শরণার্থী তরুণদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে পতিতাবৃত্তির দিকে | বিশ্ব | DW | 25.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

শরণার্থী তরুণদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে পতিতাবৃত্তির দিকে

কথায় আছে রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন পালাবার পথ থাকে না৷ বার্লিনেও ঠিক সেই ঘটনাই ঘটছে৷ সেখানকার নিরাপত্তাকর্মীরা তরুণ শরণার্থীদের ভালো পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ঠেলে দিচ্ছে পতিতাবৃত্তির দিকে৷

মঙ্গলবার জার্মান টেলিভিশন চ্যানেল জেডডিএফ-এর এক অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ তথ্য৷ বার্লিনে শরণার্থীদের থাকার বেশ কয়েকটি আবাসন কেন্দ্র রয়েছে৷ সেখানকার তরুণ শরণার্থীদের অর্থের লোভ দেখিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করছে নিরাপত্তা কর্মীরা৷

সমাজকর্মী, শরণার্থী এবং নিরাপত্তা কোম্পানিতে যারা কাজ করেন, তাঁদের কথাতেই উঠে এসেছে এই কাহিনি৷ ‘ফ্রন্টাল ২১' নামে একটি অনুষ্ঠানে এদের অনেকেই জানিয়েছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও এই কাজে বাধ্য করছে নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মীরা৷ এই নিরাপত্তা কর্মীরা সবসময় শরণার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং তাঁদের বোঝাতে থাকেন, পতিতাবৃত্তি তাঁদের কতটা সচ্ছ্বলতা এনে দিতে পারে৷ তাঁদের লক্ষ্যই থাকে কম বয়সি শরণার্থীদের দিকে৷ তাঁদের শরীর বিক্রির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন এই নিরাপত্তা কর্মীরা৷

​​​​​​​

এমনই এক নিরাপত্তা কর্মী ঐ অনুষ্ঠানে জানালেন, ‘‘শরণার্থীরা যদি আকর্ষণীয় এবং কম বয়স্ক হয়, অর্থাৎ ১৬ বা এর চেয়ে কিছুটা বেশি, তাহলে তাদের দাম ধরা হয় সবচেয়ে বেশি৷’’ তিনি আরও জানালেন, এই তরুণদের খদ্দেরের কাছ থেকে জন প্রতি ২০ ইউরো করে নেন তিনি৷

শরণার্থী কেন্দ্রের ২০ বছর বয়সি এক আফগান তরুণ জানালেন, সম্প্রতি তাঁর জার্মানিতে থাকার আবেদন নাকচ হয়ে গেছে৷ ঠিক সেই সময় এক নিরাপত্তাকর্মী তাঁর কাছে এ ধরনের এক প্রস্তাব নিয়ে আসে৷ তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘‘ব্যবসা করতে চাও? ইউরো কামাতে চাও? একজন নারীর সঙ্গে যৌনকর্মের বিনিময়ে তুমি ৪০ ইউরো পেতে পারো৷’’

তরুণটি জানায়, সে ভীষণ লজ্জা পেয়েছিল এই প্রস্তাব শুনে৷ কিন্তু তাঁর অর্থের ভীষণ প্রয়োজন ছিল৷

এক সমাজকর্মী, যিনি বার্লিনের শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করেন, তিনি জেডডিএফকে জানালেন, নিরাপত্তাকর্মীদের শরণার্থীদের অর্থ দিতে দেখেছেন তিনি৷ শরণার্থীদের কাছ থেকে জেনেছেন, অল্প বয়স্ক তরুণদের পতিতাবৃত্তিতে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, এদের অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক৷

বার্লিনের সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এই ব্যাপারটি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে৷ কর্তৃপক্ষকে এই চক্রের ব্যাপারে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর৷

গত সেপ্টেম্বরে এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ জানিয়েছিল, ইউরোপে শরণার্থীদের মধ্যে ৭৫ ভাগকে জোরপূর্বক কাজ করানো, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ এবং নানা ধরণের নির্যাতনের শিকার হতে হয়৷ বিভিন্ন দাতা সংস্থাও জার্মানিতে তরুণ শরণার্থীদের পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত হওয়ার ঘটনার কথা জানিয়েছে৷ বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্ক যৌন সঙ্গী খোঁজার অন্যতম স্থান হয়ে উঠেছে, যেখানে বয়স্ক মানুষরা যৌন চাহিদা মেটাতে অর্থের বিনিময়ে তরুণ ছেলেদের খোঁজে৷

এপিবি/এসিবি (এপি, এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন