শামীম বনাম আইভী: কোন দিকে যাবে সরকার? | বিশ্ব | DW | 17.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

শামীম বনাম আইভী: কোন দিকে যাবে সরকার?

নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং সাংসদ শামীম ওসমানের দ্বন্দ্বে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে সরকার৷ বিশেষ করে শামীম ওসমান সংঘর্ষের সময় ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা বলায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে৷

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাথে হকার বসা-না-বসা নিয়ে এই দ্বন্দ্ব এবং সংঘর্ষ৷ মেয়র আইভী হকার উচ্ছেদ করে শহরের ফুটপাথ উন্মূক্ত করছেন৷ আর সেই ফুটপাথেই হকার বসাতে চান শামীম ওসমান৷ তাঁরা দু'জনই শাসক দল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মেয়র ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন৷

অভিযোগ, মঙ্গলবার হকারদের মাঠে নামান শামীম ওসমান৷ আর তারাই আইভীর ওপর হামলা চালান৷ এমনকি শামীম ওসমানের সমর্থক বলে পরিচিত নিয়াজুল ইসলাম নামের এক যুবলীগ নেতা প্রকাশ্যে পিস্তল বের করে মহড়াও দেন৷ আর তার সেই মহড়ার ছবি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশও হয়েছে৷ ওই নেতা অবশ্য পরে গণপিটুনির শিকার হন৷ সংঘর্ষের সময় শামীম ওসমান নিজেই ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং তাঁকে হ্যান্ড মাইকে কথা বলতেও দেখা যায়৷ শামীম ওসমান অবশ্য মঙ্গলবারই দাবি করেছেন, ‘‘দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশেই আমি সেখানে গিয়েছি৷’’ সংঘর্ষে ১৫ জন সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হন৷ মেয়র আইভীও আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন৷

শামীম ওসমানের ওই কথার জবাব দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের৷ তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমাকে যখন নারায়ণগঞ্জ পুলিশের এসপি ঘটনা জানান, তখন আমি দুই জনকেই (সেলিনা হায়াৎ আইভী ও শামীম ওসমান) ফোন করে বলেছি, অনভিপ্রেত ঘটনা স্টপ করতে৷ দু'পক্ষকেই ডাকবো এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখবো৷ আমি শামীম ওসমানকে ফোন করবো কি মারামারি করতে? মারামারি বন্ধ করতেই আমি ফোন করেছি৷ এই প্র্যাকটিসটা বন্ধ করতে হবে৷ আজ (বুধবার) সকালেও দুইজনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে৷’’

বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আইভী৷ তিনি হামলার উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যখ্যা করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘হকারদের ইস্যু করে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করা হয়েছে৷ আমার নিকট আত্মীয়, ভাই, ভাগ্নে ও ভগ্নিপতিসহ কাছের নেতাকর্মীদের মুখ দেখে দেখে হামলা করা হয়েছে৷ ইটবৃষ্টি ঝরানো হয়েছে৷ আমি এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবো৷’’

আইভী বলেন, ‘‘হকারদের উচ্ছেদ ঘটনাটি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছিলাম৷ কিন্তু, এরই মধ্যে ৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান অযাচিতভাবে হকার বসানোর ঘোষণা দিয়ে পরিবেশকে উত্তপ্ত করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে৷’’

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যখন আমার ওপর ইটবৃষ্টি ঝরানো হচ্ছিল, তখন পুলিশ কোথায় ছিল? এমন বিষয় ঘটতে পারে তা জানিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদেরকে সাবধানও করা হয়নি৷’’ বিকেলে নারায়ণগঞ্জে আরেক সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান দাবি করেন, ‘‘শামীম ওসমান বনাম আইভী নয়, সংঘর্ষ হয়েছে আইভী ও হকারদের মধ্যে৷ আমাকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ফোন করে সেখানে যেতে বলেছেন৷ আমি না গেলে গতকাল সেখানে অনেকের অস্তিত্ব থাকত না৷ আমি যাওয়ার পর সেখানে কোনো ঘটনা ঘটেনি৷ একটা ইটও পড়েনি৷’’​​​​​​​

তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নিজে হকারদের আগে পুর্নবাসন করতে বলেছেন৷ তারপর উচ্ছেদ করতে বলেছেন৷ তাঁদের পুর্নবাসন না করে কেন উচ্ছেদ করা হচ্ছে?’’

তিনি আরো দাবি করেন, ‘‘আইভীর ওপর কোনো হামলা হয়নি৷ আইভী বিএনপি'র লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে হকারদের ওপর হামলা করে৷ শামীম ওসমান বলেন, আমি এখন গরীব মানুষের জন্য রাজনীতি করি৷ এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি তাঁদের জন্য রাজনীতি করে যাবো৷’’

অস্ত্রধারী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘নিয়াজুল আমাদের লোক, সে যুবলীগের কর্মী৷ তার ওপর হামলা হওয়ার পরই সে পিস্তল বের করেছে৷’’

শাসক দলের মেয়র এবং সংসদ সদস্যের মধ্যে এই ঘটনায় সরকার বিব্রত৷ তাঁদের দু'জনকেই ডেকে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়৷ আজ-কালের মধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের নিয়ে বৈঠক করবেন৷ তাঁদের নিয়ে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বসবেন বলে জানা গেছে৷ এরই মধ্যে তাঁদের সঙ্গে তিনি কয়েক দফা কথাও বলেছেন বলে জানা গেছে৷

অডিও শুনুন 01:20
এখন লাইভ
01:20 মিনিট

এটা অনাকাঙ্খিত এবং অনভিপ্রেত: মজুমদার

বুধবারের ঘটনা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে৷ এ নিয়ে কোনো মামলা না হলেও পুলিশ দাবি করেছে, মঙ্গলবারে ঘটনায় কারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে, তারা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন৷

নারায়ণগঞ্জের এই পরিস্থিতিকে ‘অশনি সংকেত’ বলে অভিহিত করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘একজন আইন অনুযায়ী কাজ করতে গেছেন, আরেকজন হকারদের ফুটপাথে বসাতে গেছেন৷ আর এই সংঘর্ষে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করেছে৷ এটা অনাকাঙ্খিত এবং অনভিপ্রেত৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘তারা দু'জনই শাসক দলের৷ কিন্তু যিনি ন্যায় করেছেন, তার ওপর হামলা করেছেন শাসক দলেরই আরেকজন৷ ন্যায়পরায়ণকে বাধা দিচ্ছে অন্যায়৷ এটা যদি দল না দেখে, তাহলে ভবিষ্যতে ভোটের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে৷ দলের এই কোন্দল দলের জন্য যেমন ক্ষতিকর, সাধারণ মানুষও এর  শিকার হয়৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন