শিশুদের খেলার উপকরণ থেকে উচ্চ দরের শিল্প | অন্বেষণ | DW | 21.02.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

শিশুদের খেলার উপকরণ থেকে উচ্চ দরের শিল্প

স্কুলে অনেকেই আঁকা অথবা হাতের কাজ শিখেছেন৷ মাটির মতো দেখতে নরম তাল দিয়েও ছোটখাট ভাস্কর্য তৈরি করেছেন৷ ইংল্যান্ডের এক শিল্পী বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন৷

মাটির মতো উপকরণের রঙিন তাল দেখলে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে৷ সেগুলি দিয়ে কিন্তু সত্যিকারের শিল্পকর্মও সৃষ্টি করা যায়৷ লন্ডনের শিল্পী এলেনর ম্যাকনেয়ার ঠিক এমন কাজই করছেন৷ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমার কিছু বন্ধু প্রায় ছয় বছর আগে ফটোগ্রাফিক পাব কুইজ আয়োজন করেছিল৷ একটি রাউন্ডে প্লে ডো-র মধ্যে বিখ্যাত একটি ছবি ফুটিয়ে তুলতে হয়েছিল৷ আমার টিম জেতার পর আমি সেই আইডিয়াই কাজে লাগাতে শুরু করলাম৷’’

আইডিয়া থেকে শিল্প প্রকল্প পর্যন্ত পথ মোটেই মসৃণ ছিল না৷ ক্লে মডেল তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ চ্যালেঞ্জ ছিল সময়ের অভাব৷ সৃষ্টিকর্ম চূড়ান্ত করতে এলেনরের হাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় থাকে৷ কারণ খুব দ্রুত শুকিয়ে যাবার কারণে ফাটল ধরার আশঙ্কা থাকে৷ তাই গতির সঙ্গে সঙ্গে নিখুঁত কাজও গুরুত্বপূর্ণ৷ এলেনর জানান, ‘‘চোখ তৈরি করতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে৷ সব কাজ সত্ত্বেও চোখ তৈরির কাজে ভুল হলে গোটা পরিশ্রম পণ্ড হয়ে যায়৷ কখনো একেবারে নতুন করে আবার কাজ শুরু করতে হয়৷’’

ভিডিও দেখুন 03:50

প্লেডোর অন্যরকম দুনিয়া

এলেনর ইন্টারনেট থেকে ছবি সংগ্রহ করে নিজের প্রয়োজনমতো সৃষ্টিকর্ম প্রস্তুত করেন৷ তিনি বিখ্যাত আলোকচিত্রীদের তোলা ছবির নিজস্ব রূপ দিতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন৷ যেমন অ্যামেরিকার নিকোলাস মারে, সিন্ডি শার্মান অথবা ডায়ান অ্যার্বাস৷ এলেনর ম্যাকনেয়ার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘কিছু মানুষ এমন কাজকে শিশুদের জন্য ফেলনা শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে৷ আমার মতে, আমরা বড় দ্রুত শিল্পের ব্যাখ্যা করে দুম করে ভাল আর মন্দে ভাগ করে ফেলি৷ আমি তাই একটি প্রশ্ন তুলে ধরতে চাই – প্লে ডো এবং সস্তার উপকরণ দিয়ে তৈরি শিল্প কি ভালো হতে পারে? শুধু ইন্টারনেটে জনপ্রিয় হবার কারণেই কি সেটা খারাপ হতে হবে?’’

ডিজিটাল জগতের বাইরেও তাঁর শিল্পের যথেষ্ট কদর রয়েছে৷ লন্ডনের এক গ্যালারি তাঁকে একটি প্রদর্শনীর দায়িত্ব দিয়েছে৷ ‘সাররিয়ালিস্টস রেন্ডার্ড ইন প্লে ডো’ শিরোনামের সেই প্রদর্শনী সত্যি বিস্ময়কর বলে মনে করেন গ্যালারির ম্যানেজার৷ ইভেন্টস প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে গ্যারেথ মেরেডিথ মনে করেন, ‘‘এলেনর যেভাবে অধিবাস্তববাদী শিল্পীদের কাজ প্লে ডো ভাস্কর্যে রূপান্তরিত করে বিশাল আকারে তুলে ধরেছেন, সেটাই এই প্রদর্শনীর বিশেষত্ব৷’’

ফ্রান্সের লেখক অঁদ্রে ব্রেতঁ-র মতো অধিবাস্তববাদী ১৯২০-এর দশকে প্যারিসে প্রথম স্বয়ংক্রিয় ফটো তোলার বুথ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করেছেন৷ পাসপোর্ট সাইজের সাদা-কালো ছবিগুলিকে এলেনর বিশাল আকারের চড়া রঙিন ছবিতে রূপান্তরিত করেছেন৷

কোনো মডেলের ছবির যতই কদর হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত সব শিল্পকর্মের একই দশা হয়৷ সেগুলি ধ্বংস করে ফেলা হয়৷ কোনো ভাস্কর্যের আয়ু এক দিনের বেশি হয় না৷ এলেনর বলেন, ‘‘এই সব শিল্পকর্ম যে ফেলে দেওয়া যায় এবং সেগুলির মূল্য যে সামান্য, সেই বিষয়টি আমার বেশ ভালো লাগে৷ ঠিক যেন আমাদের ফোনে তোলা ছবির মতো৷ প্রতিদিন শতশত ছবি দেখি৷ সেই সব ছবির যথেষ্ট কদর করি না৷ ঠিক যেন খেলার মতো৷’’

এভাবেই এক টুকরো মাটির মতো তাল শিল্প হয়ে ওঠে এবং শেষে আবার এক টুকরো তালে পরিণত হয়৷

ডাগমার শ্যোনভস্কি/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন