারণ প্রতিটি ঘটনাই পরিকল্পিতভাবে হয়েছে৷ হামলার কয়েকদিন আগে থেকেই গ্রুপগুলো প্রকাশ্যে তৎপরতা চালিয়েছে৷ মাইকিং করেছে, বিদ্বেষ ছড়িয়েছে এবং লোকজনকে সংগঠিত করেছে৷ আর প্রতিটি ঘটনায়ই দেখা গেছে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননার গুজব বা অন্যরা তা পোস্ট করে সংখ্যালঘুদের ফাঁসিয়েছে৷ যা আগেই পুলিশ জানত৷''

তাহলে পুলিশ প্রশাসন আগাম ব্যবস্থা নেয় না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের ওপর একটা রাজনৈতিক চাপ থাকে৷ একটা ভয়ের পরিবেশে তারা কাজ করেন৷ তারা সেই বিষয়গুলো বিবেচনা করে৷ তারা চায় কিছু একটার মাধ্যমে পরিস্থিতি অনুকূলে নিতে৷ চাপ কমাতে৷''

তবে তিনি মনে করেন, ‘‘এই নিস্ক্রিয়তার মধ্যে একটি ব্যবসাও আছে৷ ঘটনা ঘটলে মামলা হয়৷ এর বেনিফিট বেশি৷ মামলা হবে, অজ্ঞাতনামা আসামি হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন