শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা, তদন্তে আন্তর্জাতিক সহায়তা | বিশ্ব | DW | 23.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা, তদন্তে আন্তর্জাতিক সহায়তা

তদন্ত ও নিরাপত্তার স্বার্থে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট৷ ইন্টারপোল কলম্বোয় এক দল পাঠিয়েছে৷ সরকারের একাংশে গাফিলতির অভিযোগ নিয়ে সরব হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা৷

শ্রীলঙ্কায় রবিবারের সিরিজ হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩১০ পেরিয়ে গেছে৷ হাসপাতালে প্রায় ৫০০ আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে৷ সোমবার আরও একটি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে৷ ৮৭টি ডিটোনেটরও উদ্ধার করা হয়েছে৷ অর্থাৎ আরও হামলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একযোগে এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে৷ হামলায় নিহতদের স্মরণে মঙ্গলবার সকালে শ্রীলঙ্কায় ৩ মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়৷ সরকার মঙ্গলবার শোক দিবস পালন করছে৷

নিরাপত্তার স্বার্থে সোমবার রাত থেকে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে৷ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা এই ঘোষণা করেন৷ ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরপাকড় ও তাদের বাড়িঘরে তল্লাশির বাড়তি ক্ষমতা এসে গেল৷ সেনাবাহিনীর কমান্ডার লেফট্যানেন্ট জেনারেল মহেশ সেনানায়েকে সাংবাদিকদের বলেন, কমপক্ষে কয়েক দিনের জন্য এই ক্ষমতা থাকলে নিরাপত্তা অভিযান চালানো সহজ হবে৷ সোমবার রাতেও কারফিউ জারি করা হয়েছিল৷ পুলিশ এক সিরীয় নাগরিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে৷ সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে৷

সন্ত্রাসী হামলার পরের দিনও হামলাকারীদের পরিচয় জানা যায়নি৷ কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে নি৷ প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তকারী দল গঠন করেছেন৷ সরকারের অনুরোধে ইন্টারপোলও বিশেষজ্ঞদের এক দল পাঠিয়েছে৷ ওয়াশিংটন পোস্ট সংবাদপত্রের সূত্র অনুযায়ী এফবিআই এজেন্টের এক দলও তদন্তের কাজে সহায়তা করতে শ্রীলঙ্কায় যাচ্ছে৷

সন্ত্রাসী হামলা সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সরকারের একাংশ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি, এমন অভিযোগের সুর চড়া হচ্ছে৷ শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাকেন্দ্রে রাজনৈতিক বিবাদের জের ধরে প্রেসিডেন্টের হাতে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা থাকায় তিনিই সমালোচনার পাত্র হচ্ছেন৷ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও পুলিশের দায়িত্বও তাঁর হাতে রয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহে পরোক্ষভাবে এই ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিয়েছেন৷ উল্লেখ্য, গত বছর তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টার পর নিরাপত্তার বিষয়গুলি থেকে তাঁকে দূরে রাখা হয়েছে৷ প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দলের জোট সরকার কাজ চালিয়ে গেলেও দুই শিবিরের মধ্যে ব্যবধান বেড়ে গেছে৷

সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী রজিতা সেনারত্নে দাবি করেন, ন্যাশানাল তৌহিত জামাত নামের এক গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে৷ তাঁর মতে, রবিবার মোট সাতটি আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে৷ হামলার পেছনে আন্তর্জাতিক মদত ছিল বলেও তিনি মনে করেন৷ সেনারত্নে বলেন, আগাম সতর্কবার্তা থাকলে সরকার প্রতিরোধী ব্যবস্থা নিতো৷ তিনি দেশের ইনস্পেকটর জেনারেলের পদত্যাগের দাবি করেন৷

এসবি/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন