লিপস্টিক লাগালে ধর্ষিত হতে হবে! | বিশ্ব | DW | 30.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

লিপস্টিক লাগালে ধর্ষিত হতে হবে!

ভারতের একটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে শিক্ষিকার মন্তব্য নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে৷ ক্লাসে শিক্ষিকা বলেছেন, খোলামেলা পোশাক পরলে কিংবা লিপস্টিক লাগালে ধর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়৷

‘‘লিপস্টিক লাগানো যাবে না৷ পরা যাবে না ‘স্কিন টাইট' পোশাক কিংবা ডেনিম৷ এ সব পরলে নির্ভয়ার মতো অবস্থা হতে পারে৷'' বক্তা, স্কুলের বায়োলজি শিক্ষিকা৷ ভারতের ছত্তিশগড় প্রদেশের রায়পুরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে৷ ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, স্নেহলতা শঙ্খওয়ার নামে ওই শিক্ষিকা ক্লাসে ঢুকে আচমকাই ‘নির্ভয়া'-র প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন৷ ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে একটি বাসে নৃশংস ভাবে গণধর্ষণ করা হয় এক যুবতীকে৷ পরবর্তীকালে তাঁর মৃত্যু হয়৷ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাস্তায় নামে নাগরিক সমাজ৷ নাগরিক সমাজের তরফ থেকেই যুবতীর নাম দেওয়া হয় ‘নির্ভয়া'৷

কিন্তু ঘটনার এত বছর পর রায়পুরের ওই শিক্ষিকা কেন হঠাৎ  নির্ভয়ার প্রসঙ্গ তুললেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ছাত্রছাত্রীরাই৷ তাদের অভিযোগ, শিক্ষিকা ক্লাসে ঢুকে আচমকাই বলতে শুরু করেন, নির্ভয়ার ঘটনায় আসলে দোষ ছিল মেয়েটিরই৷ অত রাতে এক যুবকের সঙ্গে কেন বেরিয়েছিল সে? তার পোশাক নিশ্চয়ই ‘সঠিক' ছিল না৷ সে কারণেই তার দিকে আকৃষ্ট হয় ধর্ষণকারীরা৷ বস্তুত, ধর্ষণের জন্য এরপর মেয়েদেরকেই দায়ী করেন ওই শিক্ষিকা৷ ক্লাসে ছাত্রদের উপস্থিতিতেই ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ঠিকঠাক' পোশাক না পরলে, কিংবা লিপস্টিক লাগালে পুরুষেরা মেয়েদের ভোগ করতে চাইবেই৷ কারণ খোলামেলা পোশাক পরা মেয়েদের চরিত্র সকলেই বুঝতে পারে৷ পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই তারা ওই ধরনের পোশাক পরে৷

একাদশ শ্রেণির কিছু ছাত্র ওই শিক্ষিকার সম্পূর্ণ বক্তব্য গোপনে রেকর্ড করে৷ এরপর বাড়িতে গিয়ে সেই রেকর্ডিং শোনালে অভিভাবকেরা স্কুলের অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন৷ অধ্যক্ষ অভিযোগের কথা মেনে নিয়েছেন৷ ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে৷

কিন্তু প্রশ্ন অন্যত্র৷ একজন শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই কি মেয়েদের সম্পর্কে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে? গত কয়েকবছরে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত মানুষেরা বার বার মেয়েদের সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন৷ বিজেপি নেতা সাক্ষী মহারাজ থেকে আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত, খাপ পঞ্চায়েত থেকে গ্রামের মোরল, মেয়েদের সম্পর্কে একের পর এক তীর্যক মন্তব্য করা হয়েছে৷ তাঁদের মন্তব্য খবর হয়েছে৷ সাময়িক আলোড়ন হয়েছে৷ তারপর সবকিছু ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে৷ উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানার মতো রাজ্যে মেয়েদের সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য স্বাভাবিক বলেই গণ্য করা হয়৷ কারও বিরুদ্ধেই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না৷ কারণ, ভারতীয় আইনে এ ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই৷ বহু সংগঠন এ বিষয়ে নতুন আইন তৈরির দাবি জানাচ্ছে বহুদিন ধরেই৷ কিন্তু এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো আইন প্রণয়ন হয়নি৷

আপাত প্রগতিশীল পশ্চিমবঙ্গেও এ ধরনের মন্তব্য শোনা গিয়েছে বারংবার৷ বিশিষ্ট অভিনেতা, অধুনা বিধায়ক চিরঞ্জিৎ একসময় বলেছিলেন, তাঁর এলাকায় বার বার  ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে কারণ, সেখানকার মেয়েরা খোলামেলা পোশাক পরে পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে৷ বিধায়কের সেই মন্তব্য নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল৷ শুধু তাই নয়, বারাসতের কামদুনিতে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করার পরেও শাসকদলের কোনো কোনো নেতা তীর্যক মন্তব্য করেছিলেন৷ তারও আগে পার্ক স্ট্রিটে সুজেট জর্ডনের ওপর যৌন হেনস্থার ঘটনায় ‘প্রেক্ষিত' বিচার করার কথা বলেছিলেন তৃণমূলের এক সাংসদ৷ বাম আমলের শেষ দিকে সিঙ্গুরে তাপসী মালিক হত্যার ঘটনায় কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন তৎকালীন প্রথিতযশা বাম নেতারা৷ এক বিশিষ্ট নাট্যকার এবং মহিলা কবি তাপসী মালিক এবং তার বাবার সম্পর্ক নিয়ে মনগড়া রাজনৈতিক চিত্রনাট্যও লিখে ফেলেছিলেন৷

মনোবিদ এবং সমাজবিদদের বক্তব্য, এমন মন্তব্য চলতেই থাকবে৷ কারণ সমাজমন এখনো বহু যুগ পিছনে বাস করছে৷ সামাজিক বদল না ঘটলে এই সমস্যার সমাধান হবে না৷ তবে একই সঙ্গে তাঁদের আক্ষেপ, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের মতো নাম করা স্কুলেও শিক্ষকদের মানসিকতা এমন হলে সাধারণ গ্রামীণ স্কুলগুলোর অবস্থা কী?

এসজি/ডিজি (রয়টার্স, টাইমস অফ ইন্ডিয়া)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন