লালকেল্লাকে লিজ দেওয়া নিয়ে বিতর্কের ঝড় | বিশ্ব | DW | 01.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

লালকেল্লাকে লিজ দেওয়া নিয়ে বিতর্কের ঝড়

কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লাকে ডালমিয়া গ্রুপের হাতে লিজ দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এই মর্মে একটি সমঝোতাপত্রও স্বাক্ষরিত হয়েছে ইতিমধ্যে৷ এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন তুমুল শোরগোল৷

হেরিটেজ সৌধ দত্তকদান নীতি অনুসারে, দিল্লির লালকেল্লার রক্ষণবেক্ষণ এবং কেল্লার ভেতরের এবং বাইরের মৌলিক অবকাঠামোর উন্নয়নে দুর্গটিকে ডালমিয়া ভারত গ্রুপ নামের এক বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়৷ এ জন্য হালে একটি সমঝোতাপত্র সই হয়েছে৷ এই কাজে ডালমিয়া গ্রুপ আগামী পাঁচ বছরে খরচ করবে ২৫ কোটি টাকা৷ সপ্তদশ শতাব্দীর মুঘল আমলের এই ঐতিহাসিক সৌধের দত্তকদান নীতি নিয়ে বিতর্ক ক্রমশই তীব্র হয়ে উঠছে৷ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরকারকে তুলোধুনা করছে৷ বিরোধী দলগুলির আক্রমণ সামাল দিতে বিজেপিও কোমর বেঁধেছে৷ এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির রিপোর্টকে হাতিয়ার করে পালটা আক্রমণে নেমেছে বিজেপি৷ তাদের বক্তব্য, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্টেও দত্তকদান নীতির সমর্থন আছে৷ কমিটির সুপারিশ, কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির নীতি মেনে কর্পোরেট সংস্থাকে ঐতিহাসিক সৌধ দত্তক দিতে পারে সরকার৷

অডিও শুনুন 01:33
এখন লাইভ
01:33 মিনিট

‘মোদী সরকারের ভ্রান্ত পরিকল্পনার জন্য অর্থনীতিতে চাপ পড়ছে’

ঐ রিপোর্টে আর কী কী সুপারিশ ছিল? এক, হেরিটেজ সৌধগুলির পরিকাঠামো এবং পরিষেবা উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করে দেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়৷ হেরিটেজ সৌধের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পুরোপুরি কর্পোরেট সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না৷ বিতর্কের মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজ্জু বলেছেন, এখানে দলীয় স্বার্থ বড় নয়, জাতীয় স্বার্থের ভূমিকা সর্বোপরি৷ পর্যটক টানার লক্ষ্যে লালকেল্লার পানীয় জল এবং শৌচালয় নির্মাণ, লাইট অ্যান্ড সাউন্ড, নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো এবং সার্বিক সৌন্দর্যায়ন বৃদ্ধি ইত্যাদির মতো সুবিধাগুলো তৈরি করে দেবে কর্পোরেট সংস্থা৷ তাদের হাতে মালিকানা স্বত্ত্ব ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না কিংবা বেচে দেওয়া হচ্ছে না৷

বিজেপির কিরণ রিজ্জু বক্তব্যকে উলটে দিয়ে কমিটির সদস্য সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় মনে করেন, আসলে বিজেপিই এই নিয়ে রাজনীতি করছে৷ সংসদীয় কমিটি কখনই জাতীয় সস্পদ বেচে দিতে বলেনি৷ কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী মহেশ শর্মার বক্তব্য, এই চুক্তিপত্রে টাকা পয়সার কোনো লেনদেনের কথা নেই৷ কর্পোরেট সংস্থাটি সরকারকে যেমন কোনো টাকা পয়সা দেবে না, সরকারও কোনো টাকা পয়সা দেবে না ঐ কর্পোরেট সংস্থা ডালমিয়া ভারত গ্রুপকে৷ এক কথায়, এখানে বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রশ্ন নেই৷ নেই লাভ লোকসানের প্রশ্ন৷ চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের হাতে৷ কর্পোরেট সংস্থাটি শুধু পর্যটকদের সুবিধা বাড়াবে মাত্র৷ প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস বলেছে, লালকেল্লার পর এবার কি সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট বা লোক কল্যাণ মার্গ (এটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাসভবন) লিজ দেওয়া হবে?

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এই প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মোদী সরকারের ভ্রান্ত পরিকল্পনার জন্য অর্থনীতিতে চাপ পড়ছে৷ হাজার হাজার কোটি টাকা বাইরে চলে গেছে৷ এতে বোঝা যাচ্ছে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতির পরিকাঠামোর ওপরই সরকারের শ্রদ্ধা নেই৷ সবকিছু চলেছে পরিকল্পনাহীনভাবে৷ মমতা বন্দোপাধ্যায় সঠিক কথাই বলেছেন, দেশের দায়িত্ব নিতে ওরা অপারগ৷ ওদের মানসিকতাই দেশকে এবং দেশবাসীকে বিপন্ন করে তুলছে৷ বেসরকারি সংস্থা যদি লালকেল্লার মতো হেরিটেজ সৌধের উন্নতি করতে পারে, তাহলে বুঝতে হবে সরকারের চেয়ে কর্পোরেট সংস্থা বেশি দক্ষ৷ সরকার কম দক্ষ৷ অদক্ষ সরকারকে দেশবাসী আর চাইছে না৷''

তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ডয়চে ভেলেকে আরও জানান, মোদী সরকার আজ এটা দিয়ে দিচ্ছে, কাল ওটা দিয়ে দিচ্ছে৷ কখনও এয়ারপোর্ট দিয়ে দিচ্ছে, কখনও সরকারি বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রি করে দিচ্ছে৷ একদিন গোটা দেশটাকেই হয়ত বিকিয়ে দেবে এই সরকার৷ সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভারতের ইতিহাসের এক দুঃখজনক অন্ধকার দিন৷ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, লালকেল্লার মতো এক ঐতিহাসিক সৌধ যার প্রাকার থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা তোলা হয়, সেই সৌধের রক্ষণাবেক্ষমের দায়িত্ব সরকার স্বয়ং কেন নিতে পারছে না? লিজ দিতে হচ্ছে কেন?

তৃণমূলের আর এক সাংসদ ডেরেক ও-ব্রিয়েনের শ্লেষাত্মক মন্তব্য, ‘‘আজ রেডফোর্ট বিক্রি হচ্ছে৷ এরপর নিলামে তোলা হবে জাতীয় সম্পদগুলি একে একে৷ সর্বোচ্চ দর হাকাতে পারলেই হাতে এসে যাবে৷ বাম দলগুলি এক বিবৃতিতে  সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে৷ পালটা প্রশ্ন বিজেপির৷বলেছে গত ৭০ বছরে এ সব জাতীয় সৌধের কী করুণ দশা হয়েছে৷ কেন কংগ্রেস চোখ বুজে ছিল? এই চাপানউতোর সমানে চলেছে৷ তৃণমূল সাংসদের কথায়, পশ্চিমবঙ্গ দখলে বিজেপি যখন মরিয়া, তখন তৃণমূলের স্লোগান ২০১৯ সালে চলো লালকেল্লা৷ ২০১৯ সালে মোদীকে আর লালকেল্লা থেকে ১৫ই আগস্টে জাতীয় পতাকা তুলতে হবে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়