লাদাখ সংকট: চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ | বিশ্ব | DW | 14.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

লাদাখ সংকট: চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ

ভারতে গুপ্তরচরবৃত্তি করছে চীন। অভিযোগ ঘিরে সংসদে বিতর্ক। চীনকে ফিরতে হবে এপ্রিলের আগের অবস্থানে, দাবি সেনা সূত্রের।

এপ্রিলের আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে চীনের সেনাকে। তাহলেই একমাত্র লাদাখ সমস্যার আপাতত সমাধান সম্ভব। চীনের সেনার সঙ্গে আগামী বৈঠকে এ কথাই জানাতে পারে ভারতীয় সেনা। ভারতীয় সেনার বিশেষ সূত্র এমনটাই জানিয়েছে ডয়চে ভেলেকে। অন্য দিকে ভারতে প্রায় এক হাজার ৩৫০ জন রাজনীতিবিদ সহ ১০ হাজার মানুষের উপর চীন গুপ্তচরবৃত্তি করছে বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। তার মধ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বেশ কিছু মুখ্যমন্ত্রী আছেন বলে অভিযোগ।

গত সপ্তাহে মস্কোয় প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে ভারত এবং চীনের বিদেশমন্ত্রীর। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা জানিয়েছিলেন পাঁচটি পয়েন্টে লাদাখ সংকট অবসানের চেষ্টা করা হবে। তাঁরা জানিয়েছিলেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। তবে স্থানীয় স্তরে এ বিষয়ে ফের বৈঠকে বসবেন দুই দেশের সেনা আধিকারিকরা। তাঁরাই কী ভাবে সেনা সরানো হবে, তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

সেনা সূত্র জানাচ্ছে, চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকেই দুই দেশের কোর কম্যান্ডার স্তরের সেনা এ বিষয়ে আলোচনায় বসবেন। এর আগেও লাদাখের চুসুলে তাঁরা একাধিক বৈঠকে বসেছিলেন। কিন্তু কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি। এ বারেও সমাধান সূত্র মিলবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তারই মধ্যে ডয়চে ভেলেকে ভারতীয় সেনার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সমাধান সূত্রে পৌঁছনোর জন্য চীনের সেনার কাছে একাধিক দাবি পেশ করবে ভারতীয় সেনা। সেখানে এপ্রিলের আগে চীনের সেনার যে অবস্থান ছিল, সেখানে ফিরে যেতে বলা হবে। যার অর্থ, প্যাংগংয়ের উত্তর এবং দক্ষিণ প্রান্ত থেকে কাঠামো সহ ফিরে যেতে হবে পিপলস রিপাবলিক আর্মিকে। সরিয়ে নিতে হবে যুদ্ধাস্ত্র, বিমান এবং মিসাইল।

ভিডিও দেখুন 04:06

লাদাখে ব্যস্ত যুদ্ধবিমান

ভারতীয় সেনার প্রাক্তন লেফটন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য আগেই ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছিলেন, শীতের সময় লাদাখে সেনা এবং যুদ্ধাস্ত্র এবং রসদ পাঠানো অত্যন্ত কঠিন। ভারত এবং চীন দুই পক্ষই সে কারণে সীমান্তে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে রাখতে চাইছে। যথেষ্ট পরিমাণ অস্ত্র এবং রসদও মজুত করে রাখতে চাইছে। চীনকে এপ্রিলের আগের অবস্থানে ফিরে যেতে বলা মানে যাবতীয় রসদ ফিরিয়ে নিতে বলা। চীনের সেনা আদৌ তাতে সম্মত হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন আছে বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

এ দিকে লাদাখ নিয়ে সংসদের বিশেষ বর্ষাকালীন অধিবেশনও সরগরম হয়ে উঠেছে। লাদাখ নিয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছে বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, দেশের সংসদ যে সেনা বাহিনীর পাশে আছে, সে বার্তা পাঠানোই সব চেয়ে বড় লক্ষ্য।

তারই মধ্যে নতুন তথ্য হাতে এসেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রের। তাদের দাবি, গত বেশ কিছু দিন ধরে চীনের প্রশাসন এবং চীন কমিউনিস্ট পার্টি ভারতের প্রায় এক হাজার ৩৫০ জন রাজনীতিবিদের উপর গুপ্তচরবৃত্তি করছে। এর মধ্যে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, ১২ জন মুখ্যমন্ত্রী আছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের দিকেও নজর রাখা হয়েছে বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস দাবি করেছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে এই ব্যক্তিদের গতিবিধি, সোশ্যাল মিডিয়ায় অবস্থান, তাঁদের পরিবার ইত্যাদি সমস্ত বিষয়েই গুপ্তচরবৃত্তি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদপত্রটি। বিষয়টি নিয়ে এ দিন সংসদেও যথেষ্ট বিতর্ক হয়েছে।

বিজ্ঞাপন