শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা: ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ | বিশ্ব | DW | 20.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা: ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত৷ বাংলাদেশের জেলকোড এবং ফৌজদারী কার্যবিধিতে ফায়ারিং স্কোয়াড নেই৷ বিশেষ ক্ষমতা আইনে আছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী৷

২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল৷ কোটালী পাড়ার শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের মাঠে একটি সমাবেশে তাঁর যোগ দেয়ার কথা ছিল৷ ওই মাঠের উত্তর পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছনে বোমাটি পোঁতা হয়েছিল৷ পরিকল্পনা ছিল ওই পথ দিয়ে সমাবেশে যাওয়ার সময় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যা করা৷ সমাবেশের আগের দিন বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপত্তাবাহিনী৷

এই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মমতাজ বেগম রবিবার রায় ঘোষণা করেন৷ রায়ের আসামিদের মধ্যে ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে তা ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন৷ আদেশে বলা হয়েছে, ‘‘বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ সালের ১৫(১) এবিসি/২৫ (ডি) এর ধারায় প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে৷ হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গুলি করে প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক৷''

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ওয়াসিম আখতার ওরফে তারেক হোসেন, মো. রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম, মো. ইউসুফ ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলান শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বক্কর, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই এবং মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর৷ এই মামলায় আরো চারজনকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে৷ আর খালাস পেয়েছেন ১০ জন৷ মোট আসামি ছিল ২৪ জন৷

ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ:

অডিও শুনুন 00:36
এখন লাইভ
00:36 মিনিট

‘এভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো অতীত নজির নেই’

এই আদেশ নিয়ে কারা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের ডিআইজি তৌহিদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘কারাবিধি বা জেল কোড অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান বাংলাদেশের কারাগারগুলোতে নেই৷ এভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো অতীত নজিরও নেই৷ বাংলাদেশের কারাগারগুলোতে ফাঁসির মঞ্চে দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়৷''  তবে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদালতের আদেশ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি৷

আদালত সূত্র এবং আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকার তৎকালীন দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল একটি মামলার রায়ে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন৷ তাদের মৃত্যুদণ্ডও ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ পরে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে ২০০৯ সালে মোট ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়৷ তবে ২০১০ সালে আটক পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ফাঁসির মাধ্যমে৷

অডিও শুনুন 01:01
এখন লাইভ
01:01 মিনিট

‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত দোষীদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিলেও সুপ্রিমকোর্ট পরে ফাঁসির আদেশ দেন’

ঢাকা বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের জেলকোড, ফৌজদারী কার্যবিধি এবং প্রশাসনিক অধ্যাদেশ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের দন্ড ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে কার্যকরের বিধান আছে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত দোষীদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিলেও সুপ্রিমকোর্ট পরে ফাঁসির আদেশ দেন৷ আর সেই অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়৷''

ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেয়ার আরেকটি নজির আছে৷ ২০১৫ সালের ১০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুন্যাল হাসান আলী নামে এক রাজাকার কমান্ডারকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দেন৷

অডিও শুনুন 00:37
এখন লাইভ
00:37 মিনিট

‘ওই আইনের ৩৪(ক) ধারায় গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলা হয়েছে’

এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের এখানে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো নজির নেই৷ বিধান হল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝোলানো৷ ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছিল গুলি করে অথবা আইন অনুযায়ী অন্য কোনো উপায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে৷ উনি পলাতক থাকায় দণ্ড কার্যকর করা যায়নি৷''

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ শামসুল হক বাদল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা হয়৷ আর সেই আইনেই বিচার হয়েছে৷

অডিও শুনুন 00:23
এখন লাইভ
00:23 মিনিট

‘বিধান হল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝোলানো’

ওই আইনের ৩৪(ক) ধারায় গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলা হয়েছে৷ আর বিচারকও ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন৷ তবে এই আদেশ কার্যকর হবে কিনা তা হাইকোর্টই বলতে পারবেন৷''

আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া কার্যকরযোগ্য নয়৷ এজন্য বিচারিক আদালতের রায়ের পরই ‘ডেথ রেফারেন্স' হাইকোর্টে পাঠাতে হয়৷ মৃত্যুদন্ড বহাল থাকবে কিনা৷ আর থাকলে কীভাবে তা কার্যকর হবে তা হাইকোর্ট আদেশে বলে দেন বলে আইনজীবীরা জানান৷ হাইকোর্ট এখন পর্যন্ত ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো আদেশ অনুমোদন দেয়নি৷ প্রচলিত পদ্ধতির কথাই তারা আদেশে বলেছেন৷

এ বিষয়ে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন