শরণার্থী সংকটের ইউরোপীয় সমাধানসূত্র চান ম্যার্কেল, মাক্রোঁ | বিশ্ব | DW | 20.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইউরোপ

শরণার্থী সংকটের ইউরোপীয় সমাধানসূত্র চান ম্যার্কেল, মাক্রোঁ

ইউরোপে শরণার্থী সংকট সামাল দিতে সামগ্রিক সমাধানসূত্র তুলে ধরলেন ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা৷ ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবও তাতে স্থান পেয়েছে৷ এভাবে জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্কেল তাঁর সরকারের রাজনৈতিক সংকটও মেটাতে চান৷

শরণার্থী নীতিকে কেন্দ্র করে দেশের মধ্যে কোণঠাসা ম্যার্কেল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ'র সমর্থন পেয়ে কিছুটা আশ্বস্ত হলেন৷ মঙ্গলবার বার্লিনের উপকণ্ঠে শীর্ষ বৈঠকের পর মাক্রোঁ বলেন, শরণার্থীরা ইউরোপের যে দেশে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছে, যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের সেখানে ফেরত পাঠাতে হবে৷ এই লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক সমাধানসূত্র খুঁজে বের করতে হবে৷ মাক্রোঁ এ ক্ষেত্রে ম্যার্কেলের সঙ্গে কাজ করতে চান৷ অর্থাৎ, শরণার্থী নীতির প্রশ্নে ম্যার্কেল একতরফা পদক্ষেপের বদলে ইউরোপীয় স্তরে সমাধানসূত্রের যে উদ্যোগ নিচ্ছেন, সেই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানালেন মাক্রোঁ৷

ম্যার্কেল বলেন, মাক্রোঁ ও তিনি ইউরোপে আরও বিভাজন চান না৷ তাঁদের মতে, ইউরোপীয় সংকটের মুখে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের বদলে সাধারণ সমাধানসূত্র প্রয়োজন৷ তা না হলে শেঙেন চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং তার ফলে ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে উন্মুক্ত সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাবে৷ তবে মাক্রোঁ ও ম্যার্কেল ইউরোপীয় চুক্তি অমান্য করে দায়িত্ব এড়িয়ে শরণার্থীদের অন্য দেশে ঠেলে দেবার প্রথার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর৷ অর্থাৎ, এক দেশে শরণার্থীরা নথিভুক্ত হবার পর তাঁদের সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে চলে যেতে দেওয়া হবে না৷ উল্লেখ্য, এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে জার্মানির জোট সরকারের মধ্যে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ বাভেরিয়ার সিএসইউ দল ইউরোপীয় বা দ্বিপাক্ষিক সমাধানসূত্রের জন্য অপেক্ষা না করে অবিলন্বে একক পদক্ষেপ নিতে চায়৷ আপাতত তারা ম্যার্কেলকে দুই সপ্তাহ সময় দিতে রাজি হয়েছে৷ এই সময়কালে ম্যার্কেল বিকল্প সমাধানসূত্র না পেলে জুলাই মাসে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে৷

ইউরোপীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্ক ইউরোপের বাইরে শরণার্থী শিবির গড়ে তোলার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, ম্যার্কেল সে বিষয়ে আলোচনা করতেও প্রস্তুত৷ জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংগঠন আইওএম-এর সঙ্গে যৌথভাবে এমন শিবির পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছেন টুস্ক৷ তাঁর মতে, এমন কেন্দ্রে প্রকৃত শরণার্থী ও অর্থনৈতিক শরণার্থীদের দ্রুত আলাদা করা সম্ভব হবে৷ বিপজ্জনক পথে ইউরোপে অনুপ্রবেশের বদলে আইনি পথে শরণার্থীদের এমন কেন্দ্রে যেতে উৎসাহ দেওয়া হবে৷ এখনো পর্যন্ত কোনো দেশের নাম প্রস্তাব না করা হলেও লিবিয়া ও আলবেনিয়ায় এমন কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা আলোচিত হচ্ছে৷ আগামী ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে এই প্রস্তাবের খসড়া পেশ করা হবে৷ বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে ম্যার্কেল সেই সঙ্গে আইনি পথে শরণার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ বা উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থার পক্ষেও সওয়াল করেছেন৷

মাক্রোঁ ও ম্যার্কেল এই প্রসঙ্গে ইউরোপ জুড়ে শরণার্থী গ্রহণের একক মানদণ্ডের উপর জোর দিয়েছেন৷ এই লক্ষ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এক ইউরোপীয় এজেন্সি বিভিন্ন দেশের আইনের মধ্যে সমন্বয় করবে৷ যেসব দেশে শরণার্থীদের আগমন ঘটে, তাদের সহায়তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছেন দুই নেতা৷ তাঁদের প্রস্তাবিত সার্বিক সমাধানসূত্রের আওতায় ইউরোপের বহির্সীমানা সুরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্সকে আরও শক্তিশালী করে তোলা হবে৷ তাছাড়া যেসব দেশ থেকে শরণার্থীরা আসছেন, সেই সব দেশের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে বেআইনি অনুপ্রবেশ বন্ধ করার চেষ্টা চালানো হবে৷

বলা বাহুল্য, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এত বড় আকারের পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না৷ তবে শরণার্থী সংকটের সমাধান করতে আগামী সপ্তাহে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনেই এসব প্রক্রিয়া শুরু করতে চান ম্যার্কেল ও মাক্রোঁ৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন