শারিটে ক্লিনিকের চিকিত্সা বিষয়ক মিউজিয়াম | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.10.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

শারিটে ক্লিনিকের চিকিত্সা বিষয়ক মিউজিয়াম

ইউরোপের বৃহত্তম ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকগুলির অন্যতম বার্লিনের শারিটে৷ আন্তর্জাতিক মানের চিকিত্সক ও গবেষকরা কর্মরত এই ক্লিনিকে৷ ৪টি ক্যাম্পাস নিয়ে গড়ে উঠেছে শারিটে’তে সব মিলিয়ে কর্মী সংখ্যা ১৩০০০, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৭০০০৷

default

১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শারিটে ক্লিনিকের নিজস্ব একটি মিউজিয়াম৷ মানব দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সংগ্রহটির জন্য প্রসিদ্ধ চিকিত্সক রুডল্ফ ভিরকোভ'এর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে এই মিউজিয়ামটি৷ মিউজিয়ামের পরিচালক টমাস শ্নালকে এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘সব মিলিয়ে ২৩ হাজার আর্দ্র ও শুষ্ক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করেছিলেন ডা. ভিরকোভ৷ চামড়ার নীচে মানুষের সমগ্র শরীরেরই এক প্রদর্শনী এটি৷ হৃদপিণ্ড, যকৃত, ফুসফুস, কিডনি রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে কেমন দেখায়, তা তুলে ধরা হয়েছে এই মিউজিয়ামে৷''

চিকিত্সা ক্ষেত্রে অগ্রগতি লক্ষ্যণীয়

সেই আমলের পুরানো ভবনে আজো প্রদর্শিত হচ্ছে সংগ্রহগুলি৷ তিন শতকের চিকিত্সা ক্ষেত্রে উন্নয়নের একটা ধারণাও পাওয়া যাবে এখানে৷ শো কেসে গ্লাসের পাত্রে রাখা অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলি বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা সামলে এখনও অক্ষত রয়েছে৷

টমাস শ্নালকে জানান, ‘‘আমাদের অনেক দর্শক জানতে চান, মানুষের সুস্থ ও অসুস্থ হার্ট, যকৃত, কিডনি, ফুসফুস দেখতে কেমন, কিভাবে কাজ করে এসব৷ মানুষের শরীর যন্ত্রই বা কেমন ভাবে কাজ করে তাও জানতে চান তাঁরা৷ ওষুধপত্র কিভাবে রোগ সারিয়ে তোলে সে সম্পর্কেও আগ্রহ দেখা যায় অনেকের৷''

কাঁচের শো কেসে রাখা পেস মেকার লাগানো হার্ট, ফুলে যাওয়া কিডনি, টিউমার, এমনকি মানব দেহের বিকৃত বা অস্বাভাবিক ভ্রূণগুলিকে কিছুটা কৌতূহল, কিছুটা উদ্বেগ নিয়ে নিরীক্ষণ করেন দর্শকরা৷ টমাস শ্নালকের ভাষায়, ‘‘ঊনিশ শতকের প্রথমার্ধে এই সব অস্বাভাবিক ভ্রূণকে বিজ্ঞানের এক রহস্য বলে মনে করা হত৷ তাই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হত তখন৷''

Flash-Galerie Medizinhistorische Sammlung/Charité'

প্রকৃতির অদ্ভুত সৃষ্টি

সেই ১৮৯৯ সালে মিউজিয়ামটির উদ্বোধনের সময়ই এই ধরনের অস্বাভাবিক ভ্রূণ প্রদর্শিত করেছিলেন ডা. রুডল্ফ ভিরকোভ৷ প্রকৃতির এক অদ্ভূত সৃষ্টি, যার রহস্য উন্মোচনে বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করা হত৷ চিকিত্সক ও গবেষক রুডল্ফ মূলত মৃতদেহ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালালেও, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল কিন্তু জীবিত মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষা করা৷ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মানব কোষের রোগ নির্ণয় করে চিকিত্সার উপায় খুঁজে বের করতে চেয়েছিলেন তিনি৷ টমাস শ্নালকে বলেন, ‘‘এক্ষেত্রে চিকিত্সাটা ছিল বেশ সময় সাপেক্ষ৷ দেড়শ বছর আগে মানুষের চিন্তাধারাও ছিল ভিন্ন রকম৷ এখন এটা অদ্ভুত মনে হবে৷ এখন মনে হবে ভাগ্য ভাল যে আজ আমরা এতদূর এসেছি৷''

চিকিত্সা ইতিহাসের এই যাদুঘরের প্রদর্শনীতে এলে দর্শকদের মনে এসব চিন্তাভাবনাই জেগে ওঠে৷ যাদুঘরে শুধু চিকিত্সাবিদ ভিরকোভের সংগ্রহই তুলে ধরা হয়নি৷ গত ৩০০ বছরে চিকিত্সা ক্ষেত্রে উন্নয়ন, ভুলত্রুটি এসবও তুলে ধরা হয়েছে৷ কলেরা, সিফিলিস ও যক্ষ্ণার মত রোগের সংক্রমণ সম্পর্কেও জানতে পারবেন দর্শকরা৷ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ক্রমোন্নতি, অপারেশনের যন্ত্রপাতি, অচেতন করার পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে প্রদর্শনীতে৷
কয়েক জন রোগীর ইতিহাস

গত তিনশ বছরের চিকিত্সার ইতিহাস থেকে ১০ রোগীর কথা তুলে ধরা হয়েছে প্রদর্শনীতে, যাঁরা নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ তুলে ধরা হয়েছে ১৭ বছরের এক তরুণীর কথা, যে ১৭২৭ সালে প্রচণ্ড যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে আড়াআড়িভাবে থাকা এক বাচ্চার জন্ম দিয়েছিল৷ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ফ্রিডরিশ আউগুস্ট নামে এক তরুণের কথা, যে জ্বরে ভুগে মারা যায়৷ দর্শকরা জানতে পারবেন হান্স নামে এক ব্যক্তির কথা, যিনি ১৯৫৮ সালে পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে কৃত্রিম ফুসফুসে আবদ্ধ ছিলেন বহুদিন৷ ২০০৬ সালে ৫৫ বছর বয়স্ক কার্ল নামে এক ব্যক্তি আঙুলের ক্ষত থেকে রক্তদুষ্টিতে আক্রান্ত হন৷ চারবার অপারেশন করা হয় তাঁকে, থাকতে হয় দুই সপ্তাহ কৃত্রিম কোমায়৷ তাঁর এই কাহিনি বিস্মিত করে দর্শকদের৷ যথেষ্ট উন্নতি সত্ত্বেও মানুষের রোগ সারানোটা চিকিত্সা বিজ্ঞানের জন্য আজো এক বিরাট চ্যালেঞ্জ৷ বলেন, শারিটে মিউজিয়ামের পরিচালক টমাস শ্নালকে৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন