শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব বিএনপির, তবে যুদ্ধাপরাধে চুপ | বিশ্ব | DW | 18.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব বিএনপির, তবে যুদ্ধাপরাধে চুপ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতাহারে বিএনপি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে৷ কিন্তু ঐক্যফন্ট যুদ্ধাপরাধের বিচার অব্যহত রাখার কথা বললেও বিএনপির ইশতাহারে বিষয়টির কোনো উল্লেখই নেই৷

বিএনপির ১৯ দফা ইশতাহারে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে৷ পাঁচ বছরে  এক কোটি নতুন চাকরির ব্যবস্থা করারও অঙ্গীকার রয়েছে ইশতাহারে৷ বলা হয়েছে, প্রথম তিন বছরে দুই লাখ সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হবে৷ এছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তারা৷ ইশতাহারে তরুণদের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে৷  শিক্ষিত তরুণদের চাকরি নিশ্চিত করাসহ তাঁদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথাও রয়েছে ইশতাহারে৷ সংবিধান সংশোধন করে নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার কথা বলেছে বিএনপি৷

সকালে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পক্ষে ইশতাহার পাঠ করেন দলটির মহাসচিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷

ইশতাহারে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন, বিচার বিভাগ, মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ ১৯ টি বিষয় ও খাতে গুরুত্ব দেয়া হয়৷ এর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরন, অর্থনীতি, মুক্তিযোদ্ধা, যুব নারী ও শিশু, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, জ্বালানি, তথ্য ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, বৈদেশিক ও প্রবাসী কল্যাণ, কৃষি ও শিল্প, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা ও পুলিশ, আবাসন, পেনশন ফান্ড ও রেশনিং ফান্ড প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ, পররাষ্ট্র এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে প্রতিশ্রুতি৷

অডিও শুনুন 01:32

‘প্রশ্ন তোলা যায় দুর্নীতি দমনসহ সব কাজে বিএনপির সক্ষমতা আছে কিনা’

‘ভিশন ২০৩০'-এর আলোকে ‘এগিয়ে যাবো একসাথে, ভোট দেবো ধানের শীষে'- শ্লোগানকে সামনে রেখে দলটির ইশতাহার তৈরি করা হয়েছে৷

ইশতাহারে বলা হয়েছে, ‘‘নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণের পুনরাবৃত্তি না ঘটে৷ এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য অতীতের সমস্যার আলোকে নিরূপণ করা হবে এবং এই লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে স্বচ্ছ আলাপ-আলোচনা করা হবে৷ প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যতমুখী এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য নতুন এক সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে৷ এই কমিশনের সদস্য থাকবেন সংসদে সরকারি দলের নেতা, বিরোধী দলের নেতা এবং সর্বজনশ্রদ্ধেয় জাতীয় ব্যক্তিত্ব৷

ইশতাহারে তারা বলেছে, একাধারে পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান করা হবে৷ মন্ত্রিসভাসহ প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হবে৷ বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ দেয়া হবে৷ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে শর্তসাপেক্ষে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা হবে৷ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে ‘জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ' প্রতিষ্ঠা করা হবে৷ সংবিধানে ‘গণভোট' ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করা হবে৷

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টসহ সকল প্রকার কালা-কানুন বাতিল করা হবে৷ তথ্য অধিকার আইনে তথ্য প্রাপ্তি দ্রুততর করার জন্য বাধাসমূহ পুরোপুরি দূর করা হবে৷

অডিও শুনুন 02:21

‘ক্ষমতায় গিয়ে বর্তমান উন্নয়নের পরবর্তী কর্মসূচি নিলে দেশের কল্যানে আসবে’

শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে সকল ধরনের ভ্যাট বাতিল করা হবে৷ ভ্যাটবিরোধী, কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে সকল মামলা প্রত্যাহার এবং এসব আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে৷

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতাহারে যুদ্ধাপরাধের বিচার অব্যাহত রাখার কথা বলা হলেও বিএনপির ইশতাহারে এ ব্যাপারে কিছু নেই৷এর আগে বিএএনপি সর্বশেষ নির্বাচনি ইশতাহার দেয় ২০০৮ সালের নির্বাচনে৷ ২০১৪ সালের নির্বাচন তারা বর্জন করে৷ ২০০৮ সালের ইশতাহারের বাইরে বিএনপি সুনির্দিষ্ট করে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিমাণ উল্লেখ করেছে৷ আর বলেছে, নির্বাচনকালীন সরকারের কথা৷ কিছু প্রশাসনিক এবং আইনি সংস্কারের কথাও বলেছে৷ ডিজিটাল আইন বাতিলের কথা বলেছে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শান্তনূ মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি ডয়চে ভেলে'র কাছে গতকাল (মঙ্গলবার) যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম তাই সত্য হয়েছে৷ ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতাহারে যুদ্ধাপরাধের বিচার অব্যাহত রাখার কথা বলা হলেও বিএনপির ইশতাহারে তা নেই৷ জামায়াত বিএনপির মিত্র, ফলে ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধের বিচারকাজ চালানো যাবে কিনা আমার সন্দেহ আছে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘বিএনপি ২০০৮ সালের ইশতাহারেও উন্নয়ন, সুশাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলেছিল৷ বলেছিল, কর্মসংস্থান ও তরুণদের গুরুত্ব দেয়ার কথা৷ এবারো তাই বলেছে৷ এখন বিএনপির আগের শাসনামল বিশ্লেষণ করলে প্রশ্ন করা যায়, তাদের দুর্নীতি দমনসহ ওইসব কাজে সক্ষমতা আছে কিনা৷''

অডিও শুনুন 00:19

‘আগেই বলেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আমাদের সমর্থন আছে’

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষনা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস-এর অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ অবশ্য ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিএনপি শিক্ষায় জিডিপি'র ৫ ভাগ বরাদ্দের যে ঘোষণা দিয়েছে তাকে অভিনন্দন জানাই৷ তবে বরাদ্দ হওয়া দরকার ৬ ভাগ৷ আর শিক্ষার এই বরাদ্দ কোন খাতে তা-ও সৃনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন, কারণ, অনেক খাত আছে যেগুলো শিক্ষার সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়৷''

তিনি বলেন, ‘‘তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, নতুন চাকরি সৃষ্টি, দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি– এগুলো অবশ্যই ভালো৷ এজন্য তাদের আইটি খাত ও শিল্প নিয়ে কাজ করতে হবে৷ কিন্তু আমার কথা হলো, সব কিছুই নির্ভর করে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর৷ আর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার যে কথা বলা হয়েছে, তা গতানুগতিক৷ তারা ক্ষমতায় গেলে যদি তাদের সময়ের উন্নয়নের পর থেকে কাজ শুরু না করে বর্তমান উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার কর্মসূচি নেয়, তাহলে সেটা দেশের কল্যানে আসবে৷''

আর ইশতাহারে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কিছু না থাকার ব্যাপারে বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘এগুলো ইশতাহারে আনার বিষয় নয়৷ ইশতাহারে নানা প্রতিশ্রুতি থাকে৷ আমরা আগেই তো বলেছি,  যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আমাদের সমর্থন আছে৷ ঐক্যফ্রন্ট বলেছে৷ আমরা আর ঐক্যফ্রন্ট তো একসঙ্গে৷''

ইশতাহার প্রকাশের পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় ভোট চেয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের একটি ভোট আমাদের নেত্রীর জীবনকে পুনরায় আলোয় উদ্ভাসিত করবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন