শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান সুমন জাহিদ কি হত্যার শিকার? | বিশ্ব | DW | 15.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান সুমন জাহিদ কি হত্যার শিকার?

শহীদ বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভীনের ছেলে সুমন জাহিদ যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছেন৷ মৃত্যুর আগে হত্যার হুমকি দেয়া হয় তাঁকে৷ কয়েকদিন আগে  থানা থেকে সাবধানে চলাফেরা করতে বলা হয়৷ সুরতহাল প্রতিবেদনও জাগিয়েছে সন্দেহ৷

বৃহস্পতিবার সকালে খিলগাঁওয়ের বাগিচা এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভীনের ছেলে সুমন জাহিদের দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানা পুলিশ৷ লাশের সুরতহাল এবং ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার তাঁকে দাফন করা হয়৷কমলাপুর রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে পুলিশ৷ কিন্তু সুমন জাহিদের পরিবার মনে করছে এটা হত্যাকাণ্ড৷

নিহত সুমন জাহিদের ভায়রা এটিএম এমদাদুল হক বুলবুল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সুমন জহিদ পলাতক যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে  ট্রাইবুন্যালে সাক্ষী দিয়েছেন৷ এছাড়া তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম একাত্তরের সঙ্গে ছিলেন৷ দুই বছর আগে থেকেই তাঁকে হুমকি দেয়া হচ্ছে৷ ১৫-২০ দিন আগেও শাহজাহানপুর থানা থেকে তাঁকে সাবধানে চলাফেরা করতে বলা হয়৷ থানা থেকে বলা হয়েছিল, ৫২ বছর বয়সি সুমন জাহিদের হামলা হতে পারে৷ এ কারণে থানায় জিডিও করেছিলেন কর্মজীবনে ব্যাংক কর্মকর্তা সুমন জাহিদ৷

অডিও শুনুন 04:26
এখন লাইভ
04:26 মিনিট

‘তাঁর শরীর থেকে শুধু মাথা বিচ্ছিন্ন হয়েছে’

এটিএম এমদাদুল হক বুলবুল আরো বলেন, ‘‘তিনি সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আমরা তাঁর মৃত্যুর খবর পাই৷ আমি নিজে ঘটনাস্থল এবং তাঁর মরদেহ দেখেছি৷ হাসপাতাল মর্গেও আমি ছিলাম৷ ওনার পরনে একটা ফতুয়া এবং কালো প্যান্ট ছিল৷ তাঁর শরীর থেকে শুধু মাথা বিচ্ছিন্ন হয়েছে৷ জাস্ট গলাটা কাটা৷ শরীরের আর কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন বা রক্তের দাগ নেই৷ ট্রেনে কাটা পড়লে সাধারণত শরীর থেতলে যায়৷ কাপড়-চোপড় ছিড়ে যায়৷ ডেড বডিও ট্রেনের চাকা কিছুদূর টেনে নিয়ে যায়৷ কিন্তু এক্ষেত্রে তাঁর কিছুই ঘটেনি৷  তাই আগের হুমকি এবং মৃতদেহের অবস্থা দেখে আমাদের এটা হত্যাকাণ্ড বলেই সন্দেহ হচ্ছে৷''

এটিএম এমদাদুল হক বুলবুল জানান, ‘‘যে জায়গায় তাঁকে অ্যাটাক করা হয়েছে বলে ধারণা করি, সেটা একটা চায়ের দোকানের মতো৷ সেখানে এক মহিলা চা বানায় ও তাঁর মেয়ে কাজ করে৷ সকাল সাড়ে ৮টা ৯টার দিকে ঘটনা ঘটেছে৷ বাসা থেকে সাড়ে ৮টার দিকে বের হয়েছেন৷ ১০-২০ মিনিটের মধ্যে বাসায় খবর চলে আসে৷ সে প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হতো৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘তার নিজের বাড়ি আছে, আর্থিক কোনো সংকট নেই৷ আমি তাকে ঘনিষ্ঠভাবে চিনি৷ সে অনেক ঠান্ডা মাথার মানুষ৷ তার আত্মহত্যার কোনো কারণ থাকতে পারে না৷''

কমলাপুর রেলওয়ে থানার সাব ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন সুমন জাহিদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন৷

অডিও শুনুন 01:56
এখন লাইভ
01:56 মিনিট

‘শরীরের আর কোথাও আঘাতের তেমন কোনো চিহ্ন নেই’

তিনিও ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তাঁর মাথাটাই বিচ্ছিন্ন হয়েছে৷ শরীরের আর কোথাও আঘাতের তেমন কোনো চিহ্ন নেই৷ নাক, মুখ, চোখে কোনো আঘাত ছিল না৷ তাঁর পরনে একটি লাল রঙয়ের হাফ হাতা ফতুয়া এবং কালো প্যান্ট ছিল৷ সেগুলো স্বাভাবিক ছিল৷ ছিড়ে যায়নি৷ তার বডিও অক্ষত৷ আর কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই৷''

তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে আমরা অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছি৷ কিন্তু এখন ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে এটা হত্যাকাণ্ড, না আত্মহত্যা৷ সাধারণভাবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে ট্রেনে কাটা পড়েছেন, না হয় তিনি আত্মহত্যা করেছেন৷''

সুমন জাহিদের মৃত্যুর ঘটনা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগসহ আরো কয়েকটি বিভাগ আলাদা আলদাভাবে তদন্ত করে দেখছে৷  কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াসিন ফারুক মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘র‌্যাব, ডিবি এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিটসহ আরো অনেকে এখন ঘটনাটি তদন্ত করছেন৷ আমরাও তদন্ত করছি৷ উনি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তা তদন্তের পর বোঝা যাবে৷ এখন ঠিক বলা যাচ্ছে না৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি  বলেন, ‘‘ওনাকে কেউ  ট্রেন লাইনে ধাক্কা দিলে শুধু গলায় না, শরীরের অন্য স্থানেও আঘাতের চিহ্ন থাকতো৷ কিন্তু তা নেই৷ আরো কিছু বিষয় আমরা জেনেছি, সেগুলো তদন্ত করে দেখছি৷ দু'বছর আগে তাঁকে থ্রেট দেয়া হয়েছিল৷ তখন জিডি করেছিলেন৷ সকালে হাঁটতে বের হতেন৷''

অডিও শুনুন 02:27
এখন লাইভ
02:27 মিনিট

‘সব কিছুই তদন্ত সাপেক্ষ’

ইয়াসিন ফারুক মজুমদার আরো বলেন, ‘‘সুমন জাহিদ ফার্মার্স ব্যাংকে চাকরি করতেন৷ সেখান থেকে কিছুদিন আগে চাকরি ছেড়ে দেন৷ তাঁর স্ত্রী'র সঙ্গেও কথা বলে কিছু তথ্য পেয়েছি৷ তবে সব কিছুই তদন্ত সাপেক্ষ৷ আমরা রেল পুলিশ ট্রেনে কাটা পড়ে কেউ মারা গেলে সাধারণত অপমৃত্যুর মামলা করি৷ তাই করেছি৷''

উত্তর শাজাহানপুরের ৩১২ নম্বর ভবনের সপ্তম তলায় স্ত্রী দ্রাকসিন্দা জবীন টুইসি ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন সুমন জাহিদ৷ ওই বাড়িটি  তাঁদের নিজেদের৷  সুমন জাহিদ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালে যে দু'জন যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দেন, তারা যুক্তরাজ্যে পলাতক আছেন৷ ট্রাইবুন্যাল ওই দু'জনের ফাঁসির রায় দিয়েছে৷ ১৯৯৪ সালে একাত্তরের ঘাতক দালালদের বিচারের জন্য গঠিত গণআদালতের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন তিনি৷ তাঁর ভায়রা জানান, ‘‘ফার্মার্স ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর সামনের মাসে নতুন একটি ব্যাংকে যোগ দেয়ার কথা ছিল তাঁর৷''

সুমন জাহিদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো হত্যা মামলার  উদ্যোগ নেয়া হয়নি৷ পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের উর্ধতন মহল বিষয়টি দেখছে৷

এদিকে আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি  বলেছেন, ‘‘সুমন জাহিদের মৃত্যু হত্যা, না আত্মহত্যা সেটা বলার সময় এখনো আসেনি৷ একটা মৃতদেহ যখন পাওয়া যায়, সেটা যদি স্বাভাবিক না হয়, তাহলে তার একটা তদন্ত হয়৷ সুমন জাহিদের বিষয়টিও এখনো তদন্তের পর্যায়ে আছে৷'' ঈদ উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিকেলে কমলাপুর রেল স্টেশন পরিদর্শনে গেলে  সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও