‌শিশু সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক জোট | বিশ্ব | DW | 17.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

‌শিশু সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক জোট

ডিজিটাল পৃথিবীতে কোনো অপরাধই ভৌগোলিক সীমান্তে আটকে নেই৷ শিশু নিগ্রহের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা৷ প্রতিরোধে জোট বাঁধা শুরু কলকাতায়৷

শিশুদের যৌন নিগ্রহ, মাত্র ছয় ‌মাস বয়সি শিশুর নগ্নতাকেও পণ্য করে তোলা থেকে শুরু করে যৌন বিকৃতির চাহিদা মেটাতে শিশু পাচার, অথবা আরো ভয়ঙ্কর, শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া— শেষ নেই অপরাধের৷ আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি সেই কাজটাকে আরো সহজ করে দিয়েছে৷ মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা, দুনিয়াজুড়ে বিস্তৃত ইন্টারনেট, অনলাইন স্ট্রিমিং একদিকে যেমন পৃথিবীটাকে ছোট করে দিয়েছে, তেমনই তার অন্ধকার দিকটাও ক্রমশ আরো জমাট বাঁধছে৷ বাড়ছে অপরাধ, যার সহজ শিকার হচ্ছে অবোধ শিশুরা৷ কেমন কায়দায় হয় এই কারবার?‌ শুনলে শিউরে উঠতে হয়৷ ধরা যাক, ভারতের কোনো গ্রামে কোনো নাবালিকাকে ধর্ষণ করছে কেউ৷ সেই দৃশ্যের ভিডিও ছবি মোবাইল ক্যামেরায় তুলে তৎক্ষণাৎ লাইভ স্ট্রিমিং হয়ে যাচ্ছে থাইল্যান্ড, বা সৌদি আরব, কিংবা ক্যানাডার কোনো শহরে বসে থাকা বিকৃতকাম মানুষদের মোবাইল কিংবা কম্পিউটার স্ক্রিনে৷ এতই সন্তর্পণে, অথচ এমন ব্যাপকভাবে প্রতিদিন ঘটে চলেছে কতশত অপরাধ, যার ওপর নজর রাখার, যা রুখে দেওয়ার স্রেফ কোনো উপায়ই নেই!‌ 

অডিও শুনুন 03:06

‘লড়াইটা খুব শক্ত, সকলে মিলে কাজটা করতে হবে'

নাকি উপায় আছে?‌কীভাবে সতর্ক হতে পারে সরকার, সেবা সংগঠন, সমাজ, পরিবার এবং বাবা-মায়েরা?‌ সেই রাস্তা খুঁজতেই সম্প্রতি কলকাতায় হয়ে গেল দু'‌দিনের এক আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্র৷ পশ্চিমবঙ্গের শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের উদ্যোগে এ সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন বেশ কিছু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, সেই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী এবং রাজ্যের পুলিসকর্তারা৷ তাঁরা আলোচনা করলেন শিশুদের ওপর যৌন অত্যাচার ঠেকাতে যেসব বাস্তবিক সমস্যা হয়, কীভাবে তা এড়ানো যায়, তার বিভিন্ন সম্ভাব্য পদ্ধতি ও আইনি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে৷ নিজেদের মধ্যে মত বিনিময়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতাগুলিকে চিহ্নিত করলেন৷ এবং সেইসঙ্গে শপথ নিলেন বিশ্বজুড়ে এক মানবপ্রাচীর, এক সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলার, যার ভেতরে নিরাপদ থাকবে ভবিষ্যৎ৷ এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষাকমিশনের সদস্য, কবি এবং সমাজকর্মী প্রসূন ভৌমিক ডয়চে ভেলেকে জানাচ্ছেন, গত এক বছর ধরে তাঁরা কমিশনে নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছেন৷ তারপর ভাবনাটি ভাগ করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার সংকল্প সংস্থা আইজেএম-এর সঙ্গে৷ কারণ, তাঁদের মনে হয়েছিল, আইজেএম-ই সঠিক মঞ্চ, যেহেতু তারা সারা পৃথিবীজুড়ে শিশু পাচার প্রতিরোধে কাজ করে৷ সমস্ত দেশের সরকার, পুলিশ এবং অধিকার সংগঠনগুলির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে তারা কাজ করে৷ আইজেএম ব্যাপারটা শোনার পর নিজেদের স্তরে ভাবনাচিন্তা করে, এবং এই ব্যাপারে ধারণা রাখেন, অভিজ্ঞতা আছে, কাজ করেছেন, এমন লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করেন৷ এভাবেই ব্যাপারটা একটা আন্তর্জাতিক চেহারা নেয়, যার একটা সম্মেলন সদ্য হয়ে গেল কলকাতায়৷

সরকার ‌‌এবং‌ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই সম্মেলনের প্রস্তাব পাঠানো হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী তাতে সম্মতি জানান৷ এবং বলেন, রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা‌ কমিশন সরকারের পক্ষে এটার নেতৃত্ব দেবে৷ সেজন্য কমিশনকে যাবতীয় সরকারি সাহায্য দেওয়া যাবে৷ এবং এই সম্মেলন থেকে যেটা হলো, যারা আন্তর্জাতিক স্তরে এই অপরাধটা করছে, তাদের বিরুদ্ধে একটা ডিজিটাল প্রতিরোধ গড়ে তোলার রূপরেখা তৈরি হলো৷ প্রসূন জানাচ্ছেন, ‘‌‘অনেকগুলো জায়গা, প্রায় ৯০ শতাংশ জায়গা আমরা চিহ্নিত করে ফেলেছি, কোন কোন জায়গায় কীভাবে কাজ করা উচিত৷ এবং এখন রাজ্য সরকার আর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবগুলো পাঠাবো, একইসঙ্গে আমরা সুপারিশ পাঠাবো জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনকে৷ একইসঙ্গে প্রস্তাব যাবে জাতিসঙ্ঘের কাছে৷ তাদের প্রতিনিধিরাও ছিলেন এই সম্মেলনে৷'‌'‌

প্রসূন ভৌমিক বলছেন, ‘‌‘‌লড়াইটা খুব শক্ত৷ একটা জায়গায় বসে এটা করা যায় না৷ এটা একটা দেশের একার কাজ না৷ একটা রাজ্যের একার কাজ না৷ একটা কমিশনের কাজ না৷ পুলিশের একার কাজ না৷ সকলে মিলে কাজটা করতে হবে৷'‌'

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন