শিক্ষক হয়েও বেতন পান না, কেউ রিকশা চালিয়েও সংসার চালান | বিশ্ব | DW | 02.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

শিক্ষক হয়েও বেতন পান না, কেউ রিকশা চালিয়েও সংসার চালান

বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষক সরকারি বেতনভাতার আওতায় আসার জন্য আমরণ অনশন করছেন ঢাকায়৷ তাঁরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেলে অনশন ভঙ্গ করবেন, তার আগে নয়৷ শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে তাঁদের আস্থা নাই৷

বাংলাদেশে বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সরকার যে পদ্ধতিতে বেতনভাতা দেয়, তাকে সংক্ষেপে বলা হয় এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার)৷ তবে এই বেতনভাতা পেতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের এ জন্য এমপিও-ভুক্ত হতে হয়৷ প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকরা এমপিও-ভুক্ত হলে তাঁরা সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতনের পুরোটাই সরকারি তহবিল থেকে পান৷ তাঁদের মহার্ঘ্যভাতা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসবভাতাও দেয়া হয়৷

কিন্তু বাংলাদেশে এখনো বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষক এমপিও ভুক্ত নন৷ এছাড়া প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো এমপিও-ভুক্ত হয়নি৷ তাই তারা সরকারের কাছ থেকে কোনো বেতনভাতাও পায় না৷ দেশে এমন প্রতিষ্ঠানও আছে, যা গত ১৫ বছর ধরে এমপিও-ভুক্তির অপেক্ষায় আছে৷

অডিও শুনুন 01:19
এখন লাইভ
01:19 মিনিট

‘বিনা বেতনে সংসার চালানো দুরূহ’

এমনই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বগুড়ার রায়নগর আদর্শ জুনিয়র হাইস্কুল৷ সেই স্কুলের সহকারী শিক্ষক নুরুন্নাহার বেগম৷ তিনি ১৪ বছর ধরে কোনো বেতনভাতা ছাড়াই ওই স্কুলে শিক্ষকতা করছেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিনা বেতনে সংসার চালানো দুরূহ৷ আমাদের সামান্য জমিজমা আছে৷ আমার স্বামী সেখানে চাষাবাদ করেন৷ আর আমি কিছু টিউশনি করি৷ এ দিয়েই সংসার চলে৷ ১৪ বছর ধরে আশায় আশায় আছি যদি এমপিও ভুক্ত হওয়া যায়, তাহলে আমাদের কষ্টের অবসান ঘটবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমার পরিচিত এ রকম কয়েকজন শিক্ষক আছেন, তাঁরা স্কুলের পর মুদির দোকান চালান বা অন্য কোনো কাজ করে সংসার চালান৷ আমরা অন্যের সন্তানদের শিক্ষা দেই৷ কিন্তু আমাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা দিতে পারি না, শুধুমাত্র অর্থের অভাবে৷''

দেবপ্রসাদ মন্ডল খুলনা ডুমুরিয়ার স্বর্ণদ্বীপ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ৷ তিনিও প্রেসক্লাবের সামনে অনশনে আছেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের এমন শিক্ষকও আছেন, যাঁরা সন্ধ্যার পর রিকশা চালিয়ে অথবা ওষুধ বিক্রি করে সংসার চালান৷ কেউ কেউ টিউশনি করেন৷ যাঁদের জমিজমা আছে, তাঁরা কৃষিকাজ করেন৷ কেউ আবার মাছের ঘেরে কাজ করেন৷ কারণ শিক্ষকতার বিনিময়ে তাঁরা কোনো বেতন পান না৷''

অডিও শুনুন 02:56
এখন লাইভ
02:56 মিনিট

‘এমন শিক্ষকও আছেন, যাঁরা রিকশা চালিয়ে সংসার চালান’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘২০১০ সালের নীতিমালার আলোকে ১৬২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও-ভুক্ত হয়৷ সেই নীতিমালার আলোকে বাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এমপিও-ভুক্ত হওয়ার কথা৷ কিন্তু হচ্ছে না৷ আবার এমন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আছে, যারা এমপিও ভুক্ত কিন্তু যোগ্যতা নেই৷''

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মঙ্গলবার সকালে প্রেসক্লাবের সামনে অনশনরত শিক্ষকদের মাঝে গিয়ে অনশন ভাঙার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘‘নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে৷ অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বসে আমরা আপনাদের এমপিও-ভুক্ত করবো৷'' কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর এই আহ্বানে সাড়া দেননি শিক্ষকরা৷ তাঁরা বলেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস না পেলে আমরা ঘরে ফিরে যাব না৷''

আন্দোলনরত অধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ মন্ডল বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রীর কথায় আমাদের বিশ্বাস নেই৷ কারণ শিক্ষামন্ত্রী গত ন'বছর ধরেই নীতিমালা তৈরির কথা বলে যাচ্ছেন৷ আর গতকাল (সোমবার) প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন যে, এ ব্যাপরে আমরা কিছু জানি না৷ আমাদের কোনো চিঠি দেয়া হয়নি৷ তাহলে আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কথায় কীভাবে আস্থা রাখি? আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিকে চেয়ে আছি৷ তিনি যদি বলেন সম্ভব না, তাহলে আমরা চলে যাব৷''

অডিও শুনুন 03:25
এখন লাইভ
03:25 মিনিট

‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাব’

নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ডা. বিনয়ভূষণ রায় দু'জনই অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷ সভাপতির পক্ষে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রদ্যোৎ কুমার সানা৷ তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রী আমাদের বলেছেন, নীতিমালা হলে এমপিও-ভুক্ত করা হবে৷ কিন্তু কবে বা কতদিনের মধ্যে হবে, তা তিনি বলেননি৷ এমনকি তিনি এমনও বলেননি যে, আপনারা অনশন ভঙ্গ করেন, আপনাদের এমপিও-ভুক্ত করা হবে৷ তাই আমরা সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ও ঘোষণা চাই৷ আর সেটা চাই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে৷ সেই ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমরা আমাদের আমরণ অনশন চালিয়ে যাব৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার অনুমোদিত৷ সরকারের নিবন্ধন ও পাঠদানের অনুমতির পরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চালু হয়েছে৷''

গত ২৬ সিসেম্বর থেকে এমপিও-ভুক্তির দাবি নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষকরা৷ ৩১ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা আমরণ অনশন শুরু করেন৷ নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও কলেজের এমপিও-ভুক্ত নয় এমন শিক্ষকরা এই আন্দোলন করছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও