শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে ইউনেস্কো’র উদ্যোগ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 28.05.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে ইউনেস্কো’র উদ্যোগ

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো ‘সবার জন্য শিক্ষা’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে৷ বিশ্বের ১৬৪ টি দেশ এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছে৷

পৃথিবীতে সবাইকে সব ক্ষেত্রে সমান সুযোগ দেয়া উচিত, কোন ধরণের বৈষম্যের শিকার যেন কেউ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত৷ ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকারী – কথাগুলো শুনতে ভাল লাগলেও বাস্তবে এ ধরণের ঘটনা ঘটছে না৷

গত কয়েক'শ বছর ধরেই সমানাধিকারের বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে৷ কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷ কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে পৃথিবীর অনেক দেশেই৷ ইউনেস্কো চেষ্টা করছে এই অবস্থা পরিবর্তনের৷ হাতে নিয়েছে ‘সবার জন্য শিক্ষা' প্রকল্প৷

বিশ্বের ১৬৪ টি দেশ এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছে৷ ইউনেস্কোর এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে রাজি হয়েছে দেশগুলো৷ তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে৷ বিশেষ করে সর্বস্তরে শিশুদের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার

প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশগুলো৷ এর পাশাপাশি দেশ থেকে নিরক্ষরতার হার অন্ততপক্ষে কমিয়ে অর্ধেক করার অঙ্গীকারও দেশগুলো করেছে৷ একই সঙ্গে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের ওপর জোর দেয়া হবে বলে জানানো হয়৷

লক্ষ লক্ষ শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত

ইউনেস্কোর শিক্ষা, শান্তি এবং টেকসই উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন মার্ক রিচমন্ড৷ তিনি জানান, ‘‘প্রথম পদক্ষেপ হল মানুষের মধ্যে আশা জাগাতে হবে৷ শিক্ষার মূল্য সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা দিতে হবে৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘শিক্ষার অধিকার সবার আছে৷ আমরা এই দাবি যত জোর দিয়ে জানাবো, দেশের সরকার ততই তা গুরুত্ব সহকারে দেখবে, গ্রহণ করবে৷ দেশের আইনে তা অন্তর্ভুক্ত করবে৷ তখন যে কোন সাধারণ মানুষও মনে করবে শিক্ষা সবার অধিকার৷''

অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশগুলোর মত জার্মানিতেও যে কোন শিশুকে স্কুলে পাঠানো বাধ্যতামূলক৷ ইউনেস্কোর ‘সবার জন্য শিক্ষা' প্রকল্পের পরিচালক পাওলিন রোজ এর সঠিক সংখ্যা জানেন৷ তিনি বললেন,‘‘যদিও অনেক দেশেই শিশুদের জন্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং তা মেনে চলাও হচ্ছে, কিন্তু তারপরেও সারা বিশ্বে সাড়ে ছয় কোটিরও বেশি শিশু শিক্ষার আলো থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত৷''

Kinder in Bangladesch

এর পেছনে দুর্নীতি এবং দারিদ্র্য অন্যতম কারণ বলে জানানো হয়৷ দরিদ্র দেশগুলোতে এর ফলে সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা বাধাগ্রস্ত হয়৷ যে সব পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র সেসব পরিবারের পক্ষে স্কুলের বেতন দেয়া, নিয়মিত বই-খাতা কেনা, স্কুলের ইউনিফর্ম কেনা – কিছুতেই সম্ভব হয় না৷

সবার জন্য শিক্ষা – জার্মানিতেও সহজ নয়

শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে শিশুদের স্কুলে পাঠানোর ক্ষেত্রে জার্মানি এগিয়ে রয়েছে অনেক দেশের তুলনায় বেশি৷ তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সমানাধিকারের ক্ষেত্রে জার্মানি কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে৷

জার্মানিতে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক৷ যারা উচ্চশিক্ষার পথ বেছে নিতে চায়, তাদের উচ্চ মাধ্যমিক বা ‘আবিটুয়র' পাশ করতে হয়৷ এরপরই উচ্চশিক্ষার পথে যাত্রা৷ এই দিক থেকে বলা যেতে পারে যে ন্যুনতম শিক্ষা প্রতিটি শিশু পাচ্ছে৷

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জার্মানিতে সমানাধিকারের সুযোগ খুবই কম৷ কারণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কে যাবে তা নির্ধারিত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে চতুর্থ শ্রেণিতে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা খুবই অপরিণত সময় এবং বয়স৷ এই সময়ে কোন শিশুর প্রতিভা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়৷

Kinder in Rajasthan Prostitution Nirvanavan Foundation

যে সব শিশুর বাবা-মা দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, সেসব শিশু বাড়তি কিছু সুযোগ-সুবিধা পায়৷ ধরেই নেয়া হয় এসব শিশু বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে অনেক ভাল ফলাফল করবে৷ তারা সফলও হবে৷

তবে সেক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে দরিদ্র পরিবার বা অভিবাসী পরিবারগুলো৷ দরিদ্র পরিবারগুলো অর্থের অভাবে বেসরকারি স্কুলে বাচ্চাদের পড়ানোর সামর্থ্য রাখে না৷ স্কুলে বাচ্চাদের ভর্তি করানো হচ্ছে ঠিকই, বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সমাজে পিছিয়ে পড়া বাচ্চাদের সঠিকভাবে সাহায্যও করতে পারছে না স্কুলগুলো৷ এখানে আবারো সমান সুযোগের প্রশ্ন আসছে এবং মুখ থুবড়ে পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থা৷

শিক্ষা অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়

দেখা গেছে, যখনই কোন দেশের সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় করে, কিছুদিনের মধ্যেই তার সুফল পাওয়া যায়৷ মানবাধিকারের বিভিন্ন বিষয়ে মানুষজন বেশ স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে৷ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দেশের রাজনীতিতে শিক্ষার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে৷ কারণ পড়াশোনায় যে বা যারা ভালো তাদের জন্য উচ্চপদগুলোতে আসীন হওয়া সহজ হয়৷ নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যেতে এক ধরণের প্রেরণা তাদের মধ্যে কাজ করে৷ পড়াশোনায় যারা ভালো এক সময় বড় বড় প্রতিষ্ঠানে তাদের কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়, প্রয়োজনে দেশের হাল ধরতেও তাদের এগিয়ে আসতে বলা হয়৷

প্রতিবেদন: গাবি রয়শার / মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়