শ্রীলঙ্কা যখন শিশু রপ্তানির আখড়া | বিশ্ব | DW | 13.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কা যখন শিশু রপ্তানির আখড়া

বছর তিরিশের ওলিভিয়া রাম্য ট্যানার শ্রীলঙ্কায় যান জন্মদাত্রী মায়ের খোঁজে৷ কিন্তু সেখানে পৌঁছে জানতে পারেন, এতদিন নিজের পরিচয় সম্পর্কে তিনি যা যা জানতেন, আসলে তার সবটাই মিথ্যা৷

শুধু ট্যানারই নন, এমন মিথ্যার শিকার হয়েছে কয়েকশ' মানুষ৷ ১৯৭০ থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা থেকে, আনুমানিক ১১,০০০ শিশু দত্তক নেন অ্যামেরিকা, ক্যানাডা ও ইউরোপের মানুষ৷ কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই বাবা-মায়েরা জানতেন না যে এই দত্তক নেওয়া সম্পূর্ণভাবে অবৈধ৷ ট্যানারের সুইস বাবা-মাও তাঁদের অন্যতম৷

সম্প্রতি এক ডাচ টেলিভিশন অনুষ্ঠানে জানা যায়, ঐ সময়, অর্থাৎ ১৯৭০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে যে ৭৫০টি শিশুকে শ্রীলঙ্কা থেকে সুইস বাবা-মায়েরা দত্তক নিয়েছিলেন, তার মোট ৭০ শতাংশ শিশুর দত্তকই ছিল বেআইনি৷

শিশু রপ্তানির ব্যবসা রমরমিয়ে চলছিল

সত্তরের দশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে  শ্রীলঙ্কা থেকে শিশু দত্তক  নেওয়া এক ধরনের ‘ট্রেন্ড' হয়ে ওঠে৷ ফলে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠে ‘শিশু রপ্তানি' ব্যবসা৷ নানা অনাথ আশ্রম, এনজিও ও হাসপাতালে চলতে থাকে এই কাজ৷ শুধু তাই নয়, যে সমস্ত মায়েরা নবজাতকের পরিচর্যা করতে অক্ষম, তাঁদের কেন্দ্র করেও বাড়তে থাকে এই ব্যবসা৷

Auf Spurensuche in Sri Lanka, Olivia Ramya Tanner, Adoption (privat)

ছয় মাসের শিশু দত্তক সুইস মা জানায় , শিশুকে দত্তক নেয়ার প্রক্রিয়াটি মিথ্যে ছিলো

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সাথে জড়িত সামাজিক লজ্জা বা অর্থনৈতিক দুর্বলতার মতো কারণ থাকায় বেআইনিভাবে দত্তক নেওয়া বা তার জন্য শিশু পাওয়া খুব একটা কঠিন বিষয় ছিল না তখন৷ তাই সহজেই এই চক্রের ফাঁদে পড়েন ট্যানারের বাবা-মায়ের মতো আরো অনেকে৷

কর্তৃপক্ষ যখন সম্পৃক্ত

ডাচ টেলিভিশন প্রতিবেদন প্রকাশ হবার পর অবশ্য সুইস সরকারের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে অনুসন্ধান পর্ব৷ আশা করা যাচ্ছে, আগামী বছরের মধ্যেই জানা যাবে এই বিষয়ে আরো তথ্য৷

ট্যানার জানান, এই বেআইনি দত্তক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন শ্রীলঙ্কার বেশ কিছু ক্ষমতাশালী ব্যক্তিও৷

তৎকালীন সুইজারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বৃহত্তম দত্তক পরিষেবার সাথে যুক্ত অ্যালিস হোনেগারের এই বেআইনি কার্যকলাপে সম্পৃক্ততা এক সময় সুইস সরকার জানতে পারলে তাঁর লাইসেন্স বাতিল করা হয়৷

সেন্ট গালেনের পরিবার পরিষেবা দপ্তরের পক্ষে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, অনেকক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে অবগত ছিলেন৷ কিন্তু এতে কোনো ফল হয়নি৷

Auf Spurensuche in Sri Lanka (privat)

ট্যানার জানায়, যে মা-বাবার অনেক আদর যত্নেও সে নিজেকে শ্রীলংকান বলেই মনে করে

সেই সময় এই দত্তকপ্রক্রিয়াকে দেখ হত এক ধরনের সমাজসেবা হিসাবে৷ সাধারণত যে সব শিশুরা হয়ত স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত হতো, তাদের উন্নত ভবিষ্যতের সুযোগ করে দিয়েছে এই প্রক্রিয়া৷ এমনটাই মনে করেন ট্যানারের অবৈধ দত্তকের সাথে জড়িত ডন ডা সিলভা, বলে জানান ট্যানার নিজেই৷

সেন্ট গালেনের পরিবার পরিষেবা দপ্তরের কর্মী এলিজাবেথ ফ্রোলিচ বলেন, ‘‘সেই সময় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃঢ় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি৷ তাই সবাই দায়িত্ব এড়িয়ে গেছে৷''

বর্তমান ইউরোপে ট্যানারের মতো এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা এখনও খুঁজছেন তাদের পরিচয়৷ শুধু তাই নয়, ট্যানারের মতে, এমন অনেক মায়েরাও রয়েছেন শ্রীলঙ্কায়, যাঁরা ক্রমাগত খুঁজে চলেছেন তাঁদের হারিয়ে যাওয়া শিশুদের৷

অ্যালিসন ল্যাংলি/এসএস

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন