শিশু সুরক্ষা আইন ও তার প্রয়োগ চাই | বিশ্ব | DW | 11.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

শিশু সুরক্ষা আইন ও তার প্রয়োগ চাই

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাকি মানুষ গড়ার কারখানা৷ সেখানেই যদি শিক্ষকেরা শিশুদের নৃশংসভাবে মারধর করেন তাহলে সেসব শিশু কি সত্যিই একদিন জাতির জন্য ভালো ভবিষ্যত হবে? বলছিলাম হাটহাজারীর মাদ্রাসায় এক শিশুকে নির্যাতনের কথা৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

হাটহাজারী পৌরসভার কনক কমিউনিটি সেন্টারের পাশে আল মারকাযুল কোরআন ইসলামিক একাডেমি নামের মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী আট বছর বয়সি শিশুকে দেখতে যায় তার মা মঙ্গলবার৷ মা ফেরার পথে শিশুটি মায়ের পিছু পিছু হাঁটতে শুরু করে৷ তা দেখে মাদ্রাসার এক শিক্ষক শিশুটিকে সেখান থেকে জোর করে ধরে এনে মারধর শুরু করেন৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশু নির্যাতনের এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং শিক্ষক ইয়াহিয়াকে আটক করেন বলে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন৷

সন্তানকে শিক্ষক অমানবিক নির্যাতন করায় শিশুর মা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন, কষ্ট পেয়েছেন কিন্তু  শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না করায় শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন৷

আমার প্রশ্ন, শিশুটির মা অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রথমে কেন অভিযোগ করেন নি? শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন ভেবে না কি তার ভেতরে কি কোনো ধরনের শঙ্কা বা ভয় কাজ করেছে ? যাই হোক, শেষ পর্যন্ত তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন৷ শিশুর মা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেকথা বিবিসিকে জানিয়েছেন হাটহাজারী পুলিশ৷ অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্তও করা হয়েছে৷

শিক্ষার্থীদের মারধর করা বাংলাদেশে মোটেই অস্বাভাবিক ঘটনা নয়৷ ‘মায়ের পেছন পেছন যাওয়ায় ছাত্রকে বেধড়ক পেটালেন মাদ্রাসা শিক্ষক’ এবং ‘‘পড়া না পারায়’ মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটিয়ে জখম, শিক্ষকের দণ্ড’’- ছাত্র মারধরের এই দুটি ঘটনা একই দিনে প্রকাশিত হয়েছে দেশের সংবাদমাধ্যমে ৷

ময়মনসিংহের নান্দাইলে মাদ্রাসার নূরানি বিভাগের ১১ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীকে পড়া না পারার কারণে বাঁশের তৈরি বেত দিয়ে পিটিয়ে জখম করেন শিক্ষক শফিকুল ইসলাম৷ পরে শিক্ষার্থীর বাবা বিষয়টি জানালে ওই শিক্ষককে আটক করে সাতদিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়৷

আট বছরের একটি ছোট্ট শিশু অনেকদিন পরে নিজের মা কে দেখলে তার পেছন পেছন যেতে চাইতেই পারে আর এটাই তো স্বাভাবিক!  সেজন্য এমন মারধর ! দ্বিতীয় ঘটনার ছেলেটি ক্লাসে পড়া পারেনি, এটা কি কোনো অপরাধ? যার জন্য শিশুটিকে মেরে জখম করতে হবে শিক্ষকের? প্রথম ঘটনার ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ায় সারা বিশ্ব জেনেছে, আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে৷ জানিনা, হয়তো সেকারণেই শিশুটিরঅভিভাবক সাহস পেয়ে পরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন৷ 

শুধু বাংলাদেশ নয় উন্নয়নশীল বহু দেশেই হাজারো শিশু ঘরে বা স্কুলে শারীরিক এবং মানসিকভাবে নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে৷ বেশ কিছুদিন আগের ইউনিসেফের করা এক গবেষণার রিপোর্টে দেখা গেছে, শিশুদের মানসিক বা শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিশুদের লেখাপড়ায়৷ তাছাড়াও  শিশুদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে করা বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, শিশু বয়সে যাদের মারধর করা হয়, পরবর্তীতে তারাও নিজেদের শিশু বা সুযোগ পেলে অন্যদের মারধর বা নানাভাবে নির্যাতন করে থাকে৷

শিশুদের মারধর বা বকাবকি না করে কোমল মনের শিশুদের বুঝিয়ে বললে যে কাজ বেশি হয় তা বোধহয় ব্যক্তিগত জীবন থেকে আমরা কম -বেশি সবাই জানি৷  আমার দুই একজন জার্মান শিক্ষক বন্ধু রয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন আমার প্রতিবেশি মারিয়ানে৷ দীর্ঘ শিক্ষক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, ‘‘মা-বাবার পরেই একটি শিশুর সবচেয়ে ভালো বন্ধু তার শিক্ষক৷ পড়াশোনায় শিশুর অমনোযোগ বা অন্যরকম আচরণ দেখেই শিশুর সমস্যা আঁচ করা যায়, শিশুকে একটু আদর করে সমস্যা জেনে নিয়ে তার সমাধানের চেষ্টা করতেন তিনি সবসময়৷ প্রয়োজনে শিশুর মা-বাবার সাথে কথা বলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সফল হয়েছেন তিনি৷ পড়াশোনায় ছাত্রদের মনোযোগী করে ভালো মানষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারাই একজন শিক্ষকের সার্থকতা৷’’

নুরুননাহার সাত্তার, ডয়চে ভেলে

নুরুননাহার সাত্তার, ডয়চে ভেলে

আসলে মারধর করে কিছু অর্জন করা যায় না৷ জার্মনিসহ ইউরোপের অনেক দেশেই শিশুর গায়ে শিক্ষকের হাত তোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ৷ জার্মানিতে শিশু সুরক্ষা আইনের বিশেষ ধারায় শিশুদের মারধর করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ শুধু স্কুলে নয়, শিশুরা যাতে বাড়িতেও সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে সেজন্যও রয়েছে বেশ কড়া আইন৷ শিশু সুরক্ষার এমন আইন  সন্তান লালন পালনে মা-বাবার পুরো অধিকার থাকলেও সন্তানের গায়ে হাত তোলা বা মানসিকভাবে ক্ষতি করার কোনো অধিকার নেই মা-বাবার৷ ইউরোপ অ্যামেরিকার মতো উন্নত দেশে আইন এবং আইনের প্রয়োগ দুটোই রয়েছে বলেই এমনটা সম্ভব৷

একটি শিশু তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বাড়িতে নিরাপদ না হলে সে কি করে একজন ভালো মানুষ হয়ে হবে? শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের দেশে কি এমন একটি আইন হতে পারে না? দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনের প্রয়োগের কথা না হয় পরে হবে, আগে তো শিশু সুরক্ষার যথাযথ একটি আইন করা হোক!

গত সেপ্টেম্বেরের ছবিঘরটি দেখুন..

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়