শাশুড়ির হাতে মার খেলেন শবরীমালায় প্রবেশ করা নারী | বিশ্ব | DW | 16.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

শাশুড়ির হাতে মার খেলেন শবরীমালায় প্রবেশ করা নারী

শত বছরের প্রথা ভেঙে কেরালার শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করার মতো সাহস দেখাতে পারলেও শেষ রক্ষা হলো না কনকদুর্গার৷ ৩৯ বছর বয়সি এই নারী বাড়ি প্রবেশমাত্রই শাশুড়ির হাতে মার খেয়েছেন৷

স্থানীয় পুলিশ জানায়, গত ২ জানুয়ারি শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করে ইতিহাসের অংশ হওয়ার পর থেকেই কনকদুর্গা ও তাঁর সহযাত্রী বিন্দু আমিনিকে পালিয়ে থাকতে হয়েছে৷ সম্প্রতি বাড়ি ফিরলে তাঁর শাশুড়ি তাঁকে মারধর করেন৷ তাঁকে ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে৷

পুলিশ আরো জানায়, কনকদুর্গাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন এক সরকারি কর্মকর্তা৷ মালাপপুরাম শহরের কাছে এক হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে৷ পুলিশ তাঁকে পূর্ণ নিরাপত্তা দানের ব্যবস্থা করেছে৷ তবে তাঁর ক্ষত কতটা গভীর তা জানা যায়নি৷ শাশুড়ির বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে৷

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, প্রহৃত হওয়ার আগে কনকদুর্গা এক সাক্ষাৎকারে জানান,  মন্দিরে প্রবেশের বিষয়টি তাঁর পরিবারের কাউকেই তিনি জানাননি৷ এ কারণে পরিবারের সবাই তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত৷ কনক জানান, যদি তাঁর পরিবারের লোকজন মন্দিরে প্রবেশের সিদ্ধান্ত জানতো, তাহলে তাঁর পক্ষে আর প্রবেশ করা সম্ভব হতো না৷

তিনি আরো বলেন, লিঙ্গ বৈষম্যের প্রতীক হয়ে ওঠা শবরীমালা মন্দিরে তিনি প্রবেশ করেছেন ‘আয়াপ্পা' ভক্ত হিসেবে  নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে৷ প্রসঙ্গত, শবরীমালায় আয়াপ্পা দেবতার পূজা করা হয়৷

শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি কোনো নারীর প্রবেশাধিকার নেই৷এই নারীদেরকে ঋতুবতী ও ‘অপবিত্র' আখ্যা দিয়ে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে রেখেছিলমন্দির কর্তৃপক্ষ৷২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ঋতুবতী নারীদের ঐ মন্দিরে প্রবেশাধিকারের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় দেয়৷ গত ২ জানুয়ারিতেই  প্রথম কনক ও বিন্দু ওই মন্দিরে প্রবেশ করেন৷ এর পরপরই প্রধান পুরোহিত মন্দির শুদ্ধিকরণের জন্য বন্ধ করে দেন৷ শুদ্ধিকরণের পর মন্দির আবার খুলে দেওয়া হয়৷

সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে  সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে বিজেপি৷ সেই সময় ভাঙচুর করা হয় শতাধিক বাস৷ গ্রেফতার হয় ২ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী৷ মন্দিরে প্রবেশের দিন সংঘর্ষে বিজেপির এক কর্মী নিহত হন৷

এফএ/এসিবি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন