শীতল সমুদ্রের নীচে অসাধারণ প্রাণিজগত | অন্বেষণ | DW | 05.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

শীতল সমুদ্রের নীচে অসাধারণ প্রাণিজগত

ইউরোপের উত্তরে নরওয়ে উপকূলে শীতকালে ছবি তোলা যে বেশ কঠিন কাজ, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ জীববিজ্ঞানী ও আলোকচিত্রী হিসেবে এক ব্যক্তি সমুদ্রের গভীরে প্রাণিজগতের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন৷

পানির নীচে ছবি তোলেন উলি কুনৎস৷ পানির গভীরে প্রাণিজগত ও পরিবেশ ধরা পড়ে তাঁর লেন্সে৷ সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী, গবেষক ডুবুরি ও আলোকচিত্রী হিসেবে তাঁর সৃষ্টিকর্ম আন্তর্জাতিক স্তরেও খ্যাতি অর্জন করেছে৷ সাধারণ তাপমাত্রা নয়, বরফের মতো শীতল পানির নীচে ডুব দিতে তিনি পছন্দ করেন৷ এমন শখের ব্যাখ্যা দিয়ে উলি বলেন, ‘‘আমি শীতল পানির বড় ভক্ত, কারণ সেখানে বিস্ময়ের অভাব নেই৷ চারিদিকে ধূসর, কালো পানি দেখা যায়৷ কিন্তু একবার ডুব দিলে সেখানে এমন সব প্রাণীর দেখা মেলে, বিশ্বের অন্য কোথাও যা দেখা যায় না৷ ছোট কীট ও শামুক থেকে শুরু করে নানা জাতের জেলিফিশ, অ্যাডিনয়েড রয়েছে৷ ভাগ্য ভালো থাকলে আচমকা হেরিং মাছের বিশাল ঝাঁক মাথার উপর চলে আসে৷ হাম্পব্যাক বা কুঁজো তিমি, অর্কা ডুব মেরে সেই ঝাঁক থেকে মাছ শিকার করে ভরপেট খেয়ে নেয়৷ শীতল পানির নীচে এমন জীববৈচিত্র্য দেখে আমি খুবই বিস্মিত হই৷''

কখন, কোথায় প্রাণীগুলি উদয় হবে, আদৌ হবে কিনা, তা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে৷ উলি কুনৎস তাঁর অভিযানে কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুধু অপেক্ষা করেছেন৷

নরওয়ের উত্তরে শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে৷ তখন পানির তাপমাত্রা দাঁড়ায় প্রায় চার ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ শরীরের জন্য সেটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ৷ উলি বলেন, ‘‘বিশেষ ধরনের শুকনো ডুবুরির পোশাক পরে আমি শীতের মোকাবিলা করি৷ ফলে পানি শরীরের সংস্পর্শে আসে না৷ তার নীচে আমি মোটা ফাইবারের পোশাক পরি৷ ফলে পানির নীচে বেশ কিছু সময় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি৷ হাতে নিওপ্রেন দস্তানা এবং মাথায় নিওপ্রেন টুপি থাকে৷ তা সত্ত্বেও আধঘণ্টা, ৪৫ মিনিট পর ঠান্ডা লাগে বৈকি৷''

কখনো কখনো দিনের পর দিন তিনি কোনো প্রাণীরই দেখা পান না৷ তারপর তিমি দেখলে উত্তেজনায় ঠাণ্ডার কথা ভুলে যান৷ হয়তো এক মুহূর্তের জন্য তিমি আসে৷ ভাগ্য ভালো থাকলে তিমি খোরাকের জন্য অনেকক্ষণ একই জায়গায় থাকে৷ তখন খুব কাছে যাবার সুযোগ আসে৷

শীতের মাসগুলিতে সেই সম্ভাবনা বেড়ে যায়৷ তখন ঝাঁক বেঁধে তিমি অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর প্রান্ত থেকে নরওয়ের উত্তরের খাঁড়িতে চলে আসে৷ সেখানে হেরিং মাছ শিকার করে৷ তারপর ডাঙায় ফিরে নিজের তোলা ছবি খতিয়ে দেখার পালা৷ উলি কুনৎস মনে করেন, ‘‘পানির নীচে তোলা ভালো ছবি যেন গল্প বলতে পারে৷ যেমন এই প্রাণী কোথায় থাকে? কোনো নির্দিষ্ট আচরণ চোখে পড়ছে কি? একেবারে অজানা জগতের কোন কঠিন পরিবেশে এই প্রাণী বাস করে?''

হামবুর্গ শহরের এই আলোকচিত্রী গোটা বিশ্বে নানা বয়সের দর্শকের সামনে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন৷ প্রকৃতি ও মহাসাগরের জগতকে অনেক মানুষের নাগালে নিয়ে আসতে চান তিনি৷ কুনৎস বলেন, ‘‘আশাকরি আমার বেশিরভাগ ছবিকেই নান্দনিক বলা চলে৷ আমি বিশাল ও সুন্দর ছবি তুলি৷ তবে বাস্তব তুলে ধরতে ও সচেতনতা বাড়াতে এমন ছবিও দেখাতে হয়, যেগুলি মোটেই সুন্দর নয়৷ মাত্রাতিরিক্ত মাছ ধরার পরিণতি, মহাসাগরে দূষণ ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তাতে ফুটে ওঠে৷ এভাবে মানুষ সচেতন হয়ে উঠতে পারেন৷''

শীতল পানির মধ্যে কঠিন পরিশ্রম সত্ত্বেও এই জগতের আকর্ষণ যাবতীয় উদ্যোগ সার্থক করে দেয়৷ উলি বলেন, ‘‘শীতকালে নরওয়ের ফিয়র্ডের প্রসঙ্গ এলে বেশিরভাগ মানুষ ভাবেন সেখানে প্রাণের কোনো স্পন্দন নেই৷ অথচ বাস্তব এর ঠিক বিপরীত৷ আমার তোলা ছবি ও লেকচারের মাধ্যমে আমি প্রাণে ভরপুর এই এলাকা সবাইকে দেখাতে চাই৷ এমন অভিজ্ঞতার স্বাদ পেয়ে আমি সত্যি অভিভূত৷''

নরওয়ে উপকূলে জীববৈচিত্র্য তুলে ধরতে ছবি তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উলি কুনৎস৷

টেওডোরা মাভ্রোপুলুস/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন