শতভাগ ভোট পড়ার বিষয়ে এখন কী করা যায়? | বিশ্ব | DW | 10.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

শতভাগ ভোট পড়ার বিষয়ে এখন কী করা যায়?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, অনেক কেন্দ্রে ‘অবিশ্বাস্য’ রকম ভোট পড়েছে৷ প্রায় ২১৩ কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়াকে ‘স্বাভাবিক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাও৷

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রায় ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়ার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘‘নির্বাচনে চারবার চুরি হয়েছে, এই সরকার আর একদিনও ক্ষমতায় থাকতে পারে না৷''

আর আওয়ামী লীগ নেতা বি এম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘‘আমরা অভিযোগ খতিয়ে দেখছি৷''

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মঙ্গলবার ভোটের যে হিসাব প্রকাশ করেছে সেখানে তারা বলেছে,  ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ৫৮৬ টি কেন্দ্রে যত ভোট পড়েছে তার সবই পেয়েছে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক৷ অন্য কোনো প্রতীকে ভোট পড়েনি৷ আর একটি কেন্দ্রে সব ভোট পড়েছে বিএনপির প্রতীক ধানের ধানের শীষে৷

এই কেন্দ্রগুলো ৭৫টি আসনের৷ ৭৫টি আসনের ৭৪টিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং ১টিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি জয়ী হয়েছে৷

ফলাফল বিশ্লেষণে সুজন  সংবাদ সম্মেলনে আরো জানায়, ৩০০টি নির্বাচনি এলাকার জন্য নির্ধারিত ৪০,১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি আসনের ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে৷ আর ৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে ১,৪১৮টি কেন্দ্রে৷ এছাড়াও ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে ৬,৪৮৪ টি ভোটকেন্দ্রে৷ ৮০-৮৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ১৫,৭১৯টি ভোটকেন্দ্রে এবং ৭০-৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ১০,০৭৩টি ভোটকেন্দ্রে৷ তারা এটাকে ‘অবিশ্বাস্য' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে৷

অডিও শুনুন 02:39

বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিতে পারে নাই, ভোট চার বার চুরি করেছে: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই তথ্য প্রমাণ করে, বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিতে পারে নাই৷ আমি মনে করি ভোট চার বার চুরি করেছে৷ একবার হলো বিরোধী দলী নেতা-কর্মীদের এলাকায় মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও জেলে পাঠানো৷ দ্বিতীয়বার হলো ভোটের আগের রাতে ভোটের বাক্স ভরে দেয়া৷ তৃতীয়বার হলো ভোটের দিন ভোট বাক্স ভর্তি ও আবার কেন্দ্র দখল৷ আর চতুর্থ চুরি হলো ভোটের হিসাব মেলাতে গিয়ে গরমিল করা৷''

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘‘আমরা শুরু থেকেই এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি৷ এখন এইসব তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো যত দ্রুত সম্ভব নতুন নির্বাচন দেয়া৷ তারা জনগণকে ভোটের বাইরে রেখে ক্ষমতা দখল করেছে৷ তারা নির্বাচিত সরকার নয়৷ তারা নির্বাচিত সাংসদ নয়৷ আমাদেরও দাবি, দ্রুত নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দেয়া৷ জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা৷ তাদের অধীনে তো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়৷''

তিনি আওয়ামী লীগ সরকারকে অনির্বাচিত সরকার অভিহিত করে বলেন, ‘‘একদিনও একটি অনির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ পারিচালিত হতে পারে না৷''

অডিও শুনুন 01:05

আমরা অভিযোগ খতিয়ে দেখছি: বি এম মোজাম্মেল হক

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা শতভাগ ভোট পরার অভিযোগ খতিয়ে দেখছি৷ এরকম হয়েছে কিনা তা দেখা প্রয়োজন৷ সুজন যা বলেছে সেটা তাদের ব্যাপার৷  কোথাও শতভাগ ভোট পড়েছে কিনা আমার জানা নেই৷ এনিয়ে আমার কোনো কথা থাকতে পারে না৷ নির্বাচন কমিশন এরইমধ্যে মনে হয় প্রতিক্রিয়া দিয়েছে৷ এটা নির্বাচন কমিশনেরও দায়িত্ব৷ তাদের খতিয়ে দেখা দরকার৷''

অতীতে বাংলাদেশে এরকম শতভাগ ভোট পড়ার নজীর আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘অতীতে কোনো নির্বাচনে শতভাগ ভোট পড়েছে এমন আমি শুনিনি, আমার জানা নেই৷''

নির্বাচনের ৬ মাস পর গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটেও যে ফলাফল প্রকাশ করা হয় তাতেও দেখা যায়, ২১৩টি ভোট কেন্দ্রে ভোট পড়েছে শত ভাগ৷ আর ১৪টি আসনের ৭ হাজার ৫ শ' কেন্দ্রে ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সংবাদ মাধ্যমগুলোকে বলেন, ‘‘শতভাগ ভোট পড়া স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়৷ তবে আগে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি৷ গেজেট  প্রকাশ হওয়ার পর আর কিছু করার থাকে না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন