‘শিল্পীরা সচেতন না, সংগঠিতও না বলেই প্রাপ্য সম্মানী বঞ্চিত হন’ | আলাপ | DW | 06.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘শিল্পীরা সচেতন না, সংগঠিতও না বলেই প্রাপ্য সম্মানী বঞ্চিত হন’

শিল্পীদের একসময় সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য, চিকিৎসার খরচের জন্য হাত পাততে হচ্ছে৷ সারা জীবন উপার্জনের পরও কেন এমন হচ্ছে? ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেছেন ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

ডয়চে ভেলে :কপিরাইট আইনটা আসলে কি?

ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম : মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক যে কাজগুলো হয়, আমরা যেটাকে ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি বলি, এর কয়েকটি ভাগ আছে৷ তার মধ্যে কপিরাইট একটি৷ এই কপিরাইট দ্বারা সাহিত্যকর্মে আইনের প্রোটেকশন দেওয়া হয়৷ কারো সাহিত্যকর্ম যেন অন্য কেউ চুরি করতে না পারে বা কপি করলে তার কপির জন্য যেন ফি দেওয়া হয়, সেটাকেই আমরা কপিরাইট বলছি৷

এই আইনটার কি সঠিক প্রয়োগ আছে?

বাংলাদেশে কোনো আইনেরই সঠিক প্রয়োগ নেই৷ কপিরাইটও এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম নয়৷ এখানে ২০ বছর আগে এই আইনটি করা হয়৷ কম্পিউটার সফটওয়্যারের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে এই আইনটি এখন ইরেলেভেন্ট হয়ে গেছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্য৷ এই আইনটি যে পরিমাণ প্রয়োগ হওয়া উচিৎ, সেটা হচ্ছে না বা কখনোই করা হয়নি৷ 

অডিও শুনুন 10:47

‘‘শিল্পীরা কপিরাইটের বিষয়ে সচেতন না’’

এই আইনের কারণে শিল্পীরা কি সঠিকভাবে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন?

শিল্পীরা সঠিক সুবিধা পাচ্ছেন, আমি বলবো না৷ কপিরাইটের অনেকগুলো ক্ষেত্র আছে৷ একজন উপন্যাসিক যখন একটা উপন্যাস লেখেন, সেটা কিন্তু কপিরাইট কর্ম৷ একইভাবে একজন শিল্পী যখন তার গান রেকর্ড করে বাজারে ছাড়েন, সেটিও কপিরাইট কর্ম৷ কেউ একটি মিউজিক যদি বাজারে ছাড়েন, সেখানেও কপিরাইটের ইস্যু আছে৷ ওই গানটার জন্য গীতিকার, সুরকার বা শিল্পী সবারই কপিরাইট আছে৷ এটা কিন্তু আমাদের আইনে স্বীকৃতি দেওয়া আছে৷ এদের কেউই কিন্তু কপিরাইটের প্রকৃত সম্মানী পান না৷ এখানে সুরকার বা গীতিকারকে নামমাত্র মূল্য দিয়ে এবং শিল্পীকে দিয়ে সাইন করিয়ে মিউজিক স্টুডিওগুলো কপিরাইট কিনে নেয়৷ পরে তারা এটা দিয়ে ব্যবসা করে৷ বিশেষ করে ইউটিউবের প্রচলন হওয়ার পর থেকে শিল্পীরা তাদের সচেতনতার অভাবে কপিরাইটের প্রাপ্য সম্মানী থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন৷

কেন তারা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না?

অনেকগুলো কারণ আছে৷ একটা কারণ আমি বলি, আমাদের যেসব শিল্পী আছেন, তারা কপিরাইটের বিষয়ে সচেতন না৷ তারা কখনোই সংগঠিত হয়ে সম্মিলিতভাবে কোনো পদক্ষেপ নেননি৷ সম্প্রতি আমরা দেখেছি, শিল্পীদের পক্ষে একটি সংগঠনের অনুমতি সরকার দিয়েছে, যারা শিল্পীদের পক্ষ থেকে কপিরাইটের বিষয়গুলো দেখবে৷ আইনেও সে সুযোগ তাদের রয়েছে৷ বাস্তবে তাদের কার্যক্রমে কোনো প্রতিফলন আছে বলে আমার মনে হয় না৷ থাকলে এখন আমাদের এটা নিয়ে আলোচনা করতে হতো না৷ শিল্পীরা যে প্রাপ্য সম্মানী পাচ্ছেন না তার এক নম্বর কারণ আইনের সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না৷ পাশাপাশি যে সংগঠন হয়েছে পারফরমিং আর্ট সোসাইটি, তাদের যে কাজগুলো করা দরকার, সেগুলো তারা করছে না৷

এই আইনটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব কার?

এই আইনটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিভিন্ন ধরনের মানুষের৷ যেমন ধরুন, একজন শিল্পী একটি গানের পর মিউজিক স্টুডিওর সঙ্গে যে চুক্তি করলো সেখানে তার কপিরাইট কতটুকু বাস্তবায়িত হলো সেটা তাকে দেখতে হবে৷ আবার এটা যখন ব্যাপকহারে পাইরেসি হয়, তখন এটা দেখার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর৷ পাশাপাশি কপিরাইট রেজিষ্ট্রেশন যে অথরিটি আছে, তাদেরও দেখার দায়িত্ব৷

কপিরাইট আইন বাস্তবায়নে কী করা প্রয়োজন?

এর যারা স্টেকহোল্ডার আছেন, তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে৷ পাশাপাশি আইনটি বাস্তবায়নের জন্য আমরা যে সম্মিলিত সংস্থার কথা বলছি, সেই সংস্থার কাজকে বেগবান করতে হবে৷ শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মানী আদায়ের ব্যবস্থা করাও তাদের দায়িত্ব৷ একটা উদাহরণ দেই৷ রেডিও বা টিভিতে একজন শিল্পীর যে গান বাজছে, সেটা যদি ওই শিল্পীর অনুমতি না নিয়ে বাজানো হয়, তাহলে এটা কিন্তু কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন৷ এখন প্রত্যেক শিল্পীর পক্ষে তো এটা বের করা সম্ভব না, কোথায় তার গান বাজছে৷ এই কারণে ওই সংস্থার কথা বলছি, তারা সেটা দেখবে এবং শিল্পীকে প্রাপ্য সম্মানী আদায় করে এনে দেবে৷ 

শিল্পীদের সঙ্গে হওয়া এই অন্যায়ের প্রতিকার কিভাবে পাওয়া যেতে পারে?

এটার প্রতিকারে শিল্পীদেরই এগিয়ে আসতে হবে৷ আজ পর্যন্ত কোনো শিল্পীকে এসে বলতে দেখলাম না, আমার কপিরাইট এভাবে ভায়োলেশন হয়েছে, আমি এর প্রতিকার চাই৷ দু-একটা ঘটনা আমরা জানি, মাইলসের কয়েকজন শিল্পী গ্রামীণফোন ও রবির বিরুদ্ধে মামলা করেছে৷ ওই মামলাগুলো আবার এমনভাবে ফ্রেম করা হয়েছে, যাতে প্রকৃতপক্ষে স্ট্রাকচারিংটা হয়নি৷ শিল্পীদের নিজেদের উদ্যোগী হয়ে ব্যবস্থাটা নিতে হবে৷ তাদের কাজ অন্য কেউ করে দেবে না৷

আমরা প্রায়শই দেখি, নামি শিল্পীরাও শেষ জীবনে অর্থকষ্টে ভূগছেন৷ পরিত্রাণের পথ কী?

এর বিভিন্ন কারণ আছে৷ এক. একজন শিল্পী যখন গানের জন্য স্টুডিওর সঙ্গে চুক্তি করেন, তখন তারা এককালীন পেমেন্ট নিয়ে পুরো গানটাই দিয়ে দেন স্টুডিওকে৷ শিল্পীরা যদি আরেকটু বুদ্ধিমান হতেন, তাহলে তারা একবারে টাকা না নিয়ে প্রতিবার প্লে'র জন্য তার সম্মানী চাইতে পারতেন, যেটা পৃথীবির অন্যান্য দেশে হয়৷ ওইসব দেশে কিন্তু পারফর্মিং আর্ট সোসাইটটি স্টুডিওর সঙ্গে শিল্পীর নেগোসিয়েশনের কাজটা করে৷ আমি একটা উদাহরণ দিতে পারি৷ মাইকেল জ্যাকশন৷ তিনি তো মারা গেছেন৷ অথচ তার পরিবার এখনো তার গানের কপিরাইট রয়্যালিটি পাচ্ছেন, কারণ, উনি কিন্তু একবারে টাকা নেননি৷ উনি প্রতিবার প্লে'র জন্য সম্মানীর চুক্তি করে গেছেন৷ একবারে টাকা নিলে আজ তার পরিবার কোনো সম্মানী পেতো না৷ আমাদের দেশের শিল্পীরা এই বিষয়ে অবগত না৷ তাই তারা একবারেই স্টুডিওর কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন৷

তাছাড়া আমি বলব, শিল্পীরা মানি ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে খুবই অদক্ষ৷ শিল্পীরা শিল্পী থাকা অবস্থায় যে উপার্জন করে, সেটার প্রোপার ইউটিলাইজেশন করতে পারেন না দেখে ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় রাখেন না৷ যখন ভালো আছেন, তখন প্রচুর উপার্জন করে খরচ করে ফেলছেন৷ আবার যখন আপনার ভালো কাজ নেই, তখন আপনার হাতেও কোনো টাকা নেই৷ অন্যান্য পেশায় কিন্তু এমন দেখা যায় না৷ এটাও যদি অ্যাভয়েড করতে হয়, তাহলে সম্মিলিত পদক্ষেপের বিকল্প নেই৷ তা না হলে যখন স্বর্ণযুগ থাকবে, তখন রাজারহালে থাকবেন, আর অবস্থা যখন পড়তির দিকে, তখন রোজগার কমতে কমতে একসময় মানুষের কাছে হাত পাততে হবে৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন