শ্রী রামায়ণ এক্সপ্রেস: রাম-‌রাজনীতিই শেষ ভরসা?‌ | বিশ্ব | DW | 19.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

শ্রী রামায়ণ এক্সপ্রেস: রাম-‌রাজনীতিই শেষ ভরসা?‌

১৪ নভেম্বর দিল্লির সফদরজং স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করবে ‘শ্রী রামায়ণ এক্সপ্রেস'৷ সেই ট্রেন চালুর আগেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে৷ ‌বিরোধীরা বলছেন, রামায়ণ এক্সপ্রেসে চড়ে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে গেরুয়া শিবির৷

বছর ফুরোলেই ভারতে সাধারণ নির্বাচন৷ এবার আগেভাগেই বিতর্ক শুরু হয়েছে ‘‌রাম'‌ নিয়ে৷ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার একটি বিশেষ ট্রেন৷ সেটির নাম ‘‌শ্রী রামায়ণ এক্সপ্রেস'‌৷ ইতিহাস নয়, পুরাণে বর্ণিত রাম জন্মভূমি থেকে রাম-‌সীতার বনবাস, ভরতের তপস্যাস্থল, সীতার জন্মস্থান, সদলবলে রামের লঙ্কা যাত্রা— এইসব ‘‌পুণ্যস্থল'‌ ঘরে দেখা যাবে, সেখানকার মাটিতে পা-‌রেখে ছুঁয়ে দেখার বন্দোবস্ত করেছে ভারতীয় রেলের অধীনস্থ সংস্থা আইআরসিটিসি৷ উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের রামেশ্বরমের দিকে যাবে এই ধার্মিক এক্সপ্রেস৷ মনে করা হচ্ছে, ট্রেন যত ছুটবে, ততই বাড়বে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির ভোট৷ যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বা শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির বক্তব্য, সবকিছুতে রাজনৈতিক রঙ মেশানো বিরোধীদের পুরোনো অভ্যাস৷ রাম না হয়ে রহিম যদি হতো, বা অন্য কোনও ধর্মের নামে এই ট্রেন চালু করা হলে কেউ কিচ্ছুটি বলতেন না৷ আসলে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেও ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা এ দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের কৌশল৷

দেশজুড়ে লোকাল ট্রেনের বেহাল দশা৷ দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রী সুরক্ষা, নিরাপত্তা বলতে গেলে নেই৷ তারওপর ফি-‌বছর বেড়ে চলেছে দুর্ঘটনা৷ এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় ট্রেনের ভাবনা সবার স্বার্থে নয়৷ রেল মন্ত্রকের নিজস্ব অনুসন্ধান রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহুর্তে দেশের প্রায় ৭০ ভাগ রেললাইন বিপজ্জনক৷ কারণ, যুগ যুগ ধরে সেগুলির উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার নেই৷ তারওপর আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থার অভাবে ভারতীয় রেলের সময়সারণী খোদ রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতেই আসছে নতুন ট্রেন ‘‌শ্রী রামায়ণ এস্কপ্রেস'‌৷

রেলভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ধর্মীয় সফর শুরু হবে দিল্লির সফদরজঙ্গ থেকে৷ প্রথম স্টপেজ, উত্তর প্রদেশে রামের জন্মস্থান অযোধ্যায়৷ এরপর একে একে হনুমানগড়ি, রামকোট, কনক ভবন মন্দির ছুঁয়ে ট্রেন চলে যাবে ভরতের তপস্যাস্থল নন্দীগ্রামে৷ বর্তমান ফৈজাবাদের কাছে অবস্থিত নন্দীগ্রামেই বনবাস থেকে রামের ফেরা পর্যন্ত তপস্যা করেছিলেন ভরত৷ নভেম্বরে চলতে শুরু করবে ট্রেন৷ তার আগেই দেশের রাজনীতি ট্রেনে চেপে বসেছে৷ রাজনৈতিক তরজা চলছে সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলগুলোতে৷ কাটা ছেঁড়া যা-ই হোক, একটা বিষয়ে সব পক্ষ একমত৷

অডিও শুনুন 02:45
এখন লাইভ
02:45 মিনিট

‘নির্বাচনের মুখে রামের তাস খেলা শুরু করা হচ্ছে’

বিরোধীরা মনে করেন, এই ট্রেন চালুর পেছনে রয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগকে স্পর্শ করার অভীপ্সা৷ কিন্তু, ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের হঠাৎ রামায়ণ মনে পড়ল কেন?‌ এটা কি তবে ঘুরপথে ধর্মীয় প্রচার?‌ অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, শুধু হিন্দু ধর্ম কেন, অন্য ধর্মের সঙ্গে জড়িত স্থান গুলি ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবস্থাও হোক। কেউ বলছেন, রাম দেখালে রহিম দেখাবেন না কেন?‌ কোনো একটি বিশেষ ধর্মের জন্য বিপুল টাকা ব্যয়ে ট্রেন চালানোর সরকারি এ উদ্যোগের সমালোচনা হচ্ছে৷অনেকের ধারণা, ‘‌‘এতে ‌ভক্তির থেকে ভোটের তাগিদই বেশি৷'‌'

‌পুরাণ মতে রামচন্দ্রের নামের সঙ্গে জড়িত তীর্থভূমি অযোধ্যা, সীতামারি, বারাণসী, নাসিক, রামেশ্বরে একযোগে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হবে৷ যেসব তীর্থস্থানে ট্রেন থামবে, সব জায়গাতেই আইআরসিটিসি'র তরফে তীর্থযাত্রীদের জন্য রাতে থাকার ব্যবস্থা করা হবে৷ যাত্রীদের সহায়তার জন্য থাকবেন আইআরসিটিসি'‌র ট্যুর ম্যানেজার৷ প্রতিটি স্টেশনে ট্রেন থামার পর সেখান থেকে তীর্থযাত্রীদের পৌরাণিক স্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করবেন রেলকর্মীরা৷  পৌরাণিক গল্প অনুযায়ী, রাম লঙ্কায় গিয়ে রাবণ বধ করেছিলেন৷ সীতাকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে এনেছিলেন৷ তাই দক্ষিণ ভারতের রামেশ্বরমে ‘‌শ্রী রামায়ণ এক্সপ্রেস'‌ পৌঁছানোর পর যাত্রীদের ইচ্ছা হলে ঘুরে আসতে পারেন শ্রীলঙ্কা৷ সেদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেন্নাই বিমানবন্দরে বিমানের ব্যবস্থাও করবে আইআরসিটিসি৷

ট্রেনে চড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন রাজ্যসভার নির্দল সাংসদ ঋতব্রত ব্যানার্জী৷ রেল পরিষেবায় ঘাটতির অভিযোগে একাধিকবার সংসদে সরব হতে দেখা গেছে তাঁকে৷ মোদী সরকারের ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন করানোর এই উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি ক্ষোভ উগরে দিলেন৷

ডয়চে ভেলেকে ঋতব্রত বললেন, ‘‌‘‌এই ট্রেনে আম জনতার কোনো লাভ নেই৷ যেখানে ট্রেনের যাত্রী সুরক্ষা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে, সেখানে বুলেট ট্রেনের পর এমন ধর্মীয় ভাবাবেগ উস্কে দেওয়ার ট্রেন চালু করা হাস্যকর ঘটনা৷ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইতিহাসকে নির্ভর করে পর্যটনের ব্যবস্থা থাকে৷ একমাত্র ভারতেই পৌরাণিক চরিত্রকে আঁকড়ে ধরে রেল সার্কিট তৈরি করা হচ্ছে৷ এর পেছনে কারণ একটাই, যেহেতু রাম মন্দির তৈরি করে ধর্মীয় মেরুকরণ করা যাচ্ছে না, তাই নির্বাচনের মুখে রামের তাস খেলা শুরু করা হচ্ছে৷'‌'‌

অডিও শুনুন 02:40
এখন লাইভ
02:40 মিনিট

‘দেশের জাতীয় পতাকার সবার ওপরের রঙটিই তো গেরুয়া’

এর পেছনে সত্যিই কি রাজনীতি লুকিয়ে আছে? সরকারের দায়বদ্ধতা নেই? তাঁর কথায়, ‘‌‘‌সামনেই লোকসভা নির্বাচন৷ এই সরকারের ওপর সাধারণ নাগরিকের ক্ষোভ কারও অজানা নেই৷ তাই অনেক ভেবেচিন্তে বিজেপি'‌র কর্তারা আরএসএসের যুক্তিতে রেলমন্ত্রককে ব্যবহার করে তাদের আদি ও একমাত্র তুরুপের তাস বের করেছে৷ সেটা হলো এই ‘‌শ্রী রামায়ণ এক্সপ্রেস'৷ ‌জনগণের ট্যাক্সের টাকায় একটা নির্বাচিত সরকার তাদের রাজনৈতিক অভিসন্ধি পূরণ করছে৷ এর থেকে দুর্ভাগ্যজনক আর কীই-‌বা হতে পারে৷ অন্য কোনো দেশে এমনটা ভাবা যায় না৷''‌

বিরোধীদের এসব বক্তব্যের জবাব বিজেপিও দিয়ে চলেছে৷ বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা ডয়চে ভেলেকে বললেন,‘‘‌ভারতে উন্নয়নে বাধা দেওয়াই বিরোধীদের কাজ৷ দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নিন্দায় সরব হওয়া গবেষণার বিষয় হতে পারে৷ দক্ষিণ-‌পূর্ব এশিয়ায় রামচন্দ্র মর্যাদা পুরুষোত্তম৷ ইন্দোনেশিয়ার মতো মুসলিম প্রধান দেশে রামের নামে বহু স্থাপত্য আছে৷ এমনকি বিমানবন্দরের নামটিও গড়ুর৷ তারা রামকে ধর্মের মাপকাঠিতে বেঁধে রাখেননি৷ অথচ, এ দেশে কিছু মানুষ নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করলেও রামের নাম শুনলেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠছে৷ তাহলে বড় প্রশ্ন, এঁরা কি প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ?‌ নাকি ধর্মের নামে ভোটবাক্সের দিকে নজর রাখছে?'‌'‌

রাহুল আরও বলেছেন, ‘‌‘‌এ নিয়ে কোনো রাজনীতি নেই৷ এটা সংস্কৃতির বিষয়৷ গেরুয়া রঙ নিয়ে বিরোধীদের বড্ড আপত্তি৷ দেশের জাতীয় পতাকার সবার ওপরের রঙটিই তো গেরুয়া৷ এই রঙ ত্যাগের প্রতীক৷ তাহলে কথায় কথায় গেরুয়াকরণ কেন বলা হচ্ছে?‌'‌'‌

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়