শরীর যদি নিজেই রোগের চিকিৎসা করতে পারতো! | অন্বেষণ | DW | 27.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

শরীর যদি নিজেই রোগের চিকিৎসা করতে পারতো!

জটিল রোগের চিকিৎসার স্বার্থে ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া শরীরকে বেশ কাবু করে ফেলতে পারে৷ কিন্তু শরীর নিজেই সেই চিকিৎসা করলে কেমন হয়? বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে আরএনএ-র সাহায্যে সেই অসাধ্যসাধন করার স্বপ্ন দেখছেন৷

আরএনএ-র সাহায্যে কি অত্যাধুনিক ওষুধ সৃষ্টি করা সম্ভব? গোটা বিশ্বে গবেষকরা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন৷ জার্মানির ট্যুবিঙেন শহরের এক গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা এইঅণুর রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করছেন৷ বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় এর নাম ‘মেসেঞ্জার আরএনএ'৷ সেটির মাধ্যমে শরীর সম্ভবত তার নিজের চিকিৎসা নিজেই করতে পারবে৷

জীববিজ্ঞানী মারিওলা ফোটিন-ম্লেচেক বলেন, ‘‘মেসেঞ্জার আরএনএ এক অসাধারণ অণু৷ বলা যায়, প্রকৃতিই চিকিৎসার এজেন্ট হিসেবে এটি সৃষ্টি করেছে৷ সেটি আমাদের কোষগুলিকে মলিকিউলার ব্লুপ্রিন্ট দেয়৷ তা অনুসরণ করে কোষ যে কোনো ধরনের প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে৷ এই প্রোটিন এমনকি মানুষের নিজস্ব নয়৷ সেগুলি ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস থেকে আসে৷ সে কারণে মেসেঞ্জার আরএনএ-কে থেরাপিউটিক এজেন্ট হিসেবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়৷ ইমিউন সিস্টেম ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া থেকে আসা প্রোটিনকে হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে শেখে এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে৷ প্রকৃতির মধ্যেই এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে৷ আমরা আরএনএ-কে রাসায়নিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন করি না, বরং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার উপাদান খুঁজে তা পরে আরএনএ-র মধ্যে ঢুকিয়ে দেই৷ এভাবে সেই অণুর কিছু বৈশিষ্ট্যের উন্নতি করি৷''

ভিডিও দেখুন 04:24

শরীর কি চিকিৎসা করতে পারে!

গবেষকদের মতে, বায়োমলিকিউলের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে৷ ক্যানসার চিকিৎসা, প্রতিষেধক, সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে স্থিতিশীল টিকা তৈরির ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা যাবে৷ বায়োকেমিস্ট হিসেবে ফ্লোরিয়ান ফন ডেয়ার ম্যুলবে বলেন, ‘‘আরএনএ উৎপাদনের প্রধান সুবিধা হলো, আমরা এর মাধ্যমে আসলে এক প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টির কথা বলছি৷ যে অণুকেই লক্ষ্যবস্তু করা হোক না কেন, সেটিকে ছাড়াই আমরা একই উৎপাদন কার্যপ্রণালী ব্যবহার করছি৷ ক্যানসারের টিকা হোক, বা প্রতিষেধক টিকা হোক, উৎপাদন প্রক্রিয়া সব সময়ে একই থাকে৷ সেই প্রক্রিয়াকে যে তথ্য দেওয়া হয়, শুধু সেটাই পরিবর্তন করা হয়৷''

২০১৪ সালে এই গবেষণার কনসেপ্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম ‘ইনোভেশন ইনডিউসমেন্ট' পুরস্কার জিতে নিয়েছিল৷ যে সব ইউরোপীয় উদ্ভাবনকারী নির্দিষ্ট কিছু সমস্যার সমাধানে যুগান্তকারী দিশা দেখাচ্ছেন, তাঁরা এই পুরস্কার পান৷

বিজ্ঞানীরা বর্তমানে এই প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিকে নজর দিচ্ছেন৷ প্রস্টেট ক্যানসারের মতো রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাঁরা উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন৷ কিওর ভ্যাক কোম্পানির কর্ণধার ইংমার হ্যোর বলেন, ‘‘এই উদ্যোগ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগের পথে প্রাথমিক পদক্ষেপ৷ এর সীমাহীন সম্ভাবনা রয়েছে৷ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই গবেষণাকে কীভাবে প্রয়োজনীয় পণ্যে রূপান্তরিত করা যায়? বাজারে কবে ওষুধ আনতে পারবো? বর্তমানে ক্যানসার রোগীদের উপর পরীক্ষা চলছে৷ প্রথম পদক্ষেপগুলির ফলে উপকার পাওয়া যাচ্ছে৷ এই সব গবেষণা সত্যি চূড়ান্ত হলে আমাদের এই প্রযুক্তির ভিত্তিতে প্রথম ওষুধ বাজারে আনার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবো৷''

ফুসফুসের ক্যানসারের মোকাবিলা ও সাধারণ পরিবেশে প্রতিষেধক টিকা সৃষ্টির মতো চিকিৎসার ক্ষেত্রেও দ্রুত সাফল্যের আশা করা হচ্ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন