শতবর্ষের শেখ মুজিব | আলাপ | DW | 17.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

শতবর্ষের শেখ মুজিব

আমার নেতা, তোমার নেতা, শেখ মুজিব শেখ মুজিব'- লাখো মানুষের কন্ঠে ধ্বনিত এই শ্লোগান শোনার অভিজ্ঞতা কখনও ভোলবার নয়৷

১০ জানুয়ারি, ১৯৭২৷ আবারও শোনা গেলো এই দুর্বার শ্লোগান৷

মানুষের ঢল ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রমনা রেসকোর্স পর্যন্ত৷ দীর্ঘ নয় মাসেরও বেশি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দীদশায় কাটে তাঁর৷ মুক্তি পেয়ে লন্ডন আর নতুন দিল্লি হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলেন তিনি৷ বাংলার মানুষের অবিসংবাদী এই নেতাকে বরণ করে নেন আপামর জনসাধারণ আনন্দের অশ্রু বইয়ে দিয়ে৷ একটি খোলা ট্রাকে মাল্যশোভিত রাষ্ট্রনেতা ৷ তাঁর পাশে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও আরও অনেকে৷ এই ট্রাকটির রেসকোর্সে পৌঁছতে সময় লাগে আড়াই ঘন্টার মতো৷ স্বাধীন বাংলাদেশের জনক রেসকোর্স ময়দানে অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান লক্ষ লক্ষ মানুষকে উদ্দেশ্য করে ভাষণ দিলেন৷

সে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত! বন্দীজীবনের সকল অনিশ্চয়তার মাঝেও এই মাহেন্দ্র্যক্ষণের জন্যই প্রতীক্ষা করছিলেন তিনি৷ আবেগঘন কন্ঠে বললেন: ‘‘আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে, আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে, আমার বাংলার মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে৷’’ আমরা যারা সেদিনের এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, আমাদের চোখেও অশ্রুধারা৷ এ অশ্রু বিয়োগের নয়, জাতির জনককে ফিরে পাওয়ার আনন্দে সিক্ত অশ্রু৷ দৃঢ়তার সঙ্গে সেদিন বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন যে বাংলাদেশ ইতিহাসে স্বাধীন দেশ হিসেবেই বেঁচে থাকবে৷ বাংলাকে দাবিয়ে রাখতে পারে এমন কোন শক্তি নাই৷

এতে কোন সন্দেহ নেই যে বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ আজ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বসভায় তার স্থায়ী আসন অধিকার করে নিয়েছে৷ পথটি কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, ঈপ্সিত স্বাধীনতাও অর্জিত হয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চালিত এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, লাখ লাখ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে৷ বাঙালি সৈনিকদের সংঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন সাধারণ মানুষ — কৃষক, শ্রমিক, কর্মজীবী মানুষ৷ তরুণরা হাতে তুলে নেয় হাতিয়ার, এগিয়ে আসেন বহু নারী৷ মুক্তিযোদ্ধারা দখলিত এলাকায় গেরিলা আক্রমণ চালিয়ে পর্যুদস্ত করে দেয় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের স্থানীয় সহযোগীদের৷ নয় মাস স্থায়ী মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে মুজিবনগরে গঠিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার৷ এই প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব অসীম ধৈর্য আর যোগ্যতার সঙ্গে পালন করেন তাজউদ্দিন আহমদ৷ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সরকার এই প্রবাসী সরকারকে দেন সব রকমের সাহায্য আর সমর্থন৷ আশ্রয় দেন পূর্ববঙ্গ থেকে পালিয়ে আসা এক কোটি শরণার্থীকে৷

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ও মুক্তির এই লড়াই প্রত্যক্ষ করতে পারেননি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বন্দীদশার কারণে৷ কিন্তু গোটা যুদ্ধ জুড়েই ছিল যেন তাঁর উপস্থিতি৷ তাঁরই নামে চালিত হয় মুক্তিযুদ্ধ, সশরীরে উপস্থিত না থেকেও তিনিই ছিলেন ঘোষিত স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, সর্বসম্মত নেতা৷ তাঁর মুক্তির জন্য ইন্দিরা গান্ধী ছুটে বেড়িয়েছেন এক দেশ থেকে আর এক দেশে৷ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন একের পর এক বাঙালি কূটনীতিক, আমলা৷ পালিয়ে এসে যুক্ত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের কাজে৷ পাকিস্তানে আটক বাঙালি সেনা অফিসারদের কেউ কেউ প্রাণের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে পৌঁছে গেছেন মুজিবনগরে৷ যোগ দিয়েছেন মুক্তি বাহিনীতে৷ স্বাধীনতার যে ডাকে আমরা সাড়া দিয়েছিলাম সেই ডাকটি এসেছিলো যাঁর কাছ থেকে, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান৷

আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনের পর্যালোচনা করি, তাহলে লক্ষ করবো যে তথাকথিত দ্বিজাতিতত্ত্বের নিক্তিতে উদ্ভূত রাষ্ট্র পাকিস্তানের তখনকার পূর্বাংশের পৃথক সত্তাটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তিনি অচিরেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন৷ যেহেতু তিনি তৃণমূল পর্যায় থেকেই নিজেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছিলেন, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্খার স্বরূপটা তিনি বুঝতে পারতেন৷ দুই অংশের মধ্যে বৈষম্যের যে পাহাড় তৈরি হয়েছিল সেটাকে তুলে ধরতে কুন্ঠিত ছিলেন না কখনও৷ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সিংহভাগই কাটে বিরোধী রাজনীতিক হিসেবে৷ পাকিস্তানি শাসকদের হাতে কারারুদ্ধ হয়েছেন বারবার৷ কিন্তু কখনও মুচলেকা দিয়ে প্যারোলে জেল থেকে মুক্ত হননি৷ এমনটাও হয়েছে যে ছাড়া পেয়ে জেলগেট থেকে বেরুনোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন মামলা দিয়ে আবার তাঁকে কারাকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণা করলেন তিনি৷ এ যেন পাকিস্তান থেকে মুক্ত হবার এক প্রাথমিক সনদ৷ ছয় দফা ১১ দফায় রূপান্তরিত হলো ঊনসত্তরের প্রবল ছাত্র তথা গণ অভ্যুত্থানের মুখে৷ কারাবন্দী শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হলো ইসলামাবাদ সরকার৷ আইউব খানের পতন ঘটলো৷ আবার সামরিক শাসন জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বে৷ পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাঙ্গনের বীজ রোপিত হয়ে গেলো৷

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হলেও, সে ফল মানতে রাজি ছিল না পাকিস্তানের সামরিক প্রশাসন৷ আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন লাভ করে৷ কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে চলতে থাকে টালবাহানা৷ আলোচনার পর আলোচনা ব্যর্থ হয়৷ ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের বৈঠক স্থগিত করার ঘোষণা দিলে সারা বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে৷ হরতাল পালিত হয় ৩ মার্চ৷ ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্সের জনসমুদ্রের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করলেন: " এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম৷'' ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি৷ বলেন, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে৷

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ সোপান৷ তাই আজ জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে বিশ্বের তথ্যমূলক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দিয়ে সম্মানিত করেছে৷ এই ভাষণের পর বাঙালিদের পিছন ফিরে তাকানোর আর কোন কারণ ছিল না৷ ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই চালিত হয়েছে সব কর্মকাণ্ড৷ ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর৷ আক্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, পিলখানা রাইফেল সদর দপ্তর ও রাজারবাগ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স৷ বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন৷ তার আগে দিয়ে যান স্বাধীনতার ঘোষণা৷

২৬ মার্চ ১৯৭১ সন্ধ্যায় স্বাধীনতার এই ঘোষণাই বারবার পাঠ করা হয় চট্টগ্রামের কালুরঘাটে বেতারের ট্রান্সমিটার স্টেশন থেকে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার নাম দিয়ে প্রচারিত অনুষ্ঠানে৷ এর আগে দুপুরবেলা ট্রান্সমিটার খুলিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতা এম.এ. হান্নান৷ স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রের সেই সূচনালগ্নে সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে যুক্ত হয়েছিলেন বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাসেম সন্দ্বীপ৷ সঙ্গে এই প্রতিবেদক৷ ধীরে ধীরে আরও বেতারকর্মী যুক্ত হন এই বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচারের সঙ্গে৷ সব মিলিয়ে দশ জন৷ কালুরঘাটের এই কেন্দ্র থেকেই ২৭ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে on behalf of our great leader Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman- কথাটি উল্লেখ করে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন৷ বিপ্লবী শব্দটি তাঁরই অনুরোধে বর্জিত হয়৷ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই প্রথম পর্বের ১০ কর্মী ( বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাসেম সন্দীপ, আব্দুল্লাহ আল-ফারূক, মোস্তফা আনওয়ার, সৈয়দ আব্দুস শাকের, আমিনুর রহমান, রাশেদুল হোসেন, শরফুজ্জামান, রেজাউল করিম চৌধুরী ও কাজি হাবিবুদ্দিন৷ সন্দীপ ও হাবিবুদ্দিন ছাড়া আর সকলেই ছিলেন চট্টগ্রাম বেতারের কর্মী ) ২৪ মে পর্যন্ত আগরতলায় ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর দেওয়া ট্রান্সমিটার এবং কালুরঘাট থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া এক কিলোয়াটের মিডিয়াম ওয়েভ ট্রান্সমিটার থেকে স্বাধীনতার পক্ষে অনুষ্ঠান প্রচার অব্যাহত রাখেন৷ আগরতলায় তাঁদের সঙ্গে কর্মী হিসেবে যুক্ত হন লেখক সুব্রত বড়ুয়া৷

২৫ মে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধানে শক্তিশালী ট্রান্সমিটার থেকে নবকলেবরে শুরু হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান৷ সেখানে সমবেত হতে থাকেন ঢাকা সহ বিভিন্ন বেতার কেন্দ্রের কর্মীরা, বিশিষ্ট সাংবাদিক, শিল্পী, সংগীত পরিচালক, অভিনেতা, গায়ক গায়িকারা৷ বাংলাদেশ মুক্তি বাহিনীর সশস্ত্র যুদ্ধের সঙ্গে অবরুদ্ধ দেশবাসীকে প্রণোদনা যোগায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠানমালা৷ সে এক মহাযজ্ঞ৷ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের বিভিন্ন অংশ প্রচারিত হতে থাকে বজ্রকন্ঠ নামে৷ কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের একটি ভবনে বেতার কেন্দ্রের স্টুডিও, বিভিন্ন ঘরের মেঝের ওপর বেতারকর্মীদের থাকার জায়গা৷ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর এলো বিজয়৷ ঢাকায় অস্ত্র সমর্পণ করল পাকিস্তানি সেনারা ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কাছে৷ ২২ ডিসেম্বর প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ সহ সব মন্ত্রী ও নেতারা ঢাকায় ফিরলেন, নিঃশ্বাস ফেললেন মুক্ত স্বদেশভূমিতে৷

Bengalische Redaktion 1

আব্দুল্লাহ আল-ফারুক, সাংবাদিক

বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রাপ্তি পূর্ণতা পেলো ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ স্বাধীন রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে৷ সম্পদহীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের কর্ণধার হলেন তিনি৷ একের পর এক সমস্যা এসে উপস্থিত হলো৷ তবুও তার মোকাবিলা করতে পিছপাও ছিলেন না তিনি৷ ভারতের সক্রিয় সাহায্য ও সমর্থনের জন্য ইন্দিরা গান্ধীর সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েও কি দ্রুত তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় বাহিনীর দেশে ফিরে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করলেন৷ বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ১২ মার্চ ১৯৭২ ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশ ত্যাগ করে৷ তাঁরই দূরদর্শীতার ফলে  বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে৷ ২৫ সেপ্টেম্বর তিনিই প্রথম বাংলায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন৷ কিন্তু দেশটিকে একটি সুসংহত অবস্থান দেওয়ার আগেই দেশি-বিদেশি কুচক্রের শিকার হতে হয় তাঁকে৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডির বাসভবনে সেনাবাহিনীর কতিপয় বিশ্বাসঘাতক অফিসারদের হাতে সপরিবারে নিহত হলেন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান৷ জার্মানিতে থাকার করণে প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা৷

জনকের আরব্ধ কাজ সম্পূর্ণ করার দায়িত্ব চেপেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর৷ রাজনীতির নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে, নানা বাধা অতিক্রম করে তিনি বাংলাদেশকে অত্যন্ত সম্মানজনক এক অবস্থানে নিয়ে এসেছেন বলতেই হবে৷ জাতিসংঘের সামাজিক সূচকই বলে দেয় যে বাংলাদেশে চরম দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে, শিশু মৃত্যুর হার কমেছে, মেয়েদের শিক্ষার হার বেড়েছে৷ প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ঈর্ষণীয়ভাবে৷ উন্নয়নের নানা সাফল্যের মাঝে সমস্যা যে নেই তা নয়৷ বাংলাদেশের স্থপতি, প্রধানমন্ত্রীর পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পুরোপুরি আস্থাবান এক রাজনীতিক৷ তাই বিরোধী পক্ষকে সংসদীয় পদ্ধতিতে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করার পথ প্রশস্ত রাখা প্রয়োজন৷  একই সাথে বিচার বিভাগ আর নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও সার্বিক স্বচ্ছতাও জরুরি৷ ধর্মনিরপেক্ষতার চেয়ে ধর্মানুভূতির আধিক্যই যেন চোখে পড়ে আজকের বাংলাদেশে৷

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ফলে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছেন এই দেশের নাগরিকরা৷ জার্মানি, গ্রেট ব্রিটেন সহ ইউরোপের নানা দেশে, যুক্তরাষ্টে, ক্যানাডায়, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত তাঁরা৷ পশ্চিমের দেশে আগে বাংলাদেশকে দেখা হতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন এক দেশ হিসেবে৷ আজ সেই পরিচয় তার মুছে গেছে৷ বাংলাদেশের নাম লেখা পোশাক আজ পৌঁছে গেছে সব ধনী দেশে৷ সাফল্যের তালিকা কম নয়৷

ডয়চে ভেলের এই যে বাংলা বিভাগ, এর উদ্ভব, স্বীকার করতেই হবে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশেরই ফল৷  ১৯৭৪ সালে জার্মানির তৎকালীন চ্যান্সেলর ভিলি ব্রান্ট এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সেই সময়কার রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর কাছে জানতে চান সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য কী করতে পারেন তিনি৷ কথাপ্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ডয়চে ভেলে বেতারে বাংলাভাষায় অনুষ্ঠান প্রচারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন৷ এই অনুরোধ বিফলে যায়নি৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ শুরু হয় জার্মানির বহির্বিশ্ব সম্প্রচার কার্যক্রম থেকে প্রথম বাংলা ভাষার বেতার অনুষ্ঠান৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন