শিল্পীর ক্যানভাস যখন কলার খোসা | অন্বেষণ | DW | 21.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

শিল্পীর ক্যানভাস যখন কলার খোসা

কেউ কলা খেতে ভালোবাসেন, কেউ মোটেই পছন্দ করেন না৷ এক ওলন্দাজ শিল্পী কলার উপর ছবি এঁকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন৷ দেশ-বিদেশের কোম্পানিও তাঁকে দিয়ে শিল্পসৃষ্টি করাচ্ছে৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

কলার মধ্যে কী নেই! শক্তিতে ভরপুর৷ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম৷ কিন্তু স্টেফান ব্রুশে-র কাছে কলার খোসাই মূল্যবান, নিজের পেশার মূল ভিত্তি৷ নেদারল্যান্ডসের এই ব্যক্তি ‘বানানা আর্টিস্ট' হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ নাম করেছেন৷ সাধারণ কলম দিয়ে তিনি কলার খোসার উপর ছবি আঁকেন৷

তিনটি পর্যায়ে তিনি শিল্পসৃষ্টি করেন৷ প্রথমে আঁকতে হয়৷ তারপর ছুরির সাহায্যে কলার খোসার কিছু অংশ কেটে বাদ দিতে হয়৷ স্টেফান মনে করিয়ে দেন, ‘‘কলার মধ্যে সুন্দর সাদা রং অক্ষত রাখতে খুবই দ্রুত কাটতে হয়৷ কারণ ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ধূসরের প্রলেপ ফুটে ওঠে৷’’

প্রথম অংশগুলির চেহারা খারাপ হবার আগেই তিনি তাঁর সৃষ্টির ছবি তুলে ফেলেন৷ সবশেষে তিনি ইন্টারনেটে সেই ছবি পোস্ট করেন৷ তারপর সেই কলা খেয়ে ফেলা হয়৷ কখনো দুধের সঙ্গে মিশিয়ে৷

আজ পর্যন্ত স্টেফান ব্রুশে আনুমানিক এক হাজার কলার খোসা এঁকেছেন৷ সবকটি তাঁর পছন্দ হয় নি, বেশ কয়েকটি কলার ছবি পোস্ট না করে শেক তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে৷ অনেক ছবিই খোসার উপর মানানসই হয় না৷ স্টেফান বলেন, ‘‘কখনো আমি একেবারে ধার পর্যন্ত এঁকে ফেলি৷ তারপর সেই অংশ কিছুটা কেটে সামনে টেনে আনি৷ এভাবে আমার ক্যানভাস কিছুটা বড় হয়৷ তাছাড়া একটির বেশি কলাও ব্যবহার করতে পারি৷’’

ভিডিও দেখুন 04:27

কলার ছোলায় ছবি এঁকেছেন কখনো?

স্টেফান ব্রুশে আমস্টারডাম শহরে থাকেন৷ ৪ বছর ধরে গ্রাফিক ডিজাইন নিয়ে উচ্চশিক্ষার পর এক এজেন্সিতে কাজ শুরু করেন৷ সে সময়ে তিনি এক মোবাইল ফটো অ্যাপ পরীক্ষা করতে কোনো বস্তুর খোঁজ করছিলেন৷ স্টেফান ব্রুশে বলেন, ‘‘খেয়াল করলাম, বাসা থেকে আনা কলা তখনো খাওয়া হয়নি৷ মনে হলো, তার উপর একটা মুখ আঁকলে মন্দ হয় না৷ আঁকার পর মনে হলো, দেখতে সত্যি ভালো লাগছে৷ সাধারণ বল পেন দিয়ে আঁচড় টানলে অনায়াসে কলম চালানো যায়৷’’

এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ বিশ হাজার ছুঁয়েছে৷ ফলে বিশ্বের অনেক কোম্পানিও তাঁর সম্পর্কে জানতে পেরেছে৷ স্টেফান বলেন, ‘‘কোম্পানিগুলি আমাকে বিশেষ বানানা আর্ট তৈরি করার অনুরোধ করে, যা তারা নিজেদের সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে পারে৷ কোনো ইভেন্ট, বাণিজ্য শো অথবা মনোরঞ্জনের কোনো অনুষ্ঠানে তাদের বুথে আমি কলার উপর আঁকতে পারি৷’’

এখনো পর্যন্ত শিল্পের জগতে কলার ব্যবহারের কোনো সীমা ছিল বলে মনে হয় না৷ কখনো প্রতীকী অর্থে, কখনো বিশাল আকারে কলা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷ স্টেফান বলেন, অ্যান্ডি ওয়ারহোল বা অন্যরা তাঁকে প্রেরণা জোগাননি৷ প্রথমদিকে তিনি এমনকি আপেল ও নাশপাতির উপরেও আঁকতেন৷ কিন্তু এ ক্ষেত্রে কলার নাকি কোনো তুলনা হয় না৷ স্টেফান ব্রুশে বলেন, ‘‘কখনো আমার অনুগামীরাও কারো মন জয় করতে কলার উপর কিছু আঁকে৷ সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি৷’’

প্রতিদিন তিনি একটি মাত্র কলা কেনেন৷ আশা করা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এমনটা করে যাবেন৷

অলিভার গ্লাসেনাপ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন