শেখ মুজিব শুধু হাসিনার বাবা না, বাঙালির প্রাণপুরুষ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 17.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

শেখ মুজিব শুধু হাসিনার বাবা না, বাঙালির প্রাণপুরুষ

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে কি সম্পৃক্ত করা হয়েছে? সবাইকে যদি সম্পৃক্ত না করা হয় তাহলে আয়োজন কি রং হারাচ্ছে? এসব নিয়ে ডয়চে ভেলেকে বলেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী৷

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, ‘‘শেখ মুজিব শুধু হাসিনার বাবা না, বাঙালির প্রাণপুরুষ৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার দুঃখ লাগে, এই মানুষটাকে আমরা সকলে মিলে স্বাগত জানাতে পারলাম না৷''

ডয়চে ভেলে : মুজিববর্ষ উদযাপন, এটা কি দল মত নির্বিশেষে হচ্ছে?

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী : এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য৷ এতবড় একটা মানুষের জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করব, অথচ সাবাইকে নিয়ে করা হচ্ছে না৷ এতবড় একজন মহাপুরুষ, তার বৈচিত্রময় জীবন, কর্মময় জীবন অনেক কিছু জানার আছে৷ এটা নিয়ে তারা লৌকিকতা করছে৷ যেমন ধরেন ঢাকা শহরে তার আগমন ১৯৪৮ সালের পর৷ পরিবার নিয়ে উনি থেকেছেন নাজিরাবাজারে অর্থাৎ ইংলিশ রোড এই অঞ্চলে৷ এরপর উনি দীর্ঘ সময় থেকেছেন সম্ভবত ১০৮ সিদ্ধেশ্বরীতে৷ একটি পুকুরপাড়ে, ইন্সপেক্টর আখতারুজ্জামানের বাড়িতে৷ সম্ভবত উনার ছেলে মেয়ে বেঁচে আছে৷ সবশেষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে৷ ১৯৭১ সালে প্ল্যানিং এর মেম্বার সেক্রেটারি এ কে এম আরকানের একতলা বাড়িতে থেকেছেন৷ ঢাকা শহরে উনার যে বিচরণক্ষেত্র ছিল সেইসব এবং সবাইকে নিয়ে করলে আরো অনেক বেশি গ্রহণীয় হতো৷ আমরা সবাই তার এই দিনটাকে পালন করতে চাই৷ তারা বঙ্গবন্ধুকে শেখ হাসিনার বাবা বানিয়ে ফেলেছে৷ আমাদের সবার প্রিয় মানুষ হতে তাঁরা বাধা দিচ্ছে৷ এ নিয়ে আমি একটা লেখাও লিখেছি৷

শুরুতেতো বলা হয়েছিল, এই উৎসব হবে পুরো বাংলাদেশের?

সেটাই তো বলছি, একজন মহাপুরুষকে নিয়ে যেটা হওয়ার দরকার ছিল সেটা হচ্ছে না৷ যেমন ধরেন আমাদের নির্বাচন নিয়ে যা হচ্ছে, আগে নির্বাচন ছিল একটা উৎসব৷ এখন এটা লৌকিকতায় পরিণত হয়েছে৷ চট্টগ্রামের নির্বাচন হল এখানে মাত্র ২২ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রত্যেক নির্বাচনে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ ভোট দেন৷ এমনকি বয়োবৃদ্ধ, শয্যাশায়ী লোকও কাঁধে চড়ে এসে ভোট দেয়৷ এটা আনন্দঘন ব্যাপার৷ আমরা সবকিছুকে শেষ করে দিয়েছি৷

শুধু আওয়ামী লীগের উৎসব হওয়ায়, উদযাপন কি রং হারাচ্ছে না?

এটাইতো খারাপ জিনিস৷ শেখ মুজিবতো শুধু আওয়ামী লীগের না৷ সকল বাঙালির, আমাদের সবার প্রিয় মানুষ৷ তারা যেভাবে জয় বাংলাকে দলীয় স্লোগান করে নিয়েছিল৷ শেখ মুজিব শুধু হাসিনার বাবা না, বাঙালির প্রাণপুরুষ৷ আমার দুঃখ লাগে, এই মানুষটাকে আমরা সকলে মিলে স্বাগত জানাতে পারলাম না৷ এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক৷

অডিও শুনুন 06:58

‘এটা জাতির দুর্ভাগ্য এবং আওয়ামী লীগের অপরিণামদর্শীতা’

কিভাবে আওয়ামী লীগ সবাইকে সম্পৃক্ত করতে পারতো?

তাতো পারতই৷ তারাতো ডাকেইনি৷ আমরাও অনেক কিছু জানি৷ তার সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করেছি, একসঙ্গে রাজনীতি করেছি৷ এখনোতো অনেক লোক জীবিত আছে৷ তারা মার্শাল এর মতো জন্মবার্ষিকী পালন করছে, এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য৷

এটা কি সংকীর্ণতা নাকি পরিকল্পনার অভাব?

দু'টোই৷ প্রথমত, তাদের চিন্তার প্রসারতার অভাব৷ তার যে মহানুভবতা ছিল, সবাইকে নিয়ে করার; যেমন ধরেন আজকে এই আয়োজনের আহবায়ক হওয়া উচিৎ ছিল ড. ইউনূসের৷ তাকেই বলতে পারত আপনি এই কমিটির চেয়ারম্যান হন৷ তারা গৎবাঁধা আনিসুজ্জামান ছাড়া আর কাউকে দেখে না৷ আমি নিশ্চিত উনি বেঁচে থাকলে ইউনূসকে জড়িয়ে ধরে বলতেন, সাব্বাস, তুই দেখাইছোস৷ তুই আমাদের নাম বড় করেছিস৷

কি কারণে এমনটা হচ্ছে?

উনারা চিন্তাই করতে পারে না, শেখ মুজিব ব্যক্তি কত বড় ছিল৷ তারা যে বড় জিনিসটা চিন্তা করছে, হৃদয় থেকে এটা গ্রহণ করতে পারেনি

বঙ্গবন্ধুকে কেন একটি গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে ফেলা হচ্ছে?

এটা জাতির দুর্ভাগ্য এবং আওয়ামী লীগের অপরিনামদর্শিতা৷

কিভাবে এই অনুষ্ঠানকে আরো সমৃদ্ধ করা যেত? আপনার পরামর্শ কি?

অবশ্যই করা যেত৷ একটা অনুষ্ঠান দেখার জন্য ডাকা, আর সম্পৃক্ত করা এটাতো এক জিনিস না৷

ক্ষণগণনার যে অনুষ্ঠান, সেখানেতো ড. কামাল হোসেন ছিলেন?

এমন দাওয়াত তো আমাদেরও ছিল৷ কামাল হোসেনতো তাদের জীবনের অংশ৷ তাকে কি পাশে ডেকে বলেছে, বলেনতো পাকিস্তানে এক বছর কেমন ছিলো৷ সেই বর্ণনাতো কামাল হোসেনের দেওয়ার কথা৷ আমার সব সময় অনুসন্ধিৎসা ছিল তার জীবনটা কেমন কেটেছিল৷ পাকিস্তানে কী করেছিল, তার মুক্তিটা কেমন করে হল? পাকিস্তানের ফাইন্যান্স মিনিস্টার মোবাশ্বর হাসান৷ মোবাশ্বর হাসান কিছুটা বর্ণনা দিয়ে বলেছিল৷ এই কথাটা অনেক বেশি সুন্দর হতো যদি ড. কামাল হোসেনের মুখ দিয়ে শোনা যেত৷ তাকে যদি ডেকে বলা হতো, আপনি আসেন এক বছর পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু কেমন ছিলেন সেটা আপনি বলেন৷ তা কি করেছে? করেনি৷ শুধু একটা লৌকিকতার কার্ড পাঠিয়ে দিয়েছে৷

অনেককেই তো দাওয়াত পেয়েছেন? তাহলে কেন বলা হচ্ছে, কাউকে সম্পৃক্ত করা হয়নি?

আরো যে ১০ হাজার লোককে দাওয়াত দিয়েছে, সেভাবে আমাকেও দাওয়াত দিয়েছে৷ আমাকেতো কথা বলার জন্য ডাকেনি, স্মৃতি রোমন্থনের জন্য ডাকেনি৷ অনুষ্ঠান দেখার জন্য ডেকেছে৷ অনুষ্ঠান দেখার জন্য ডাকা, আর সম্পৃক্ততার জন্য ডাকা কি এক কথা?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন