শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার দাবি, পরিবহণ নেতাদের ‘না’ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 21.11.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার দাবি, পরিবহণ নেতাদের ‘না’

গণপরিবহণে বিশেষ করে বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা৷ এ নিয়ে পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের সংঘাতও হচ্ছে৷ বাস থেকে শিক্ষার্থীকে ফেলে দেয়া এবং দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে৷

পরিবহণ মালিকরা দাবি করেছেন, গত কয়েকদিনে কমপক্ষে ৪০টি বাস ভাংচুর করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা৷ শিক্ষার্থীরা অস্বীকার করে বলেছেন, পরিবহণ শ্রমিকদের খারাপ ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়৷ শিক্ষার্থীরা বলছেন, বাস ভাড়া যেভাবে বেড়েছে তাতে ‘হাফ পাস’ বা অর্ধেক ভাড়া না হলে চরম বিপাকে পড়ছেন তারা৷ অনেক অভিভাবকই এই খরচের বাজারে হিমশিম খাচ্ছেন৷

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দৃশ্যত কোনো উদ্যোগ নেই৷ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা তাদের দাবি নিয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও সুযোগ দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ৷

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবি

ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে বাস ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ার পরই শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার দাবি সামনে আসে৷ এ নিয়ে শনিবার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের এক ছাত্রী হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন৷ ওই ছাত্রী জানান, তিনি শনিবার সকালে শনির আখড়া থেকে তার কলেজ বকশিবাজারে ‘ঠিকানা পরিবহণ’ কোম্পানির বাসে আসছিলেন৷ নতুন হিসেবে ভাড়া ১৫ টাকা, শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি ১০ টাকা দিতে চান৷ সুপারভাইজারকে ২০ টাকার একটি নোট দিয়ে ১০ টাকা ফেরত চান৷ কিন্তু টাকা না দিয়ে এ সময় তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়৷ তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘এরপর বাসটি কলেজের কাছাকাছি এলে আমাকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে পাঁচ টাকা ছুড়ে দেয়া হয়৷ আর তখন আমাকে চরম খারাপ কথা বলা হয়, যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না৷’’

অডিও শুনুন 02:02

‘আমাকে খারাপ কথা বলা হয়, যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না’

এর প্রতিবাদে বদরুন্নেসা কলেজের ছাত্রীরা রোববার কলেজের সামনে ওই বাসের কর্মচারীর শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভ করেন৷

এদিকে ১৬ নভেম্বর দনিয়া কলেজের এক শিক্ষার্থীকে যাত্রাবাড়ি এলাকায় বাস থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগে ওইদিন ছাত্ররা সড়ক অবরোধ করে৷ ‘রজনীগন্ধা’ নামে একটি পরিবহণের বাসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন তারা৷

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইদুল ইসলাম সাঈদ জানান, চারদিন আগে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বাস থেকে ধাক্কা মেরে নামিয়ে দেয়া হয়৷ তাকে শ্লীলতাহানির হুমকিও দেয়া হয়৷ গত সপ্তাহে রামপুরায়ও একজন শিক্ষার্থীকে বাস থেকে ফেলে দেয়ার পর প্রতিবাদে অর্ধশত বাস আটক করেছিলো শিক্ষার্থীরা৷

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘বাস ভাড়াসহ সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে৷ আমরা যারা শিক্ষার্থী তাদের সবার পরিবার স্বচ্ছল নয়৷ তাই মানবিক কারণে হলেও হাফ পাস চালু করার দাবি জানাচিছ৷ আগে এটা ছিলো৷ কিন্তু এখন কেন থাকবে না৷’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘বিভিন্ন মহল থেকে আমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে৷ কিন্তু এটা মুখে নয়, সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এটা করা দরকার৷ না হলে শিক্ষার্থীদের সাথে পরিবহণ শ্রমিকদের এই ঝামেলা চলতেই থাকবে৷’’

সাইদুল ইসলাম সাঈদ বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস চলে আসছিলো৷ কিন্তু পরিবহণ মালিকরা সেটা গায়ের জোরে বন্ধ করে দিয়েছেন৷ আর পরিবহণ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণও দরকার৷ যাতে তাদের আচার ব্যবহার ভালো হয়৷’’

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের নয় দফার সবশেষটিতে ঢাকাসহ সারাদেশে হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করার দাবি ছিল৷

বাসমালিকদের বক্তব্য

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘‘হাফ পাসের কোনো আইন নাই৷ আমাদের ভাড়ার যে চার্ট করে দিয়েছে বিআরটিএ, সেখানেও হাফ পাস বলে কিছু নাই৷ আগে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেয়া হতো৷ তবে এখন আর সম্ভব নয়৷ ঢাকায় এখন প্রচুর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়৷ প্রতিটি বাসেই চার-পাঁচজন স্টুডেন্ট থাকে৷ তাদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নিলে বাস মালিকরা চলবেন কীভাবে৷’’

অডিও শুনুন 02:49

হাফ পাসের কোনো আইন নাই: খন্দকার এনায়েত উল্যাহ

তিনি বলেন, ‘‘গত বছর যোগাযোগমন্ত্রী বিআরটিসি বাসে হাফ পাসের কথা বলেছিলেন৷ সরকার চাইলে বিআরটিসির বাস আরো বাড়িয়ে দিতে পারে৷ ছাত্রদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিসও চালু করতে পারে৷’’

তিনি জানান,  বিষয়টি নিয়ে তারা বিআরটিএর চেয়ারম্যানের সাথেও কথা বলেছেন৷ কিন্তু তিনি কোনো সমাধান দেননি৷ তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিনে ছাত্ররা তাদের দাবি আদায়ের নামে ৪০টি বাস ভাঙচুর করেছে৷ শিক্ষার্থীদের বাস থেকে ফেলে দেয়া এবং ধর্ষণের হুমকির অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি৷ অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব৷’’

এনিয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদারকে চেষ্টা করেও টেলিফোনে পাওয়া যায়নি৷ তিনি মোবাইলে এসএমএস এরও জবাব দেননি৷

তবে বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষক তাজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে জানান, তাদের কলেজের সামনে দিয়ে চলাচলকারী ঠিকানা ও মৌমিতা পরিবহণ হাফ পাস চালু রাখার কথা জানিয়েছে৷ ছাত্রীদের বিক্ষোভের পর পরিবহণ কোম্পানির কর্মকর্তারা তাদের কলেজে এসে তা জানিয়ে যায়৷ আর ছাত্রীদের সাথে যাতে কোনো পরিবহণ কর্মচারী খারাপ ব্যবহার না করে সে ব্যবস্থাও তারা নিবে৷

এদিকে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে প্রথম চারটি বাস দিয়ে সরকারি গণপরিবহণ চালুর সময় ছাত্রদের জন্য হাফ পাস ব্যবস্থা চালু হয়৷ সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালে সব ধরনের গণপরিবহণে ছাত্রদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেয়ার মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়৷ তারপর থেকে তা চলে আসছিলো৷ ‘সিটিং সার্ভিস’ চালু হওয়ার পর থেকে সেটি উঠে যেতে থাকে৷ তবে কিছুদিন আগেও বিভিন্ন রুটে যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে সেখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেয়া হচ্ছিল৷ কিন্তু সর্বশেষ ভাড়া বাড়ার পর এই রেওয়াজ তুলে দেন পরিবহণ মালিকরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়