লিবিয়া, সিরিয়াকে নিয়ে জাতিসংঘও সমস্যায় | বিশ্ব | DW | 27.04.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

লিবিয়া, সিরিয়াকে নিয়ে জাতিসংঘও সমস্যায়

লিবিয়ায় গাদ্দাফি বাহিনী এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে মোটামুটি অচলাবস্থা৷ কাজেই ন্যাটোর আগামীতে করণীয় কি, তা কারো জানা নেই৷ অপরদিকে সিরিয়াকে নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব ইত্যাদির একটা পর্যায় শুরু হওয়ার কথা৷

default

মিসরাতায় গোলাবর্ষণের চিহ্ন

লিবিয়াকে নিয়ে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রসমাজে দৃশ্যত বড় ফাটল ধরেছে৷ অথবা ফাটলগুলো আগে থেকেই ছিল৷ এখন যুদ্ধক্ষেত্রে অচলাবস্থার ফলে ফাটলগুলো দৃষ্টিগোচর হচ্ছে৷

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন একাধিক প্রশ্নবাণ নিক্ষেপ করেছেন৷ পুটিন প্রশ্ন তুলেছেন: দুনিয়ায় তো বেয়াড়া শাসকদের কোনো কমতি নেই৷ তাহলে কি সর্বত্রই বোমা ফেলতে হবে এবং রকেট ছুঁড়তে হবে? ডেনমার্ক সফররত পুটিন আরো মন্তব্য করেছেন: গোড়ায় তো বলা হচ্ছিল, গাদ্দাফিকে মারার কোনো অভিপ্রায় নেই৷ এখন কিছু কর্মকর্তারা বলেছেন, হ্যাঁ, আমরা গাদ্দাফিকে মারার চেষ্টা করছি৷ কে তার অনুমতি দিল? কোনো বিচার হয়েছিল কি? এই লোকটাকে ফাঁসি দেওয়ার অধিকারটা নিল কে? অর্থাৎ পুটিন পরোক্ষে বলছেন: জাতিসংঘ যে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করার সনদ দিয়েছিল, মিত্রজোট তা ছাড়িয়ে যাচ্ছে৷

আফ্রিকান ইউনিয়নও ক্ষুণ্ণ, কেননা তাদের অথবা তাদের আপোষের পরিকল্পনাকে বিশেষ আমল দেওয়া হচ্ছে না৷ তারাও তো আদ্দিস আবেবা'তে লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে৷ মুশকিল এই যে, বিদ্রোহীরা আফ্রিকান ইউনিয়নের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে, কেননা তা'তে গাদ্দাফির বিদায়ের কোনো শর্ত নেই৷

Syrien Protest Demonstration Daraya

দামাস্কাসের দক্ষিণে দারায়া’য় একটি শিশুর হাতে বোর্ডে লেখা: ‘‘হত্যা বন্ধ করো!’’

সিরিয়া প্রসঙ্গে মূল খবর, বিশ্ব নিরাপত্তা পরিষদে আজ বিক্ষোভকারীদের উপর ক্র্যাকডাউন নিয়ে বৈঠকে বসছে৷ মহাসচিব বান কি-মুন এবং মানবাধিকার কমিশনার নভি পিল্লাই ইতিমধ্যেই ঐ দমননীতির নিন্দা করেছেন এবং - সবচেয়ে বড় কথা - নিরপেক্ষ তদন্তের ডাক দিয়েছেন৷ এবং শ্রীলংকার মতোই, সিরিয়া সরকারও জানে যে এই তদন্ত ব্যাপারটা মাইন-বোমার মতো বহু পরেও আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে৷ তাই জাতিসংঘে সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত সঙ্গে সঙ্গে বলেছেন, দামাস্কাস নিজেই পুরো ব্যাপারটার তদন্ত করতে সক্ষম৷

এখন নিরাপত্তা পরিষদে কি ঘটবে বলে আশা অথবা আশঙ্কা করা যেতে পারে? কূটনীতিকরা বলছেন, চীন এবং রাশিয়া, উভয়েই সিরিয়াকে নিন্দা করার কোনো প্রস্তাবের বিরোধী৷ যুক্তরাষ্ট্র তো একাই সিরিয়ার বিরুদ্ধে চলতি শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগুলো আরো জোরদার করার কথা ভাবছে অথবা হুমকি দিয়েছে৷ জাতিসংঘের মহাসচিব বান বিশেষ করে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ট্যাংক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন৷ এবং সেটাই হয়তো সঠিক পন্থা: আপাতত কোনো সর্বাঙ্গীণ সমাধানের কথা না ভেবে, রক্তপাত কমানোর চেষ্টা করাই ভালো৷

প্রতিবেদন: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: সুপ্রিয় বন্দোপাধ্যায়

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়