শরণার্থীদের নিয়ে কটূ মন্তব্য, এএফডির মুখপাত্র বহিষ্কার | বিশ্ব | DW | 29.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

শরণার্থীদের নিয়ে কটূ মন্তব্য, এএফডির মুখপাত্র বহিষ্কার

‘শরণার্থীদের ওপর গ্যাস প্রয়োগ করা যেতে পারে’, এমন মন্তব্য করায় জার্মানির কট্টর ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর ডয়েচলান্ড- এএফডির এক সাবেক মুখপাত্রকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে৷ ক্রিস্টিয়ান ল্যুঠ দীর্ঘদিন দলটির মুখপাত্র ছিলেন৷

জার্মানির গণমাধ্যম সাইট-এর অনলাইন ভার্সনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে এক নারী ইউটিউবারের সঙ্গে কথা বলার সময় ল্যুঠ এমন মন্তব্য করেন৷ জার্মানির মিডিয়া জায়ান্ট প্রোসিবেন এক টিভি ডকুমেন্টারিতে এই মন্তব্য প্রচার করেছে৷

এএফডির পার্লামেন্টারি দলের সহনেতা আলেক্সান্ডার গাউলান্ড বলেছেন, ‘‘ল্যুঠ যা বলেছেন বলে বলা হচ্ছে, তা এএফডির লক্ষ্য ও নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং অগ্রহণযোগ্য৷’’

এক বিবৃতিতে গাউলান্ড জানান, ল্যুঠের এমন মন্তব্য তিনিও ‘সমর্থন করেন’, এমন অভিযোগও একেবারেই ‘কল্পনাপ্রসুত এবং ভ্রান্ত’৷

কী বলেছিলেন ল্যুঠ?

২৩ ফেব্রুয়ারি ইউটিউব ইনফ্লুয়েন্সার লিসা লিসেন্তিয়ার সঙ্গে বার্লিনের নিউটন বারে সাক্ষাৎ করেন ল্যুঠ৷ সেই সাক্ষাতে ল্যুঠ নানা উসকানিমূলক কথা বলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে৷

সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সেই সাক্ষাতে ল্যুঠ বলেন, ‘‘জার্মানির জন্য পরিস্থিতি যত খারাপ হবে, এএফডির জন্য তা ততটাই ভালো৷’’ পরিস্থিতি খারাপ না হলে এএফডি কেবল ৩ শতাংশ ভোট পেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷

লিসেন্তিয়া এ সময় জিজ্ঞেস করেন, জার্মানি আরো শরণার্থী নিক এটা এএফডি চায় কিনা৷ উত্তরে ল্যুঠ বলেন, ‘‘অবশ্যই, কারণ, এএফডি তাদের ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে৷’’

পরে তিনি বলেন, ‘‘আমরা পরে তাদের সবাইকে গুলি করতে পারবো৷ এটা কোনো ব্যাপারই না৷ অথবা তাদের ওপর গ্যাসপ্রয়োগ বা অন্য যা ইচ্ছা করা যেতে পারে৷ আমার কাছে সবই এক৷’’

প্রোসিবেন অবশ্য কোনো ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করে তাদের ‘ফার রাইট, জার্মান, র‍্যাডিক্যাল’ নামের ডকুমেন্টারিতে অডিওর ব্যক্তিকে ‘এএফডির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে৷

তবে সাইট পত্রিকা জানিয়েছে আরো অনুসন্ধানের পর তারা অডিওতে কথা বলা ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে৷ ‘বিশেষ জনস্বার্থের’ কথা বিবেচনায় সেই ব্যক্তির নাম ও পরিচয় প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে পত্রিকাটি৷

উগ্র ডানপন্থিদের বিষয়ে ১৮ মাসের গবেষণা শেষে সাংবাদিক থিলো মিশকে এ ডকুমেন্টারিতে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘জার্মানির উদার গণতন্ত্র কি হুমকির মুখে?’

বিতর্কিত ইতিহাস

২০১৩ সালে গঠনের পর থেকেই ল্যুঠ এএফডির সঙ্গে আছেন৷ এপ্রিলেই তাকে মুখপাত্রের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়৷ তখন তার বিরুদ্ধে নিজেকে ‘ফ্যাসিবাদী’ বলে পরিচয় দেয়ার অভিযোগ ওঠে৷

বর্তমানে জার্মান পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় আছে এএফডি৷ দলটির সাবেক নেতা ফ্রাউকে পেট্রি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ২০১৬ সালে দলটির নির্বাহীরা ল্যুঠের ‘নাৎসি স্যালুট দেয়াসহ’ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন৷

উগ্রপন্থার উত্থান

ঠিলো মিশকে তার ডকুমেন্টারিতে বর্ণনা করেছেন, কিভাবে উগ্রপন্থার উত্থান ঘটছে৷ তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে উগ্র ডানপন্থি বিভিন্ন গ্রুপ সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে৷

মিশকে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিভিন্নভাবে তারা নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যেমন করোনা ভাইরাসের সময় সরকারের নানা পদক্ষেপবিরোধী বিক্ষোভ৷ এভাবে তারা নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করে আমাদের সমাজের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করতে চায়৷’’

মিশকেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এএফডির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত ঠুরিঙ্গিয়া রাজ্যের গোয়েন্দা প্রধান স্টেফেন ক্রামার কয়েক বছরের মধ্যে এমন পরিবর্তন দেখে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ছেন৷

এডিকে/এসিবি (ডিপিএ, এএফপি)

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির ছবিঘরটি দেখুন...

বিজ্ঞাপন