শঙ্কা দূর করতে ২৪ দিন পেলেন সৌদি প্রবাসীরা | বিশ্ব | DW | 23.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

শঙ্কা দূর করতে ২৪ দিন পেলেন সৌদি প্রবাসীরা

বিদেশে আটকে পড়া শ্রমিকদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ আরো ২৪ দিন বাড়িয়েছে সৌদি সরকার৷ করোনার আগে ছুটি নিয়ে বাংলাদেশে আসা ৪৪ হাজার সৌদি প্রবাসীকে নইলে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কর্মস্থলে ফিরতে হতো৷

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শাহরিয়ার আলম বুধবার  এক ফেসবুক পোস্টে জানান,

‘‘সৌদি সরকার আকামা (ওয়ার্ক পারমিট) আজ ( বুহস্পতিবার) থেকে আরো ২৪ দিন দিন বাড়িয়েছে৷ আর বাংলাদেশ বিমানকে রিয়াদ এবং জেদ্দায় সপ্তাহে মোট ৪ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে৷ ঢাকার সৌদি দূতাবাসের ভিসা অফিস রোববার থেকে খোলা থাকবে৷ কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নতুন নিয়মাবলী মেনে কনসুলার সেবা প্রদান করা হবে৷''

এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ফ্লাইট গেছে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে৷ সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স (সাউদিয়া)-র একটি উড়োজাহাজ মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরব গেলেও তারা সপ্তাহে ফ্লাইট চালাতে পারবে দুটি ফ্লাইট৷ তাতে সর্বোচ্চ পাঁচশ' যাত্রী যেতে পারবেন সপ্তাহে৷ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যদি ল্যান্ডিং অনুমতি পায়, তাহলে সপ্তাহে আটটি উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে পারবে৷ তারা সপ্তাহে নিতে পারবে সর্বোচ্চ দুই হাজার যাত্রী৷ এই হারে ৪৪ হাজার সৌদি প্রবাসী কত দিনে তাদের কর্মস্থলে যেতে পারবেন সেটাই এখন বড় প্রশ্ন৷

দেশে আসা প্রবাসীদের অনেকেই সাউদিয়ার অফিস কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁ হোটেলের গেটে সারাদিন বসে থাকেন৷ ভিতরে ঢুকতে পারেন না৷ তারা কোনো তথ্যও জানেন না৷ সাংবাদিকরা গেলে তাদের কাছে খবর জানতে চান৷ কেউ কেউ তিন-চারদিন ধরে অপেক্ষা করছেন৷ গ্রাম থেকে এসেছেন৷ তাদের থাকা-খাওয়ারও কোনো ঠিক নেই৷

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাউদিয়ার স্টেশন ম্যানেজার অফিসে আসেন না৷ যারা আছেন তারা বাইরে কোনো যোগাযোগ করছেন না৷ এমনকি সাংবাদিকদেরও কোনো তথ্য দিচ্ছেন না৷ তবে একজন ট্রাভেল এজেন্ট জানান, কমপক্ষে ২২ হাজার সৌদি প্রবাসী সাউদিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন৷ তাদের সবার রিটার্ন টিকিট আছে৷ তাদের ফিরিয়ে নেয়াকেই তারা প্রাধান্য দিচ্ছে৷ নতুন কোনো টিকেট বিক্রি করছে না৷ কিন্তু সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট দিয়ে তারা কত দিনে তাদের যাত্রীদের নিতে পারবে?

অডিও শুনুন 02:42

অনুমতি পেলে বিমান প্রতিদিন ১০টি উড়োজাহাজও সৌদি পাঠাতে সক্ষম: বিমানের সিইও মোকাব্বির হোসেন

সৌদি আরব-ঢাকা- সৌদি আরবের রিটার্ন টিকিটের দাম ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা৷  কিন্তু প্রবাসীরা অভিযোগ করছেন, সাউদিয়া  অতিরিক্তি ২৫ টাকা দাবি করছে৷ তা-ও তারা সরাসরি কথা বলতে পারছেন না৷ নানা মাধ্যমে জানতে পারছেন৷ মো. নুরুজ্জামান নামে এক সৌদি প্রবাসী অভিযোগ করেন, ‘‘কালো বজারে দালালরা দেড় লাখ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় টিকেট দেয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে৷ তারা টিকেটও দেখাচ্ছে৷ তবে আসল, না নকল আমরা বুঝতে পারছি না৷'' আবার গেটে আসা পিয়নরা টাকার বিনিয়ময়ে রিটার্ন টিকেটের টোকেনও বিক্রি করছে৷ তবে ওই টোকেন দিয়েও টিকেট মিলছে না৷ নুরুজ্জামান আশঙ্কা করেন, টোকেনও ভুয়া হতে পারে৷

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যারা এসেছেন তারাও অন্ধকারে আছেন৷বিমানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘‘১ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবে সপ্তাহে আটটি ফ্লাইট অপারেশনের  অনুমতি পাওয়া গেলেও ল্যান্ডিং পারমিশন পাওয়া যায়নি৷ সেই অনুমতি না পেলে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে না৷''

তিনি জানান, ‘‘ যারা বিমানের রিটার্ন টিকিটে এসেছেন, তাদের অতিরিক্তি কোনো অর্থ দিতে হবে না৷ আমরা টিকেটের মেয়াদ আগামী বছরের ১৪ মার্চ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছি৷ তাদের বিলম্ব ফি-ও দিতে হবে না৷ আমরা এখন নতুন কোনো টিকিট বিক্রি করছি না৷ এই যাত্রীদের পরিবহনের পর নতুন টিকিট বিক্রির প্রশ্ন আসবে৷''

অডিও শুনুন 04:10

প্রবাসী কল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সমন্বয়হীনতার কারণে এমন হয়েছে: হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন

ফ্লাইট অপারেশন শুরু হলে যাত্রীরা কাউন্টারে গিয়ে টিকেট রি-কনফার্ম করতে পারবেন৷ তার আগে যোগাযোগের দরকার নেই বলে জানান তিনি৷ তার মতে, ‘‘অনুমতি পেলে প্রতিদিন বাংলাদেশ বিমান ১০টি উড়োজাহাজও সৌদি পাঠাতে সক্ষম৷ আর সাউদিয়াও সম পরিমান ফ্লাইট চালাতে পারে৷ কিন্তু অনুমতি তো পাওয়া যাচ্ছে না৷''

বিমানে ২২ হাজার সৌদি প্রবাসী দেশে এসেছেন৷ বিমানের উড়োজাহাজগুলোতে সর্বোচ্চ ২৬০ জন যাত্রী নেয়া যায়৷

বাংলাদেশ বিমানে আসা সৌদি প্রবাসী  মেহেদী হাসান অবশ্য অভিযোগ করেন, ‘‘বিমানে আমরা যোগাযোগ করলে আমাদের জানানো হয় যে, আমাদের টিকেটের এখন আর কোনো ভ্যালু নাই৷''

নুরুজ্জামান জানান, ‘‘আমরা সৌদি আরবে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি৷ তারা বলেছে  ৩০ তারিখের পরে আসা যাবে কিনা সেটা নিয়ে সৌদি সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি৷ সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে৷''

জনশক্তি রপ্তানি এবং অভিবাসন বিষয়ক বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন বলেন, ‘‘এটা আসলে আমাদের প্রবাসী কল্যাণ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আমাদের দূতাবাসের সমন্বয়হীতার কারণে হয়েছে৷ আগে থেকেই তাদের পাঠানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া দরকার ছিল৷ কিন্তু তা নেয়া হয়নি৷ ফলে শেষ বেলায় এসে ফ্লাইট পরিচালনার পারমিশনসহ নানা সমস্যা হচ্ছে৷''

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন