শরীর ও মনের উপর রংয়ের সত্যি প্রভাব রয়েছে | অন্বেষণ | DW | 21.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

শরীর ও মনের উপর রংয়ের সত্যি প্রভাব রয়েছে

প্রকৃতির সবুজ রং দেখলে কার না মন ভালো হয়ে যায়? শরীর ও মনের উপর রংয়ের প্রভাব সম্পর্কে নানা প্রচলিত ধারণা চালু থাকলেও বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুযায়ী সেগুলি কি সত্য? পরীক্ষার মাধ্যমে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে৷

রং আমাদের আবদ্ধ করে, উদ্দীপনা জোগায় এবং আবেগ জাগিয়ে তোলে৷ মনস্তাত্ত্বিক হিসেবে ড. ডানিয়েল ওবারফেল্ড-ট্ভিস্টেল মনে করেন, মানুষের মানসিক কর্মক্ষমতা অথবা অনুভূতির উপর রংয়ের প্রভাব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু অনুমান রয়েছে৷

লাল রং নাকি উদ্দীপনা জাগায়, নীল একগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে, সবুজ স্নায়ু শিথিল করে৷ কিন্তু এমন ধারণার সপক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে কি? তিনটি পরীক্ষার মাধ্যমে তা জানার চেষ্টা চালানো হয়েছে৷

মনস্তাত্ত্বিক হিসেবে ড. ডানিয়েল ওবারফেল্ড-ট্ভিস্টেল কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে এক পরীক্ষা করেছেন৷ রং দেখে তাঁদের কোনো শারীরিক প্রতিক্রিয়া হয় কিনা, সেটাই ছিল এই পরীক্ষার লক্ষ্য৷ সবার আগে তিনি তাঁদের ত্বকের কনডাক্টিভিটি বা সঞ্চালনশক্তি পরিমাপ করেন৷ উত্তেজনার কারণে হাত ঘেমে গেলে তার মাত্রা বেড়ে যায়৷

তিনি স্বেচ্ছাসেবীদের ৪টি রং দেখিয়েছেন৷ লাল, সবুজ, নীল ও ধূসর রংয়ের স্যাচুরেশন বা পরিপৃক্তি এবং ঔজ্জ্বল্যেও পার্থক্য রাখা হয়েছে৷

সেইসঙ্গে স্বেচ্ছেসেবীদের এক প্রশ্নপত্রে নিজেদের অনুভূতি লিখতে হয়েছে৷ তাঁরা নিশ্চিন্ত ও আরাম বোধ করছেন, নাকি উত্তেজনা ও উচ্ছ্বাস বোধ করছেন? অস্বস্তি ও মন খারাপ লাগছে, নাকি মনোরম পরিবেশে আনন্দ বোধ করছেন?

একজন বললেন, তীব্র রংয়ের ক্ষেত্রে তাঁর অস্বস্তিবোধ হচ্ছিল৷ কিন্তু অনুভূতি ও শারীরিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কি সামঞ্জস্য থাকে? পরীক্ষার মূল্যায়নের সময় তা জানা যায়৷

তার আগে দ্বিতীয় পরীক্ষার দিকে নজর দেওয়া যাক৷ মনস্তাত্ত্বিক ড, ক্রিস্টফ ভিৎসেল স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘উষ্ণতা ও আরাম বোধ সম্পর্কে আমাদের পরীক্ষায় আপনাদের স্বাগত জানাই৷ পরীক্ষার সময় আমরা তাপমাত্রার পরিবর্তন করবো৷ প্রতি ১০ মিনিট অন্তর আপনাদের অনুভূতি জানতে চাইবো৷''

কিন্তু এটি আসলে অর্ধসত্য৷ স্বেচ্ছাসেবীরা জানেন না যে তাঁদের পরিবেশের আলোর মধ্যে রংয়ের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা স্থির রাখা হয়েছে৷ একটি দল উজ্জ্বল সূর্যালোকের সঙ্গে তুলনীয় আলোর নীচে বসে আছে৷ তার মধ্যে লালচে হলুদের মাত্রা বেশি৷

দ্বিতীয় দলের আলোর মধ্যে নীলাভ অংশ বেশি৷ অনেকটা মেঘে ঢাকা আকাশের রংয়ের মতো৷ দুই দলের ক্ষেত্রেই ঘরের তাপমাত্রা ধাপে ধাপে ২৪ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে কমিয়ে আনা হয়েছে৷

উত্তাপের অনুভূতির উপর আলোর কোনো প্রভাব আছে কিনা, ক্রিস্টফ ভিৎসেল-কে তা খুঁজে বার করতে হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি ভেবেছিলাম, নিশ্চয় কিছুই জানা যাবে না৷ ভেবেছিলাম, আলোর রং কীভাবে আর আমাদের উত্তাপের অনুভূতির উপর প্রভাব ফেলবে!''

‘উষ্ণ' লাল আলো কি সত্যি আমাদের শরীর গরম রাখে এবং ‘শীতল' নীল রং শীতের বোধ আনে? কোন তাপমাত্রায় স্বেচ্ছাসেবীরা সোয়েটার ও জ্যাকেট পরতে চাইবেন?

প্রথম পরীক্ষার দিকে আবার ফিরে তাকানো যাক৷ প্রশ্ন ছিল, আমাদের অনুভূতির উপর রংয়ের কতটা প্রভাব রয়েছে? দেখা গেল, বেশিরভাগ স্বেচ্ছাসেবী মাঝারি তীব্রতার রংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন৷ লাল, সবুজ ও নীল রংয়ের মধ্যে এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই৷

আনা গালনস্কা/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন