শীতে কি বাড়বে করোনা? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 31.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

শীতে কি বাড়বে করোনা?

শীতের আগমনের সঙ্গে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা৷ তাপমাত্রা ওঠানামার সাথে  ভাইরাসের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও নানা কারণে বাড়তে পারে সংক্রমণ, বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷

Indien Smog und Nebel in kalkutta

ফাইল ছবি

কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা৷ গভীর রাত ও সকালের দিকে ঠান্ডা আমেজ টের পাওয়া যাচ্ছে৷ শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে, করোনা কি আরও বাড়বে?

দুর্গাপুজোর সময়ে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল৷ আপাতত তা চার হাজারের নীচে নামলেও স্বস্তি নেই৷ শারদীয় উৎসবের জেরে সংক্রমণ কতটা বাড়বে, তা নিয়ে শঙ্কিত চিকিৎসকরা৷ এরই মধ্যে তাপমাত্রা কমায় বাড়তি উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে৷

করোনার ভ্যাকসিন এখনো বাজারে আসেনি৷ পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে বিশ্বজুড়ে৷ ফলে সাবধানতা অবলম্বন করা ছাড়া সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই৷ এ পরিস্থিতিতে শীতকাল কতটা উদ্বেগের হয়ে উঠতে পারে?

তাপমাত্রা কমার সাথে সংক্রমণ বৃদ্ধিকে যৌক্তিক মনে করেন না কলকাতার চিকিৎসক কুণাল সরকার৷

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এখানে তাপমাত্রা কমলেও আলাদা কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই৷ শীত বেশি পড়লে করোনা অনেক বেড়ে যাবে, এটা ভাবার পিছনে যুক্তি নেই৷ আমাদের দেশে শীতকালে শহরগুলোতে দূষণের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়৷ ফলে শ্বাসযন্ত্রের রোগীদের সমস্যা হয়৷ করোনার সঙ্গে এটা বাড়তি ফ্যাক্টর হতে পারে৷''

অডিও শুনুন 05:18

‘তাপমাত্রা কমলেও আলাদা কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই’

অন্যান্য দেশের উদাহরণ দিয়ে ডা. সরকার বলেন, ‘‘ইউরোপ-অ্যামেরিকায় ঠান্ডার সময় মানুষ ঘরে থাকতে পছন্দ করে৷ ফলে একজন সংক্রমিত হলে দ্রুত অন্যজনের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে৷ কিন্তু আমাদের দেশে শীতে মানুষ রোদ পাওয়ার জন্য ঘরের বাইরে বেরিয়ে যায়৷ তাই অনেকে মিলে একসঙ্গে থাকার সময়টা কমে আসে৷ যে কারণে, সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে না৷''

তবে ভাইরাস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সিদ্ধার্থ জোয়ারদার শীতকালের বদ্ধ অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন৷ তিনি বলেন, ‘‘শীতকালে ঠান্ডা আটকাতে সব বন্ধ করে রাখার একটা প্রবণতা থাকে৷ সেটা বাড়িতে যেমন, গণপরিবহণেও তেমন৷ তাই এই বদ্ধ অবস্থায় একসঙ্গে অনেক মানুষ থাকলে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বেশি থাকে৷''

অধ্যাপক জোয়ারদার বলেন, ‘‘তাপমাত্রা ওঠানামার সঙ্গে ভাইরাসের বাঁচা-মরার সম্পর্ক নেই৷ সম্পর্ক রয়েছে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে৷ অর্থাৎ, শীতকালে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়বে, ভাইরাস আরো শক্তিশালী হবে, এই ধারণা ঠিক নয়৷''

অডিও শুনুন 06:45

‘বদ্ধ অবস্থায় সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি’

তিনি বলেন, ‘‘শীতকালে বাতাস শুকনো থাকার ফলে ড্রপলেট তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যেতে পারে৷ কিন্তু মেঘলা আবহাওয়া বা শিশির পড়ার ফলে বাতাসে স্যাঁতস্যাঁতে ভাব থাকতে পারে৷ এতে ড্রপলেটের মধ্যে থাকা ভাইরাসের আয়ু বেড়ে যায়৷ ভাইরাস যত বেশি বেঁচে থাকে, সংক্রমণের আশঙ্কা ততই বাড়ে৷''

সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বারবার হাত ধোয়া বা পরিচ্ছন্ন থাকার কথা বলা হচ্ছে৷ শরীর ও জামাকাপড় নিয়মিতপরিষ্কার করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷ কিন্তু তাপমাত্রা কমলে বারবার স্নান করা বা ঘন ঘন কাপড় ধোয়ার প্রবণতা কমবে৷ ফলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে৷ এছাড়া শীতে রোদ কম থাকলে শরীরে ভিটামিন ‘ডি'-এর জোগান কমে যায়৷ফলে কমে যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা৷

দুর্গা পূজার সময়ে জনসমাগমের প্রভাব কী হতে পারে তা জানার জন্য নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে৷ তখন তাপমাত্রা আরো কমবে৷ পশ্চিমবঙ্গে আগের চেয়ে সংক্রমণ বাড়ায় আপাতত সেই পুরোনো পদ্ধতির উপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা৷

কুণাল সরকারের মতে, আরো বেশি বাড়াতে হবে পরীক্ষার সংখ্যা৷ বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব৷ পরতে হবে মাস্ক৷

কিন্তু ইদানীং এসব নিয়ম উপেক্ষা করার যে প্রবণতা রাস্তাঘাটে দেখা যাচ্ছে তার পরিণতি ভেবে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা৷ তারা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসা সেবার চূড়ান্ত ব্যবহার হয়ে গিয়েছে৷ নতুন করে রোগীর ঢেউ সামলানোর ক্ষমতা নেই৷ তাই শীত এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে করোনা ঘিরে কুয়াশা যেন আরো বাড়ছে৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন