লুপ্তপ্রায় প্রজাতির সুরক্ষায় অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 16.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

লুপ্তপ্রায় প্রজাতির সুরক্ষায় অভিনব উদ্যোগ

পৃথিবীতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দেড়শো প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে৷ জীববৈচিত্র্যের এমন ভয়াবহ অবক্ষয় রুখতে বিজ্ঞানীরা ক্লোনিং-সহ নানা প্রযুক্তি প্রয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছেন৷ তবে অবশিষ্ট প্রজাতিগুলির অস্তিত্ব রক্ষায় আরও উদ্যোগের প্রয়োজন৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

নির্দিষ্ট ক্লোনিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমন জিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব, যা বাস্তবে লুপ্ত হয়ে যেতো৷ এভাবে জিন পুল আরও শক্তিশালী করে তোলা যায়৷

এর মাধ্যমে কোনো লুপ্রপ্রায় প্রজাতির আন্তঃপ্রজনন ও রোগব্যাধীর মতো ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে৷ ক্লোনিং এমনকি জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাবের সঙ্গে মানিয়ে নিতেও সহায়তা করতে পারে৷

কমে চলা জীববৈচিত্র্য আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলছে৷ এর ফলে পরাগায়ন প্রক্রিয়া এবং খাদ্য ও পানির মতো মৌলিক সম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে৷ বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলি এর ফলে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷

একের পর এক প্রজাতি নাটকীয় হারে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে৷ গত শতাব্দীর সত্তরের দশক থেকে জীববৈচিত্র্য প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে৷ বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দেড়শো প্রজাতি চিরকালের জন্য উধাও হয়ে যাচ্ছে৷

গোটা বিশ্বের গবেষকরা আরও সচেতন হয়ে গবেষণাগার, চিড়িয়াখানা ও জিন ব্যাংক থেকে যতটা সম্ভব জিনের উপাদান সংগ্রহ করছেন৷ ‘ফ্রোজেন আর্ক’ উদ্যোগের প্রতিনিধি এড লুইস বলেন, ‘‘হাতে আর সময় নেই৷ আমি নিশ্চিত, যে অনেক প্রজাতির অস্তিত্ব এখনই আর রক্ষা করা সম্ভব নয়৷ পুরোপুরি বিলুপ্ত হবার আগে ডিএনএ সংরক্ষণ শেষ উপায়৷ এভাবে কমপক্ষে জিনগত উত্তরাধিকার হাতে রাখা সম্ভব৷’’

ভিডিও দেখুন 03:42

প্রতিদিন সর্বোচ্চ দেড়শো প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে

এড লুইস ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়, মিউজিয়াম ও চিড়িয়াখানা পরিচালিত এক জিন ব্যাংকের সহ প্রতিষ্ঠাতা৷ এই সংগঠন এখনো পর্যন্ত ৪৮ হাজারেরও বেশি নমুনা সংগ্রহ করেছে৷

ক্লোনিংয়ের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নিরীক্ষা এখনো পর্যন্ত মূলত অ্যামেরিকার মতো পশ্চিমা বিশ্বের কোনো দেশে ঘটলেও গোটা বিশ্বের অনেক দেশের সরকারও ডিএনএ ভাণ্ডার বাড়িয়ে চলেছে৷

ভারত, চীন থেকে শুরু করে অ্যামাজন অঞ্চলে গবেষকরা লুপ্তপ্রায় প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করে চলেছেন৷ প্রযুক্তির সাহায্যে অবস্থার উন্নতির চেষ্টা চলছে৷ ‘ফ্রোজেন আর্ক’ উদ্যোগের প্রতিনিধি এড লুইস বলেন, ‘‘কমপক্ষে এই সব তথ্য পেলেও সুবিধা হয় বৈকি৷ একটি প্রজাতি বাঁচানো গেলেও পরিশ্রম সার্থক৷

ক্লোনিং আসলে কৃত্রিম প্রজননের একটি অংশমাত্র৷ ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের মতো বিকল্প গর্ভধারণ পদ্ধতি এবং সম্প্রতি ‘জিন এডিটিং’-এর মতো প্রক্রিয়াও এর অংশ হয়ে পড়েছে৷

গোটা বিশ্বে প্রায় এক হাজার চিড়িয়াখানা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বন্য প্রাণীর কৃত্রিম প্রজনন নিয়ে কাজ করছে৷ এর মধ্যে চারটি প্রকল্পের আওতায় ক্লোনিং পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ চলছে৷

জিনগত বৈচিত্র্য ধরে রাখার প্রতিযোগিতা পুরোদমে চলছে৷ ক্লোনিং পদ্ধতির মাধ্যমে কিছু প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা করা অবশ্যই সম্ভব হবে৷ তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতির বিশাল ব্যয় এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অজানা থাকার কারণে অবশিষ্ট প্রজাতিগুলির অস্তিত্ব রক্ষা করা অনেক বেশি কার্যকর হবে৷

আমরা এখন যা হারাচ্ছি, কখনো কি তা আবার ফিরে পাবো?

এমন প্রশ্নের ভিত্তিতে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটতে থাকবে৷ কারণ ভবিষ্যতে অন্তত প্রযুক্তির অস্তিত্ব থেকে যাবে৷

অদিতি রাজাগোপাল/এসবি

২০১৮ সালের ডিসেম্বরের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়