শিশুদের খেলনা নাকি ‘গোয়েন্দা′? | বিশ্ব | DW | 12.12.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইউরোপ

শিশুদের খেলনা নাকি ‘গোয়েন্দা'?

শিশুদের জন্য বাজারে আসা ‘স্মার্ট টয়' বা খেলনা হয়ত তাদের উপর নজর রাখছে, এমনটা মনে করছে ক্রেতাস্বার্থ দেখভাল করা মার্কিন ও ইউরোপীয় কয়েকটি সংস্থা৷

স্মার্ট টয়, মানে এসব খেলনা ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে৷ স্মার্টফোন অ্যাপ আর ব্লুটুথের মাধ্যমে সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে শিশুরা৷ একজন শিশু যখন স্মার্ট পুতুলকে কিছু জিজ্ঞেস করে তখন সেটি টেক্সটে রূপান্তরিত হয়ে যায়৷ পরে অ্যাপ ইন্টারনেটে প্রশ্নটির উত্তর খোঁজে৷ আর সেই উত্তর বের হয় পুতুলের মুখ থেকে

এ সব স্মার্ট টয় নিয়ে গবেষণা করেছে ‘নরওয়েজিয়ান কনজিউমার কাউন্সিল'৷ তারা বলছে, একজন শিশু যখন পুতুলকে প্রশ্ন করে তখন সেই তথ্য গিয়ে জমা হয় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ‘নুয়ান্স কমিউনিকেশন্স' কোম্পানিতে, যারা ‘স্পিচ রিকগনিশন' প্রযুক্তিতে বিশেষজ্ঞ৷ নরওয়ের ঐ কাউন্সিলের গবেষণায় আরও বেরিয়ে এসেছে যে, এ সব খেলনার মাধ্যমে হয়ত কৌশলে শিশুদের কাছে বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে৷ ‘মাই ফ্রেন্ড কেইলা' নামের একটি স্মার্ট টয়ের উদাহরণ দিয়ে কাউন্সিল বলছে, ‘কেইলা' নামের পুতুলটি ডিজনি ফিল্মের বিশেষ ভক্ত এবং কথায় কথায় সে শিশুদের এই তথ্যটি দিয়ে থাকে৷ এভাবে হয়ত শিশুদের কাছে ডিজনির মার্কেটিং করা হচ্ছে৷

‘মাই ফ্রেন্ড কেইলা' ছাড়াও আই-কিউ, ইন্টেলিজেন্ট রোবট ও হ্যালো বার্বি নামের চারটি স্মার্ট টয়ের নির্মাতা ‘মাটেল' ও ‘জেনেসিস টয়স'-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে ‘ইউরোপিয়ান কনজিউমার অর্গানাইজেশন' এবং ‘ইলেক্ট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টার'৷

ডাটা প্রটেকশন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ড. নিলস ক্রিস্টিয়ান হাগ ডয়চে ভেলেকে বলেন, এসব খেলনার অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি৷ ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত এসব তথ্য কোথায় যাচ্ছে, কে পাচ্ছে, কী কাজে ব্যবহৃত হতে পারে তা ক্রেতাদের সুস্পষ্টভাবে জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে৷ এছাড়া খেলনার সঙ্গে ব্লুটুথ যুক্ত থাকায় হ্যাকারদের পক্ষে শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়ে উঠতে পারে বলে জানান ক্রিস্টিয়ান হাগ৷

তাঁর এই আশঙ্কার সঙ্গে একমত ‘জার্মান এইড অর্গানাইজেশন ফর চিলড্রেন'-এর কর্মকর্তা লুইজে শ্মিড্ট৷ তিনি বলেন, স্মার্ট খেলনাগুলো শিশুদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে৷ ‘‘ব্লুটুথের মাধ্যমে কোনো কিছুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে না৷

এই সহজলভ্যতা ‘সাইবার গ্রুমিং' বা ‘বুলিয়িং' এর পথ খুলে দেয়'', ডয়চে ভেলেকে বলেন শ্মিড্ট৷

জার্মানিতে ‘মাই ফ্রেন্ড কেইলা' ও ‘আই-কিউ' খেলনা বিক্রি করে ‘ভিভিড' নামের একটি কোম্পানি৷ নিরাপত্তার জন্য খেলনাগুলোতে কী ধরনের ব্যবস্থা আছে সে সম্পর্কে জানতে চেয়ে করা ডয়চে ভেলের অনুরোধের জবাব দেয়নি কোম্পানিটি৷

কেট ব্রেডি/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন