শিক্ষাটা সবারই হোক | বিশ্ব | DW | 30.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

শিক্ষাটা সবারই হোক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গতরাতে পুলিশ পাহাড়ায় ক্যাম্পাস ছেড়েছেন৷ টানা দ্বিতীয় মেয়াদ উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা এ শিক্ষক পরে পদত্যাগও করেছেন৷

অধ্যাপক খোন্দকার নাসিরউদ্দিন

অধ্যাপক খোন্দকার নাসিরউদ্দিন

কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন হলেও তা আমলে নিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়েননি অধ্যাপক খোন্দকার নাসিরউদ্দিন৷ তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ন-দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি তাকে অপসারণের সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি ক্যাম্পাস ছাড়েন৷ 

একটি ফেসবুক পোস্টের জন্য গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সময়িক বহিষ্কার করার পর উপাচার্য নাসিরের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা৷ এর মধ্যে ওই শিক্ষার্থী ও উপাচার্যের কথোপকথনের একটি অডিও ভাইরাল হয়, যেখানে ওই ছাত্রীকে বকাঝকা ও হুমকি-ধমকি দিতে শোনা যায় উপাচার্যকে৷ মেয়েটির বাবাকে নিয়েও তীর্যক মন্তব্য করেন তিনি৷ এসব ঘটনা তদন্তে ইউজিসির সদস্য মো. আলমগীরকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে কমিশন৷

ওই তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মো. আলমগীর ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ‘‘আমরা আশা করি, এমন একটি সিদ্ধান্ত হবে, যাতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সুন্দর অবস্থা বিরাজ করবে৷ এ বিশ্বদ্যিালয়টি আবার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণার দ্বারে ফিরে আসতে পরে৷''

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নাসিরউদ্দিনের অধ্যায় দৃশ্যত শেষ হলো৷ কিন্তু এখানে থামলে হবে না, কোনোভাবেই এখানে থামা যাবে না৷

দায়িত্বে থাকার সময় অধ্যাপক নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা৷ ওইসব অভিযোগের পেছনে শিক্ষক রাজনীতি, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, বঞ্চনা বা সত্য-মিথ্যের মিশেল থাকতেই পারে৷ ইউজিসির তদন্ত কমিটি এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে৷ তার অনিয়ম, অদক্ষতা, দায়িত্বহীনতা ও অদূরদর্শিতারও প্রমাণ পেয়েছে কমিটি৷ 

Mohammad Shahidul Islam Khan

শহীদুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

গণমাধ্যগুলোর খবর অনুযায়ী, ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ইসলামিক আরবী, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,  শেরেবাংলা কৃষি, বেগম রোকেয়া, হাজী দানেশ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু করছে ইউজিসি৷ ক্যাম্পাস সচল করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখে ইউজিসি যত তাড়াতাড়ি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে অন্য উপাচার্যদের ক্ষেত্রেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি৷

শুধু পদ থেকে সরে যাওয়া বা সরিয়ে দেয়া একমাত্র সমাধান হতে পারে না৷ প্রমাণিত অনিয়ম-দুর্নীতিগুলোর বিচার অবশ্যই করতে হবে৷ কারণ, আইন সবার জন্যই সমান৷ যে কোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে তার যে বিচার হয়, সবক্ষেত্রেই সেই নজির স্থাপন হোক৷ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পাশাপাশি শিক্ষা এবং গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করুক, এটাই প্রত্যাশা৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন