শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য তৎপরতা | বিশ্ব | DW | 18.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য তৎপরতা

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) বাংলাদেশে শন্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য কাজ করছে৷ তাদের এক অনুষ্ঠানে কূটনীতিকরা শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলেছেন৷ ডিআই এই লক্ষ্য অর্জনে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে৷

সোমবার ঢাকায় ডেমেক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘শান্তিতে বিজয়' শীর্ষক একটি নির্বাচনি ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়৷ আর সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ৪০টি জেলা থেকে আসা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় চারশ' রাজনৈতিক নেতা অংশ নেন৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও ছিলেন সেখানে৷ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নেতারাও ছিলেন৷ অনুষ্ঠানে  একই মঞ্চে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস নির্বাচনের শপথ নেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা রাজনৈতিক নেতারা৷

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ন ও আদর্শ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকার সবসময় আন্তরিক রয়েছে৷ আগামীতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য ভুল ও মিথ্যা প্রচারনা থেকে সকলকে দূরে থাকতে হবে, বিদ্বেষ ছড়ানোর পথ থেকেও দূরে সরে আসতে হবে৷''

বিএনপির  স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, ‘‘অনুষ্ঠানটি অদ্বিতীয়, কারণ, এখানে সারা দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহের নেতারা এক ছাদের নীচে একত্রিত হয়েছেন৷ আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই, একই সাথে নির্বাচনের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই৷ তবে শান্তির পূর্বশর্ত হলো সামাজিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার৷''

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, ‘মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পথে থাকা বাংলাদেশের জন্য অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পরিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা থাকা উচিত৷''

অডিও শুনুন 04:08

‘প্রধান দু'টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সহনশীলতার চর্চা দরকার’

তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী ও সমর্থকদের অবশ্যই মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা, প্রচারণা চালানো, ভয়ভীতি, প্রতিশোধ বা জবরদস্তিমূলক বিধিনিষেধ ছাড়াই সমাবেশ করার স্বাধীনতা থাকা উচিত৷ বাংলাদেশিদের অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে নির্বাচনের আগে, নির্বাচন চলাকালে এবং নির্বাচনের পরে সংশ্লিষ্ট অহিংস আচরণের আহ্বান জানাতে হবে৷''

ব্রিটিশ হাই কমিশনার অ্যালিসন ব্লেক বলেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণের প্রাপ্য৷ আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে সমর্থন করি৷ আজকে আমরা সবাই শান্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই৷''

তিনি আরো  বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং রাজনীতি দেশের সবার উজ্জল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে৷ আজকে আমরা সবাই এখানে একত্রিত হয়েছি, কারণ, আমরা সবাই একই আকাঙ্খা ধারণ করি৷''

মঙ্গলবার ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক আমিনুল এহসান অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শান্তিতে বিজয় ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনগুলো যেন শান্তিপূর্ণ হয়৷ এজন্য বাংলাদেশের প্রধান দু'টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে সহনশীলতার চর্চা দরকার, সেই চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা৷ পাশাপাশি মানুষও চায় তারা পরস্পরের সঙ্গে বসুক , কথা বলুক, আলোচনা করুক৷ সংলাপের মাধ্যমে তাদের দ্বন্দ্বগুলো নিরসন হোক৷ সেটা যেন কোনোভাবেই সহিংসতায় পরিণত না হয়৷ আমরা গতকালের (সোমবার) অনুষ্ঠানে দেশের সাধারণ মানুষের এই নয়ে বক্তব্য ভিডিও'র মাধ্যমে তুলে ধরেছি৷''

তিনি জানান, ‘‘আমাদের এই কাজ আরো বাড়বে৷ আমরা ‘শান্তিতে বিজয়' এই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এখন ৪০ জেলার প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসাবো৷ সাধারণ মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরবেন নেতাদের কাছে৷ এর বাইরে আমরা পিস র‌্যালির আয়োজন করছি৷ রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের কর্মসূচি নিচ্ছি৷''

অডিও শুনুন 02:22

‘একটি দেশের নির্বাচন নিয়ে অন্য দেশ বা আন্তর্জাতিক সংগঠন কথা বলতেই পারে’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন,‘‘স্ট্রেংদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ প্রকল্পের আওতায় আমরা এই ক্যাম্পেইন করছি৷ এখানে ইউএসএআইডি ও ইউকেএইড আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে৷ তাই ইউএস এবং ইউকেসহ অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা এই অনুষ্ঠানে থাকেন৷ তবে আরেকটা দিক হলো বিদেশি কূটনীতিকরাও তো বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহনশীল রাজনীতির বিষয়ে অ্যাডভোকেসি করছেন৷ তাঁরাও তো এই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলছেন৷ তাঁরাও এই বিষয়ে স্টেকহোল্ডার৷ তাই একসঙ্গে কথা বলা৷ আমরা যা বলছি, তা যদি রাষ্ট্রদূতরা বলেন, তার প্রভাব বেশি পড়ে৷''

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞার বিভাগের শিক্ষক ড. শান্তনূ মজুমদার একই প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বলেন,‘‘নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ফোরাম সক্রিয় হবে, এতে দোষের কিছু নেই৷ আমরা তো আর দরজা-জানালা বন্ধ করে থাকতে পারব না৷ ডিআই বা ইউএন বডি এরা কথা বলতেই পারে৷ তা নিয়ে সন্দেহের কিছু নেই৷ যদি আমরা ঠিক থাকি, তাহলে তো আর কোনো সমস্যা নেই৷ একটি দেশের নির্বাচন বা অন্য আরো অনেক বিষয় নিয়ে অন্য দেশ বা আন্তর্জাতিক সংগঠন কথা বলতেই পারে৷ তবে তা আইনের বাইরে গেলে সেটা ভিন্ন কথা৷ আমরা দেখি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার বা অন্য বিষয় নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে৷ আবার চীনও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে৷ সেটা হয়তো আমাদের চোখে পড়ে না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন