শুটিংয়েও গেলেন না শাহরুখ | বিশ্ব | DW | 07.10.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

শুটিংয়েও গেলেন না শাহরুখ

ছেলে আরিয়ানের মাদক-কাণ্ড সামনে আসার পরই আর বাইরে দেখা যায়নি শাহরুখকে। শুটিংও বাতিল করলেন।

শাহরুখ খানকে নিয়েও বিতর্ক হচ্ছে।

শাহরুখ খানকে নিয়েও বিতর্ক হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন ফিল্মের শুটিংয়ে শেষ মুহূর্তে গেলেন না শাহরুখ খান। অজয় দেবগনের সঙ্গে শুটিং করার কথা ছিল তার। সকলে তৈরি ছিলেন। অজয় দেবগনও প্রস্তুত ছিলেন। শাহরুখের ভ্যানিটি ভ্যান, নিরাপত্তা রক্ষী সকলেই ছিলেন। কিন্তু বেলা তিনটে নাগাদ শাহরুখ শুটিং বাতিল করেন বলে আনন্দবাজার জানাচ্ছে। শাহরুখকে ছাড়াই শুটিং হয়।

ছেলে আরিয়ানের মাদক-মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া শাহরুখকে যে কতটা চাপে রেখেছে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। এর আগে শাহরুখ তার বিদেশে শুটিং বাতিল করেছেন

পুরনো কথা

ছেলে আরিয়ানের মাদক-কাণ্ড সামনে আসার পর শাহরুখের বিরুদ্ধে পুরনো অভিযোগ নিয়ে হইচই হচ্ছে। বহু বছর আগে শাহরুখ খানের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েও শোরগোল হচ্ছে।

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু ও মাদক নিয়েও প্রচুর জলঘোলা হয়েছে। সে সময় মডেল ও অভিনেত্রী শার্লিন চোপড়া অভিযোগ করেছিলেন, কেকেআরের ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পার্টিতে ক্রিকেটার ও তারকাদের স্ত্রীদের মাদক নিতে দেখেছেন। ওয়াশরুমে গিয়ে তারা মাদক নিতেন। ওয়াশরুমে ঢুকে এই দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন শার্লিন। সেই ঘটনার কথা এখন নতুন করে উঠছে।

বহু বছর আগে শাহরুখ একটি সক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি জীবনে অনেক কিছু করতে পরেননি। তিনি চান তার ছেলে সেই কিছু সব করুক। তার মধ্যে মাদক নেয়ার বিষয়টিও ছিল। সেসময় তার ছেলে ছিল নেহাতই শিশু। এখন সেসব নিয়েই শোরগোল হচ্ছে। 

রাজনৈতিক অভিযোগ

অভিযোগ করেছে কংগ্রেস ও এনসিপি। দুই দলই মহারষ্ট্রে শিবসেনার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ক্ষমতায় আছে। এনসিপি-র অভিযোগ, শাহরুখ-পুত্রকে গ্রেপ্তার করার পিছনে আছে বিজেপি। প্রমোদতরীতে হানা দেয়ার সময় এক বিজেপি নেতাকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল নারকোটিকস ব্যুরো(এনসিবি)। এনসিপি নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী নবাব মালিক এনিয়ে ভিডিও টুইট করেছেন, ছবিও দেখিয়েছেন। আর কংগ্রেসের অভিযোগ, গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনা থেকে নজর ঘোরাতেই শাহরুখ-পুত্রের ঘটনাকে সামনে আনা হয়েছে।

নবাব মালিকের অভিযোগ, এটা সাজানো ঘটনা। মহারাষ্ট্র সরকারকে প্যাঁচে ফেলতে এবং বলিউডকে কালিমালিপ্ত করতে বিজেপি এটা করছে। তারা নারকোটিকস ব্যুরোকে চাপ দিয়ে এটা করাচ্ছে। নবাবের দাবি, এক মাস আগেই সাংবাদিকদের কাছে খবর ছিল, এবার শাহরুখ খানকে টার্গেট করা হবে।

এনসিপি-র প্রশ্ন

নবাব প্রশ্ন তুলেছেন, মনীশ ভানুশালী কে? নারকোটিকস ব্যুরো যখন প্রমোদতরী রেড করে, তখন মনীশ ভানুশালীকে তাদের সঙ্গে দেখা গেছে। নবাব মালিক কিছু ছবি দেখিয়ে বলেন, ভানুশালী বিজেপি নেতা। বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার ছবি আছে।

নবাব একটি ভিডিও টুইট করে বলেছেন, যে রাতে প্রমোদতরীতে রেড করে নারকোটিকস ব্যুরো, সেই রাতেই মনীশ ভানুশালী ও কিরণ পি গোসাভিকে দেখা যায় এনসিবি অফিস থেকে বেরোচ্ছেন।  নবাব বলেছেন, ভানুশালী বিজেপি নেতা ও কিরণ একজন বেসরকারি ডিটেকটিভ। তারা কী করে এনসিবি টিমের সঙ্গে রেড-এ গেল?

ভানুশালী বলেছেন, তিনি বিজেপি-র কোনো পদে নেই। তবে তিনি যে রেড-এর সময় ছিলেন, তা স্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনিই প্রমোদতরীতে মাদক পার্টির খবর এনসিবি-কে দিয়েছিলেন। তাকে নিরপেক্ষ সাক্ষী হিসাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

কংগ্রেসের অভিযোগ

মহারাষ্ট্র কংগ্রেস বলেছে, আসল ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর জন্য শাহরুখ পুত্রের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ নিয়ে এত হইচই হচ্ছে। রাজ্যে কংগ্রেসের মুখপাত্র শামা মোহামেদের দাবি, আসল ইস্যু হলো গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দর থেকে গত মসে ২১ হজার কোটি টাকা দামের মাদক উদ্ধার হয়। অভিযোগ, সেই মাদক আফগানিস্তান থেকে আসছিল। কংগ্রেসের প্রশ্ন, সেই মাদক উদ্ধারের পর তদন্ত কী হয়েছে? কাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? কী করে ওই মাদক এলো এবং কাদের কাছে যাচ্ছিল?

কংগ্রেস মুখপাত্রের বক্তব্য, এনসিবি এদিক ওদিক থেকে কয়েকজনকে ধরছে। কিন্তু মুন্দ্রা পোর্টের বিষয়টি কেন ধামাচাপা পড়ছে, কেন সেখানে তদন্ত হচ্ছে না? কেন প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের রাজ্যের এতবড় বিষয় নিয়ে চুপ? তার দাবি, বন্দর বেসরকারিকরণ করা হলে এরকম ঘটনা ঘটবেই। উল্লেখ্য, মুন্দ্রা হলো দেশের সব চেয়ে বড় বেসরকারি বন্দর এবং আদানি শিল্পগোষ্ঠী তা পরিচালনা করে।

জিএইচ/এসজি(পিটিআই, এএনআই)