শরীরের মধ্যে চিপ বসিয়ে চাবি খোলা যায়! | অন্বেষণ | DW | 18.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

শরীরের মধ্যে চিপ বসিয়ে চাবি খোলা যায়!

চাবির গোছা, মানিব্যাগ সঙ্গে করে বয়ে বেড়াতে অনেকেরই মনে বিরক্তি জাগে৷ শুধু আঙুলের ইঙ্গিতে যদি দরজা খোলা যেত, অথবা বকেয়া বিল মিটিয়ে ফেলা যেত তাহলে কেমন হতো? ত্বকের নীচে চিপ বসিয়ে এমনটা করতে চাইছেন এক ব্যক্তি৷

রাল্ফ নয়হয়সার নতুন ডিজিটাল যুগের এক পথিকৃৎ৷ তাঁর ত্বকের নীচে অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোচিপ বসানো রয়েছে৷ দুই হাতে বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর মাঝে সব মিলিয়ে তিনটি মাইক্রোচিপ রয়েছে৷ সাইবর্গ শব্দটি তাঁর পছন্দ নয়৷ তিনি বরং নিজেকে এক নতুন প্রজাতি হিসেবে গণ্য করেন৷ রাল্ফ বলেন, ‘‘আমার এক আপগ্রেডের অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ নতুন করে বেড়ে ওঠার এক অনুভূতি টের পাচ্ছি৷ নাক উঁচু করে নিজেকে বড় করে দেখাতে এ কথা বলছি না৷ সত্যি মনে হচ্ছে, যেন কিছু পরিবর্তন ঘটেছে৷''

জার্মানির ড্যুসেলডর্ফ শহরে এক বিজ্ঞান সম্মেলনে বায়ো-হ্যাকিং অর্থাৎ ডিজিটাল ইমপ্লান্টের মাধ্যমে শরীরকে আরও নিখুঁত করার বিষয়ে এক বক্তৃতা দিয়ে তিনি নিজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শরীরে প্রথম চিপ বসিয়েছিলেন৷ এ প্রসঙ্গে রাল্ফ নয়হয়সার বলেন, ‘‘অতীতে অন্য কারো উপর এমন পরীক্ষা চালানো হতো৷ সে সময়ে বাইরে থেকে উঁকি মারার সুযোগ ছিল৷ এখন সূচ দেখলে মোটেই ভয় লাগবে না, রক্তদানের মতো অভিজ্ঞতা হবে৷ আগে সেটি একটু বড় ছিল৷''

তারপর আরও দুটি চিপ লাগান তিনি৷ তাঁর মতে, চিকিৎসাবিদ্যার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেগুলি মোটেই বিপজ্জনক নয়৷ শেষ চিপটি তিনি নিজেই নিজের শরীরে বসিয়েছিলেন৷ একটি চিপের মাধ্যমে তিনি অফিসের বন্ধ দরজার তালা খুলতে পারেন৷ অন্য একটিতে রক্তের গ্রুপ, অঙ্গদানের অঙ্গীকারের মতো কিছু আপদকালীন তথ্য ভরা রয়েছে৷ এখনো দৈনন্দিন জীবনে এমন চিপের ক্ষমতা সীমিত রয়েছে৷ তবে তাতে তিনি মোটেই উদ্বিগ্ন নয়৷ রাল্ফ বলেন, ‘‘আমি আরও অগ্রসর হতে চাই৷ পথিকৃৎ হতে চাই৷ ‘আর্লি অ্যাডাপ্টার', ‘ফার্স্ট মুভার' হতে চাই৷ নিজে বিষয়টি নিয়ে গভীর চর্চা করে বিচার করতে চাই৷''

তথ্য সংরক্ষণ নিয়ে ৫৩ বছর বয়সি এই ব্যক্তির কোনো দুশ্চিন্তা নেই৷ তিনি নিশ্চিত যে ইমপ্লান্ট এটিএম কার্ড বা স্মার্টফোনেরমতোই নিরাপদ৷ সেগুলিও একই রকম প্রযুক্তির ভিত্তিতে চলে৷ রাল্ফ নয়হয়সার মনে করেন, ‘‘আমার কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এর সম্ভাবনা কী? ঝুঁকির থেকে এই প্রশ্ন অনেক বেশি জরুরি৷ ঝুঁকির বিশ্লেষণ ও অবশ্যই তা বিচার করা উচিত, কিন্তু আমি সবার আগে সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাই৷''

ড্যুসেলডর্ফ শহরের এই বিজ্ঞানী আসলে নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ৷ অনেক স্টার্ট-আপ কোম্পানির সঙ্গে তাঁর ভালো যোগাযোগ রয়েছে৷ তিনি নিজে ও তাঁর নিয়োগকর্তারা অফিস ভাড়া দিয়ে তরুণ উদ্যোগপতিদের সহায়তা করেন৷ নতুন ও প্রথাগত ধারার বাইরে চিন্তাভাবনা তাঁর কাছে খুব স্বাভাবিক বিষয়৷ সেইসঙ্গে এক লক্ষ্যও রয়েছে৷ রাল্ফ বলেন, ‘‘আমি সম্ভবতচাবির গোছাও মানিব্যাগ বাসায় রেখে আসতে পারি৷ কোনো এক সময়ে সত্যি হয়তো এ সবের প্রয়োজন হবে না৷ একে একে প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে৷''

ততদিন পর্যন্ত তিনি ডিজিটাল ইমপ্লান্ট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন, নতুন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবেন৷ পরের দু'টি চিপ বসানোর পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে৷

রাফায়েল বখ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন