শরণার্থীদের মেয়ে পটানোর উপায় শেখানো হচ্ছে | বিশ্ব | DW | 03.12.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

শরণার্থীদের মেয়ে পটানোর উপায় শেখানো হচ্ছে

জার্মানিতে শরণার্থীদের মেয়ে পটানোর উপায় শেখাচ্ছেন ‘মি. ফ্লার্ট'৷ বিশেষ করে সিরীয় এবং ইরাকি শরণার্থীদের তিনি শেখাচ্ছেন কিভাবে যৌন সম্পর্ক গড়ার উদ্দেশ্যে মেয়েদের সঙ্গে আলাপ করতে হয়৷

‘‘তোমার সুগন্ধির ঘ্রানটা আমার পছন্দ হয়েছে'' কিংবা ‘‘তোমার গলাতো বেশ মিষ্টি'' – মেয়েদের আকৃষ্ট করার এরকম কিছু লাইন শিক্ষার্থীদের বোঝাচ্ছিলেন ‘মি. ফ্লার্ট'৷ মেয়ে পটানোর উপর শিখিয়ে তিনি বেশ ভালোই আয় করেন৷ তবে শরণার্থীদের তিনি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বিনা খরচায়৷

মেয়েদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বাক্য যা ‘পিকআপ লাইন' হিসেবে পরিচিত, সেগুলোর কয়েকটি শিক্ষার্থীদের কাছেও জানতে চান তিনি৷ বিশ বছর বয়সি ইসাম কাদিম আল বেন ঝটপট বলে ফেলেন, ‘‘ঈশ্বর তোমাকের শুধু আমার জন্য গড়েছেন৷'' আরো একটি বাক্য দ্রুতই গড়েন তিনি, ‘‘আমি তোমাকে ভালোবাসি৷ আজ রাতে কি তোমার ওখানে ঘুমাতে পারি?''

গ্রন্থাগারে প্রেম

গ্রন্থাগার প্রেম করার একটি মক্ষোম জায়গা?

পরের বাক্যটি অবশ্য হর্স্ট ভেনৎসেলের বিশেষ পছন্দ হয়নি৷ তিনি বলেন, ‘‘সম্পর্ক তিনমাস পার না হওয়া পর্যন্ত তাদের বলতে যেও না যে তুমি তাদের ভালোবাসো৷ তাহলে তারা কেটে পড়বে৷ জার্মান মেয়েরা আসক্তি পছন্দ করে না৷''

২৭ বছর বয়সি ভেনৎসেল সাধারণত জার্মানির বিত্তবানদের মেয়ে পটানোর উপায় শেখান৷ এজন্য একদিন কাউকে প্রশিক্ষণ দিলে তিনি নেন ১,৪০০ ইউরো৷ আর গ্রুপের জন্য দৈনিক চার হাজার ইউরো৷ চলতি বছর তিনি সিদ্ধান্ত নেন শরণার্থীদের বিনা খরচায় সহায়তা করবেন৷ কেননা দশ লাখের বেশি শরণার্থীদের সামলাতে বেশি হিমশিম খাচ্ছে তাঁর দেশ৷ তাঁর প্রশিক্ষণ শরণার্থীদের জার্মান মেয়েদের সঙ্গে মেলামেশার বিষয়টি সহজ করতে পারে বলেই বিশ্বাস তাঁর৷

জার্মানিতে ‘মি. ফ্লার্ট' নামে পরিচিতি ভেনৎসেলের ক্লাসে সিরিয়া, ইরাক এবং আফগানিস্তান থেকে আসা পুরুষরা আসেন৷ ডর্টমুন্ড শহরের কাছে গতসপ্তাহে তাঁর এক ক্লাসে ছিলেন এগারো জন৷ তাদের অনেকেই জার্মান মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী৷ কিছু জার্মান নারীরও এক্ষেত্রে আপত্তি নেই৷ তাঁরা মনে করেন, জার্মান পুরুষরা অনেক বেশি মদ্যপান করেন, সারাক্ষণ ফুটবল নিয়ে থাকেন আর বেশি মাত্রায় সাদা৷ সে তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের পুরুষরা বেশ সুদর্শন৷

তবে শরণার্থীদের নিয়ে জার্মানিতে যে খুব ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে এমন নয়৷ গতবছর বিপুল সংখ্যক শরণার্থী গ্রহণ করায় জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের জনপ্রিয়তা পড়তির দিকে যেতে শুরু করেছে৷ বিশেষ করে বর্ষবরণের রাতে কোলনে বেশ কিছু মেয়ে শরণার্থীদের দ্বারা যৌন নিগ্রহের শিকার হন৷ ফলে শরণার্থীদের সম্পর্কে অনেকের মাঝে সৃষ্টি হয় বিরূপ প্রতিক্রিয়া৷

হর্স্ট ভেনৎসেল চান চাহিদা যাই থাক, নারী পুরুষের মধ্যকার মেলামেশাটা সহজ হোক৷ যৌনতার বিষয়াদি নিয়ে খোলামেলা আলাপে আপত্তি নেই জার্মানদের৷ তবে সেগুলো একটা শোভনীয় পর্যায়ে হওয়াটাই তাঁর কামনা৷ তাই ‘পিকআপ লাইন' বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ ডর্টমুন্ডে শিক্ষার্থীদের তিনি বোঝান, জার্মানিতে নারী এবং পুরুষের মধ্যে যে কোনো সময়ই যৌন সম্পর্ক হতে পারে৷ প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় সাক্ষাতে সেক্স খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার৷

ক্লাসে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে পছন্দ করেন ভেনৎসেল৷ তিনি একজনের কাছে মেয়ে পটানোর উপায় জানতে চাইলে, সেই শিক্ষার্থী জিমে গিয়ে সুঠাম দেহ গড়ার দিকে গুরুত্ব দেননি৷ কিন্তু ভেনৎসেল তাঁকে শুধরে দেন৷ মেয়েরা নাকি ‘বডি বিল্ডারদের' দিকে বিশেষ আকৃষ্ট নয়৷ আরেক শিক্ষার্থীর মতে, ফেরারি থাকলে মেয়েরা আকৃষ্ট হবে৷ কিন্তু ‘মি. ফ্লার্ট' তাঁকে বোঝান, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র অর্থের প্রতি আকৃষ্ট মেয়েরাই আগ্রহী হবে৷ আর সবার পক্ষে দাবি গাড়ি কেনা সম্ভব নয়৷

ভেনৎসেলের এ সব প্রশিক্ষণ শরণার্থীদের কতটা কাজে আসবে তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও জার্মানিতে এসবের কদর যে বেশ তা বোঝা যায় তাঁর ব্লগের দিকে তাকালে৷ ‘‘ফ্লার্ট ইউনিভার্সিটি'' শিরোনামে থাকা ‘মি. ফ্লার্টের' ব্লগের অনুসারী পাঁচ লাখের বেশি৷

এআই/ডিজি (এএফপি)

আপনার কি কোনো ‘পিকআপ লাইন' জানা আছে? প্রেম নিবেদনের সময় আপনি কী বলে থাকেন? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন