শরীরে গভীরে থেকে যায় উলকির রং | অন্বেষণ | DW | 21.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

শরীরে গভীরে থেকে যায় উলকির রং

অনেক মানুষ শরীরে উলকি বা ট্যাটু আঁকান৷ সেই উলকি সাধারণত স্থায়ীভাবে ত্বকের উপর থেকে যায়৷ বিজ্ঞানীরা এবার উলকির কালির ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছেন৷ এমনকি যকৃতের মধ্যেও তার চিহ্ন পাওয়া গেছে৷

মিশায়েল তাঁর বহুদিনের এক স্বপ্ন পূরণ করতে চান৷ ট্যাটু শিল্পী রিচি তাঁকে সেই কাজে সাহায্য করতে পারেন৷ রঙিন, বাস্তবধর্মী ও দীর্ঘস্থায়ী ট্যাটু বা উলকি আঁকাই তাঁর বিশেষত্ব৷

শরীরের সংযোজক তন্তুর মধ্যে পাকাপাকিভাবে থেকে যায় বলে বহুকাল ধরে বিজ্ঞানীদের ধারণা৷ বাস্তবে কিন্তু তা ঘটে না৷ সেগুলি আসলে ম্যাক্রোফেজ বা স্ক্যাভেঞ্জার কোষে জমা হয়৷

উলকি কেন দীর্ঘস্থায়ী?

মার্সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল রোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ উলকির দীর্ঘ আয়ুর রহস্য সমাধানের ক্ষেত্রে অগ্রসর হয়েছেন৷ সেই লক্ষ্যে তাঁরা বিশেষ প্রজনন প্রক্রিয়ায় এক ‘সুপার মাউস' সৃষ্টি করেছিলেন৷ এই ইঁদুরের বিশেষত্ব হলো, গবেষকরা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে সেটির ত্বকের স্ক্যাভেঞ্জার কোষ মেরে ফেলতে পারেন৷ কিন্তু চরম জীবাণুমুক্ত পরিবেশেই সেটা করা সম্ভব৷ কারণ এই কোষ শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ৷

ইমিউন বায়োলজিস্ট সঁদ্রিন অঁরি ও তাঁর টিম এই ধরনের একদল ইঁদুরের লেজে উলকি এঁকেছিলেন৷ ট্যাটুর রং যদি সত্যি পাকাপাকিভাবে ম্যাক্রোফেজে জমা হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে স্ক্যাভেঞ্জার কোষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে উলকিরও উধাও হয়ে যাওয়া উচিত৷ কিন্তু বাস্তবে সেটা ঘটলো না৷

গোটা প্রক্রিয়া ভালোভাবে বুঝতে সঁদ্রিন অঁরি মাইক্রোস্কোপের নীচে ট্যাটু আঁকা ইঁদুরের স্ক্যাভেঞ্জার কোষ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলেন৷ সঁদ্রিন বলেন, ‘‘আমরা লক্ষ্য করলাম, যে ম্যাক্রোফেজের মৃত্যুর সময় তা কালি ছেড়ে দিচ্ছে৷ ত্বকের মধ্যে সব কালি মুক্ত হয়ে গেছে৷ আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে দেখা যাচ্ছে, যে নতুন করে আসা ম্যাক্রোফেজ সেই কালি দখল করছে৷ ফলে কালি আবার ম্যাক্রোফেজে প্রবেশ করছে৷''

রং যে সত্যি একটি ম্যাক্রোফেজ থেকে আরেকটিতে চলে যায়, একেবারে নতুন এই জ্ঞান সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে তাঁরা ভুলত্রুটির সব সম্ভাবনা দূর করতে চেয়েছিলেন৷ তাই তাঁরা উলকি আঁকা ইঁদুরের ত্বক তুলে নিয়ে অন্য একটি ইঁদুরের শরীরে বসিয়েছিলেন৷ রং কি সত্যি একটি প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীর শরীরে চলে যাতে পারে? বাস্তবে সত্যি তা ঘটলো৷ সঁদ্রিন অঁরি বলেন, ‘‘এই সব পরীক্ষা থেকে আমরা জানতে পেরেছি, যে আসলে ট্যাটু অত্যন্ত গতিশীল এক প্রক্রিয়া৷ কোষ সবসময়ে নতুন কালি গ্রহণ করে, তারপর ছেড়ে দেয় এবং নতুন করে তা গ্রহণ করে৷''

উলকি কেন ফ্যাকাশে?

কয়েক বছর পর উলকি কেন একটু অস্পষ্ট ও ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে, এর ফলে তা আরও স্পষ্ট হয়ে গেল৷ কারণ নতুন স্ক্যাভেঞ্জার কোষ সব ক্ষেত্রে অন্য কোষের ছেড়ে দেওয়া কালি হুবহু গ্রহণ করতে পারে না৷

 অবশিষ্ট রংয়ের কী দশা হয়,  জার্মানির রেগেন্সবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত পদার্থবিদ ভল্ফগাং বয়েমলার তা নিয়ে গবেষণা করছেন৷ তিনি মৃত প্রাণীর উলকির লসিকাগ্রন্থি কেটে জানতে পেরেছেন, যে রঙের কিছু অংশ সেখানে জমা হয়৷ উলকির রং অনুযায়ী সবুজ অথবা লাল রং সেখানে দেখা যায়৷ বয়েমলার বলেন, ‘‘আনুমানিক প্রায় ৩০ শতাংশ রং ত্বকে থেকে যায়৷ রংয়ের তীব্রতা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় উলকিধারী তা টেরও পান না৷ বাকি বড় অংশ শরীরের মধ্যে পাচার হয়ে যায়৷ তার একটা অংশ লসিকাগ্রন্থির মধ্যে জমা হয়৷ কিছুটা যকৃতেও চলে যায়৷ সামান্য কিছু অংশ শরীর ত্যাগ করে৷ তবে যারাই ট্যাটু বসাতে চায়, তাদের মনে রাখতে হবে যে রংয়ের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ও তার মধ্যে ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থ কখনো কখনো আজীবন শরীরে থেকে যায়৷''

তাই মিশায়েল যে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে ট্যাটু আঁকানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমনটাই করা উচিত৷ তিনি সচেতন, যে সারা জীবন এই উলকি বয়ে বেড়াতে হবে৷ ট্যাটুর রং সত্যি সারা জীবন তাঁর শরীরে থেকে যাবে৷

সাবিনে ফ্র্যুবুস/এসবি 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন