শঙ্খ ঘোষ প্রয়াত | বিশ্ব | DW | 21.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

শঙ্খ ঘোষ প্রয়াত

শঙ্খ ঘোষ চলে গেলেন৷ করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৮৯ বছর বয়সে৷

মৃগাঙ্গ শেখর গঙ্গোপাধ্যায়ের আঁকা শঙ্খ ঘোষের ছবি

মৃগাঙ্গ শেখর গঙ্গোপাধ্যায়ের আঁকা শঙ্খ ঘোষের ছবি

বাংলা কবিতার জগতে অন্যতম নক্ষত্র শঙ্খ ঘোষ প্রয়াত। কবির করোনা হয়েছিল। তিনি হাসপাতালে যেতে চাননি. বাড়িতেই ছিলেন। এমনিতেই তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। তারপর গত ১৪ এপ্রিল পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি করোনায় আক্রান্ত।

মঙ্গলবার তার শরীর খারাপ হয়। অক্সিজেন দিতে হয়। রাতে শরীর আরো খারাপ হলে চিকিৎসকেরা শঙ্খ ঘোষকে ভেন্টিলেটারে রাখেন। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। বুধবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ  তার মৃত্যু হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শেষ বিদায় জানানো হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন। তবে কবির পছন্দ ছিল না বলে তোপধ্বনি করা হবে না।

শঙ্খ ঘোষ ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ। তার কবিতার বইয়ের মধ্যে ‘বাবরের প্রার্থনা’, ‘দিনগুলি রাতগুলি’, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১১ সালে পদ্মভূষণেও সম্মানিত হয়েছিলেন। যাদবপুর, দিল্লি ও বিশ্বভারতীতে পড়িয়েছেন। আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাইটার্স ওয়ার্কশপেও যোগ দিয়েছেন।

শঙ্খ ঘোষের কাছে কবিতা ছিল প্রতিবাদের হাতিয়ারও। তিনি জরুরি অবস্থার পর লিখেছিলেন, ‘‘এ দুই চোখে দেখতে দিন বা না দিন/ আমরা সবাই ব্যক্তি এবং স্বাধীন/আকাশ থেকে ঝোলা গাছের মূলে৷’’

আবার বছর তিনেক আগে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোটে যখন বিরোধী প্রার্থীরা মনোনয়ন পেশ করতে পারছিলেন না, তাদের ভয় দেখানো হচ্ছিল, বাধা দেয়া হচ্ছিল, তখন এই কবির কলম থেকে বের হয়, ‘‘দেখ্ খুলে তোর তিন নয়ন/ রাস্তা জুড়ে খড়্গ হাতে/ দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন৷’’

এরপর তৃণমূলের বীরভূমের অত্যন্ত বিতর্কিত নেতা অনুব্রত মন্ডল বলেছিলেন, ‘‘উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে? কবি হতে হলে মানুষের কবি হতে হবে। কোনও একজনের কিংবা কোনও দলের কবি হতে পারবেন না তিনি৷’’ এক বাহুবলী রাজনীতিকের এই অবোধ মন্তব্য তার মর্মে বিঁধেছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অসাধারণ সব কবিতা উপহার দিয়েছেন শঙ্খ ঘোষ। শুনিয়েছেন বাবরের প্রার্থনা। ‘‘আমারই হাতে এত দিয়েছ সম্ভার/ জীর্ণ ক'রে ওকে কোথায় নেবে? ধ্বংস করে দাও আমাকে ঈশ্বর/ আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক৷’’ বলেছেন, ‘‘নিভন্ত এই চুল্লিতে মা একটু আগুন দে/আরেকটুকাল বেঁচেই থাকি বাঁচার আনন্দে৷’’

তার মুখ কখনো বিজ্ঞাপনে ঢেকে যায়নি৷

শঙ্খ ঘোষের চলে যাওয়া মানে বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি৷

জিএইচ/কেএম (পিটিআই)

সংশ্লিষ্ট বিষয়