শ্রীলঙ্কায় আরো হামলার আশঙ্কা? | বিশ্ব | DW | 22.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

শ্রীলঙ্কায় আরো হামলার আশঙ্কা?

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শ্রীলঙ্কায় আরো সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না৷ শ্রীলঙ্কা সরকার সে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে৷ এদিকে রবিবারের হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷

রবিবার শ্রীলঙ্কায় মোট ৮টি সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷ রাজধানী কলম্বো, নেগোম্বো ও বাট্টিকালোয়া শহরে গির্জা ও হোটেলসহ একাধিক স্থাপনায় সিরিজ হামলায় নিহতের সংখ্যা আপাতত ২৯০ ও আহত ৫০০ জনেরও বেশি৷ আহতদের মধ্যে বেশ কিছু মানুষ হাসপাতালে প্রাণ হারানোর ফলে এবং আরো মরদেহ শনাক্ত করার কারণে এই সংখ্যা বেড়ে

গেছে৷ নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ৩৫ জন বিদেশি৷  নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আট বছর বয়সি নাতি জায়ান চৌধুরীও রয়েছে৷

এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই সিরিজ হামলার দায় স্বীকার করেনি৷ তবে পুলিশ এখনো পর্যন্ত ২৪ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে৷ পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনশেখর জানিয়েছেন, তারা সবাই স্থানীয় মানুষ৷ অপরাধ তদন্ত দপ্তর তাদের জেরা করছে৷ এখনো পর্যন্ত জানা গেছে যে, রবিবার কমপক্ষে তিনটি ক্ষেত্রে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল৷ তদন্তকারীরা একটি ভ্যান শনাক্ত করেছে, যাতে করে সম্ভবত কলম্বোর উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে হামলাকারীদের ডেরায় বিস্ফোরক পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল৷ রবিবার রাতে কলম্বো বিমানবন্দরে একটি বিস্ফোরক পাওয়া গেলেও সেটি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে৷

সোমবার সকালে গোটা দেশে বিকেল থেকে ভোররাত পর্যন্ত জারি করা কারফিউ তুলে নেওয়া হয়েছে৷ তবে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ কিছু প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে৷ কর্তৃপক্ষ আরো হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না৷ মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এমন সতর্কতা জারি করেছে৷ সেনাবাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা কলম্বোয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে পাহারা দিচ্ছেন বলে কিছু প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন৷

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপাল সিরিসেনা হামলার সময়ে দেশের বাইরে ছিলেন৷ তিনি দেশে ফিরেই সোমবার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন৷ এক সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহেও সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন৷ উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রতিককালে ক্ষমতাকেন্দ্রে চরম সংঘাত দেখা গেছে৷ প্রেসিডেন্ট গত অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার পর সাংবিধানিক সংকট দেখা দিয়েছিল৷ ফলে দুই নেতার মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত৷ রবিবারের হামলার পর বিক্রমসিংহে সিরিসেনার পরোক্ষ সমালোচনা করেন৷ হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সরকারের ব্যর্থতার উল্লেখ করেন তিনি৷ উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় নিরাপত্তা কাঠামোর দায়িত্ব আপাতত প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে৷

তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘর্ষ শেষ হবার পর  শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত ছিল৷ রবিবারের ভয়াবহ হামলা বহু ধর্ম ও সম্প্রদায়ের এই দেশের ভিত্তি আবার নাড়িয়ে দিয়েছে৷ প্রায় ১০ দিন আগে দেশের পুলিশ প্রধান সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ন্যাশনাল তৌহিত জামাত বা এনটিজে নামের কট্টরপন্থি ইসলামি সন্ত্রাসী এক গোষ্ঠী হামলা চালিয়ে থাকতে পারে৷ এই গোষ্ঠী গত বছর বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মূর্তি বিকৃত করার চেষ্টা চালিয়েছিল৷ শেষ পর্যন্ত এমন সন্দেহ সত্য প্রমাণিত হলেও অনেক প্রশ্ন থেকে যাবে৷ বৌদ্ধ-প্রধান এই রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বৈষম্যের প্রতিশোধ নিতে কেন আর এক সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা চালানো হয়েছে, এমন প্রশ্নের সদুত্তর খুঁজতে হবে৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, রয়টার্স, এএফপি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন