শিশুদের ওপর নির্যাতন কমেনি: ইউনিসেফ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 01.07.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

শিশুদের ওপর নির্যাতন কমেনি: ইউনিসেফ

সারা বিশ্বে প্রায় ৫ কোটি থেকে দেড়শো কোটি শিশু প্রতি বছর বিভিন্ন ধরণের সহিংসতার শিকার৷ ইউনিসেফের প্রতিবেদনে জানানো হয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, সভ্য সমাজ শিশুদের সাহায্য করতে, উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছে৷

শিশুশ্রম একটি দুষ্ট ক্ষত

শিশুশ্রম একটি দুষ্ট ক্ষত

প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ শিশু বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ডের শিকার হয়৷ যৌন পীড়ণ, মারধোর – কোন কিছুই বাদ যায়না৷ এসব শিশু অত্যন্ত ভীত অবস্থায় দিন কাটায়৷ জাতিসংঘের শিশুদের ওপর পীড়ণ প্রতিরোধে বিশেষ দপ্তরের প্রতিনিধি মার্টা সান্টোস পে বার্লিনে বৃহষ্পতিবার কথাগুলো বলেন৷ ইউনিসেফ এ নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে সারা বিশ্বে প্রায় দেড়শো কোটি শিশু প্রতিদিন বিভিন্ন ধরণের অত্যাচার এবং নির্যাতনের শিকার হয়৷

ইউনিসেফ জার্মানির প্রধান ইয়ুর্গেন হেরয়েস বেশ জোর দিয়েই বলেন যে, বিভিন্ন দেশে শিশুদের অধিকার রক্ষা করতে যেসব আইন রয়েছে তার যথাযথ প্রয়োগ নেই৷ বিশেষ করে উন্নয়শীল দেশে তা লক্ষ্য করা যায় বিশেষভাবে এবং সেখানে আইনগুলো ভীষণ দুর্বল৷

Flash-Galerie arbeitende Kinder in Afghanistan

কোন মুক্তি নেই এই পরিশ্রমের হাত থেকে

শিশু শ্রম, বাল্য বিবাহ, যৌনাঙ্গচ্ছেদ, জোর করে পতিতা হিসেবে কাজ করানো – এসব কিছুই মেনে নেয়া হয় সহজে৷ সরকার বা সাধারণ মানুষ এসবের প্রতিকারে এগিয়ে আসে না, প্রতিবাদও করে না৷ এছাড়া অনেক দেশেই দেখা যায় শিশুদের শাসন করতে প্রয়োজনে মার-ধোর করা হচ্ছে৷ প্রতি চারটি শিশুর মধ্যে তিনজনের কাছ থেকে শোনা গেছে যে তাদের গায়ে হাত তোলা হয়৷ আক্ষেপের সঙ্গে জানান হেরয়েস৷

জার্মানিতেও শিশুরা অবহেলিত

তবে শুধু যে উন্নয়শীল দেশগুলোতেই এ ধরণের ঘটনা ঘটছে তা নয়৷ ইউনিসেফের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর শুধু জার্মানিতেই প্রায় ১৮৩ জন শিশু নির্যাতন এবং নানা ধরণের অবহেলার শিকার হয়ে মারা গেছে৷

Flash-Galerie arbeitende Kinder in Afghanistan

পরিবর্তেন কে আনবে? সরকার নাকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়?

জার্মান ফার্স্ট লেডি বেটিনা ভুল্ফ জার্মানির প্রতিটি পরিবারের কাছে শিশুদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হবার আবেদন জানিয়েছেন, বলেছেন আরো গুরুত্ব সহকারে বিষয়টির দিকে নজর দিতে৷ এছাড়া শিশুদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করার ওপরও তিনি জোর দেন৷

এর সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু গায়ে হাত তোলা বা চড়চাপড় দেয়া ছাড়াও অনেক সময় দেখা যায় ফেসবুকে বাচ্চাদের নানা রকমের ছবি তুলে দেয়া হয়৷ তা করে আশেপাশের পরিচিতরাই৷ এটাও এক ধরণের মানসিক অত্যাচার৷ এর সঙ্গে যুক্ত হয় নানা ধরণের কটুক্তি৷

Kinder Fußballspieler in Düsseldorf in GOJO Charity Fest 2011

এই আনন্দ শুধু শিল্পোন্নতদেশের

গত বছর জার্মান সরকার শিশুর অধিকার আদায়ে, শিশুদের ওপর অত্যচার প্রতিরোধে একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে৷ সেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় নির্যাতিত শিশুদের সাহায্যে একটি হটলাইনের ব্যবস্থা চালু করা হবে৷ কোন ধরণের অঘটন ঘটলেই যে কেউ এই নম্বরে ফোন করে সাহায্যের আবেদন করতে পারবে৷ এরপরই এগিয়ে আসে হাজার হাজার শিশু৷ শিশুরা মুখ খুলতে শুরু করে৷ জার্মানির পর এধরণের হটলাইন ব্যবস্থা চালু করেছে ইটালি৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

বিজ্ঞাপন