লোহার আকরিকের সন্ধান মিলেছে দিনাজপুরে | বিশ্ব | DW | 19.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

লোহার আকরিকের সন্ধান মিলেছে দিনাজপুরে

দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান পাওয়া গেছে৷ দিনাজপুরের হাকিমপুরে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) খনিটির সন্ধান পেয়েছে। ইসবপুরের এই খনিতে উন্নত মানের লোহার আকরিক রয়েছে বলেও জানিয়েছে সরকারি সংস্থাটি৷

প্রকল্পে খনন কাজে নেতৃত্ব দেয়া, জিএসবির উপ পরিচালক প্রকৌশলী মাসুদ রানা জানিয়েছেন, তিন মাস ধরে কূপ খনন আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন৷

ডয়চে ভেলেকে মাসুদ রানা বলেন, ‘এ বছরের ১৯ এপ্রিল খনন কাজ শুরু করে জিএসবি৷ ১৩৩৪ ফুট গভীরতায় আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে৷ পরে জয়পুরহাটের বিসিএসআইআর পরীক্ষাগার এবং খনন এলাকায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় উপাদান৷‘

তার ভিত্তিতে ইসবপুরে লোহা আকরিকের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর৷

আরো সাত বছর আগে আকরিকের সন্ধানে নেমেছিল জিএসবি৷ ২০১২-১৩ সালে, হাকিমপুরে ভূতাত্ত্বিক জরিপ হয়৷ ২০১৩ সালে প্রথমে মুশিদপুরে আকরিকের সন্ধান পায় তারা৷  কিন্তু সেখানে লোহার পরিমাণ ছিল খুব কম৷ তারপর বিরতি দেড় কিলোমিটার দূরে ইসবপুরে এ বছরের এপ্রিলে আবারো খনন শুরু করে সংস্থাটি৷

ইসবপুরকে এখনও আকরিক খনি বলতে নারাজ জিএসবি কর্মকর্তা মাসুদ রানা৷ তিনি বলছেন, জরিপ কাজ এখনও শেষ হয়নি৷ যদিও লোহার উপস্থিতির বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হয়েছেন তারা৷

তিনি জানান,  ‘১৩৩৪ ফুট থেকে ১৭৮৬ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করেছি৷  এই গভীরতায় বিভিন্ন স্তরে আকরিক আছে৷ যার পুরুত্ব প্রায় ৪০০ ফুট৷'

পৃথিবীর খুব কম দেশে লোহার খনির পাওয়া যায়৷ এখন পর্যন্ত ক্যানাডা, অ্যামেরিকা, সুইডেন, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়ার মতো হাতে গোণা কয়েকটি দেশে  এর সন্ধান মিলেছে৷ এই প্রকৌশলী বলছেন, ‘তুলনামূলক কম গভীরতায় আমরা লোহার আকরিকের সন্ধান পেয়েছি, যা বিরল৷ পৃথিবীর অন্য দেশে আরো অনেক গভীর পর্যন্ত খনন করতে হয়৷ ' 

অডিও শুনুন 04:19

এই খনি থেকে লোহা উত্তোলনের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে:মাসুদ রানা

মাসুদ রানা আশা করছেন, ‘এই খনি এলাকার ব্যাপ্তি ৫-৮ কিলোমিটার বিস্তৃত হতে পারে৷' তবে আরো পাঁচ থেকে সাতটি খনন শেষ করতে পারলে, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য দেয়া যাবে৷ তিনি বলছেন, খনি এলাকার ব্যাপ্তি ৫ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেলে এবং পুরুত্ব ৪০০ ফিট থাকলে, অবশ্যই এটাকে বড় মজুদ বলা যাবে৷

৫০০-৬০০ মিলিয়ন টন লোহা মজুদের যে খবরটি এসেছে, তা আমলে নিচ্ছেন না এই কর্মকর্তা৷ তাঁর দাবি, 'মাত্র দ্বিতীয় খনন চলছে৷ ফলে, আরো পাঁচ থেকে সাতটি খনন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই খনির ব্যাপ্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না৷ ফলে খনিতে আকরিকের মজুদের পরিমাণও নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না৷'

খনন কাজ শেষ হলেই মজুদ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে জানিয়ে মাসুদ রানা বলেন, খনন কাজটা সময় সাপেক্ষ৷ তাঁর মতে, এপ্রিলে খনন শুরু করে, তা শেষ হতে জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছ৷ ফলে আশানুরূপ খনন শেষ করতে দীর্ঘ সময় দরকার৷

লোহার মান নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট এই কর্মকর্তা৷ তিনি বলছেন, পরীক্ষাগারের রিপোর্টে দেখা গেছে, আকরিকের লোহার পরিমাণ প্রায় ৬০ ভাগ৷

লোহার পাশাপাশি কপার, নিকেল আর ক্রোমিয়ামের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে এই খনিতে৷ জিএসবি কর্মকর্তাদের মতে তার পরিমাণ খুবই কম৷

জিএসবি উপপরিচালক মাসুদ রানা জানান, সব কাজ শেষ হলে, এই খনি থেকে লোহা উত্তোলনের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে৷ বাংলাদেশ নিজে সেটা তুলতে পারবে৷ বাইরের কোনো দেশের সাহায্যের প্রয়োজন হবে না৷

তিনি বলেন, বাংলাদেশ দুইটা মাইনিং চলছে, আরো দুটো প্রক্রিয়াধীন আছে৷ ফলে আকরিক উত্তোলনের সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন