শিশুদের প্রতিহিংসার বলি বানাবেন না | বিশ্ব | DW | 15.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

শিশুদের প্রতিহিংসার বলি বানাবেন না

সুনামগঞ্জে পাঁচ বছরের শিশু তুহিন মিয়াকে হত্যা করে তার পেটে দুইটি ছুরি গেঁথে লাশ একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল৷ এখানেই থেমে থাকেনি খুনিরা, তারা শিশুটির কান ও লিঙ্গ কেটে নিয়েছে৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

এই হত্যার সঙ্গে তার পরিবারের দুই তিন জনের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী৷

পুলিশ বলছে, প্রতিহিংসাবশত, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বা মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে৷ কারণ তুহিনের বাবাসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন মামলার আসামি৷ এলাকায় তাদের একাধিক প্রতিপক্ষ রয়েছে, এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে চায়৷

সোমবার নারায়ণগঞ্জে চারতলার ছাদ থেকে ফেলে দেড় বছরের শিশু আশফাক জামান জাহিনকে হত্যা করেছে তার মা রোকসানা৷ গত ২৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মোরসালিন নামের ১০ বছরের সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করেন তার বাবা মোসাঈদ৷ গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ঢাকার বাংলা মোটরে তিন বছরের শিশু সাফায়েতকে খুন করেন তার মাদকাসক্ত বাবা নুরুজ্জামান কাজল৷ ২০১৫ সালে সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চোর অপবাদে সামিউল আলম রাজন নামে ১৩ বছর বয়সের এক শিশুকে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়৷

বাংলাদেশে বাবার হাতে সন্তান, সন্তানের হাতে বাবা-মাসহ আপনজনদের হাতে খুনের ঘটনা ঘটছে৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্মম ভীষৎসতা, অমানবিক পৈচাশিকতা, বর্বর আর অসভ্যদের মত খুন করা হচ্ছে শিশুদের৷

যে শিশুটির আনন্দ নিয়ে, হেসেখেলে বেড়ে ওঠার কথা সে বড়দের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কী বুঝে? বড়রা, হ্যাঁ আপনারা নিজেদের ঝামেলাগুলো মিটিয়ে ফেললেই পারেন৷ বিচার-শালিসে বসে কাজ না হলে পুলিশ ডাকুন, মামলা করুন, আদালতে যান৷ যে কোনো ঝামেলা মিটিয়ে ফেলার বহু রাস্তাই তো খোলা আছে৷ তবে কেন শিশুদেরর টার্গেট করেছন? ওদের কী দোষ? ওরা তো আপনাদের এই রাজনীতি বুঝে না, ওদের তো এসব লাভ-লোকসান বোঝারও কথা না৷

Mohammad Shahidul Islam Khan

শহীদুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

শুধু আইন, আদালত আর নিয়মকানুনের ঘেরাটেপে বন্দী থেকে নয়, সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে যত শিশু হত্যা হয়েছে সেসবের দ্র্রুত বিচার করতে হবে৷ নজির সৃষ্টি করতে হবে এমন জঘন্য অন্যায় করলে কম সময়ে সর্বোচ্চ সাজা এবং তার বাস্তবায়ন হয়৷ যত টাকাওয়ালা, যত প্রভাবশালী, যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন শিশুদের খুন করে, শিশুদের নির্যাতন করে কেউ পার না পায়- সেই নজির সৃষ্টি হলে শিশুদের গায়ে হাত দেয়ার আগে মানুষরূপী প্রাণিগুলো হয়ত আরেকবার ভাববে৷

সবার প্রতি অনুরোধ, দয়া করে শিশুদের প্রতিহিংসার বলিতে পরিণত করবেন না৷ ওদের সুস্থ-স্বাভাবিক বিকাশে সহায়তা করুন৷ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারীদের  সুষ্ঠুভাবে বেড়ে উঠতে দিন, সবাই মিলে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করুন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন