শিল্পীর তুলিতে জাপানের সুনামি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 14.03.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

শিল্পীর তুলিতে জাপানের সুনামি

জাপানে বিধ্বংসী ভূমিকম্প, সুনামি আর পারমাণবিক বিপর্যয়ের এক বছর পেরিয়েছে কয়েকদিন আগে৷ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছে কয়েক হাজার মানুষ, এখনো অনেকের জীবন হুমকির মুখে৷

সুনামির ফলে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাতাসে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বেড়ে যায়৷ সেখানে পরিস্থিতি এখনো সঙ্গিন৷ কিন্তু এতো বিপর্যয়ের মাঝেও কিন্তু থেমে যায়নি জাপানিরা৷ বরং আশা আর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মিশ্রনে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তারা৷ একদিকে আতঙ্ক, ক্ষোভ অন্যদিকে আশা, সংহতি - বার্লিনে সুনামি বিষয়ক এক প্রদর্শনীতে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন জাপানি শিল্পীরা৷

হামবুর্গে বসবাসরত জাপানি শিল্পী নবুকো ওয়াটিবিকি গতবছর সুনামির সময় জাপানেই ছিলেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, বিপর্যয়ের পর সবকিছু থমকে গিয়েছিল৷ ওয়াটিবিকি জানান, তাঁর জীবনে এরকম কোনোকিছু আগে কখনো ঘটেনি৷

এই ঘটনার পর কোনোকিছু না করে থাকার উপায় ছিল না৷ আর সেই ভাবনা থেকেই শিল্পীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়, যেখানে তারা এই বিষয়ে তাদের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারে৷

জাদুঘর-রক্ষক মার্কুস ইটো এই প্রসঙ্গে বলেন, শিল্পীদের একটি বিশেষ ক্ষমতা আছে, সেটি হচ্ছে তারা তাদের আবেগ, অনুভূতিকে শৈল্পিক উপায়ে ফুটিয়ে তুলতে পারে৷

সুনামির পর ইটো এবং ওয়াটিবিকি জাপানি শিল্পীদের কাছে এই বিষয়ে পোস্টকার্ড কিংবা পোস্টকার্ড আকারের চিত্রকর্ম আহ্বান করে৷ বলাবাহুল্য, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই সাড়ে তিনশো চিঠি৷ যেগুলো পাঠিয়েছেন ২৩০ ব্যক্তি৷

সুনামিকে কেন্দ্রে করে বার্লিনের প্রদর্শনীতে শোভা পাচ্ছে নানামুখী চিত্রকর্ম৷ শিল্পী শিন ইয়ামাগেটা তাঁর চিত্রকর্মে তুলে ধরেছেন সুনামির সরাসরি রূপ৷ যেখানে দেখা যাচ্ছে, ধেঁয়ে আসছে ৪০ মিটার উঁচু সুনামি, যার তোড়ে ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, গাড়ি সবকিছু৷ আবার কিছু শিল্পী সুনামির পরও প্রকৃতির সুন্দর রূপ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন৷ কারো চিত্রকর্মের বিষয় হচ্ছে আশা, সংহতি৷

জাপানে সুনামির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি কিন্ডারগার্টেন সারিয়ে তুলতেও অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে৷ সুনামির সময় সেটির চার শিশু এবং এক শিক্ষক প্রাণ হারান৷ কিন্ডারগার্টেনটির পুর্নগঠনে এবং আগামী পাঁচ বছর যাতে সেটি চলতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সাহায্য সংগ্রহ করা হচ্ছে৷

উল্লেখ্য, জাপান-জার্মান সেন্টার বার্লিন'এ ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন