লাদাখ নিয়ে ভারত-চীন সমঝোতার ঘোষণা রাজনাথের | বিশ্ব | DW | 11.02.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

লাদাখ নিয়ে ভারত-চীন সমঝোতার ঘোষণা রাজনাথের

লাদাখ নিয়ে ভারত ও চীনের সমঝোতা হলো। প্যাংগং লেকের উত্তর ও দক্ষিণ থেকে দুই দেশের সেনা সরবে এবং আগের অবস্থানে যাবে।

লাদাখে ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান।

লাদাখে ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান।

ভারতের সংসদে ঘোষণা করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। লাদাখ নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। প্যাংগং লেকের উত্তরের তীর থেকে চীনের সেনা পূর্ব দিকে নিজেদের স্থায়ী শিবিরে যাবে। আর ভারতের সেনাও ফিঙ্গার পয়েন্ট চার থেকে সরে গিয়ে স্থায়ী শিবিরে ফিরে যাবে। তবে সেনা সরবে পর্যায়ক্রমে।  ফলে ফিঙ্গার পয়েন্ট চার থেকে আট পর্যন্ত কারো অধিকারে থাকবে না। পেট্রোলিং এখন বন্ধ থাকবে। রাজনাথের দাবি, ভারত তার এক ইঞ্চি জমিও হারায়নি।

রাজনাথ জানিয়েছেন, আলোচনা চলতে থাকবে। আরো কিছু বিষয়ের সমঝোতা হওয়ার বাকি। ভারত জানিয়ে দিয়েছে, দুই পক্ষকে এলএসি মানতে হবে, কেউ একতরফা কোনো পরিবর্তন করতে পারবে না এবং কোনো জমি দখল করতে পারবে না। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুই দেশের সেনা কর্তারা আবার আলোচনায় বসে বাকি বিষয়ে সমঝোতায় আসার চেষ্টা করবেন।

চীনের বক্তব্য

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই দেশের কোর কম্যান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে সেনা সরানো নিয়ে মতৈক্য হয়েছে। দুই সরকারের সম্মতিতে যে মাপদণ্ড তৈরি হয়েছিল তা মেনেই প্যাংগং থেকে সেনা সরানো নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। বুধবারও বৈঠক হয়েছে। তবে এখনো সেনা সরানোর কাজ শুরু হয়নি। সেনা ও কামান সরাতে কয়েকদিন সময় লাগে। তাই অন্তত তিন-চার দিন সময় লাগবেই। আর আলোচনায় এক সপ্তাহ থেকে দশদিনের মধ্যে সেনা সরানোর কাজ শুরু হবে বলে ঠিক হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মত

অবসরপ্রাপ্ত লেফটান্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ''বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, না আঁচালে বিশ্বাস নেই। সেটাই মনে পড়ে যাচ্ছে। আগে ভারত ফিঙ্গার তিন পর্যন্ত ছিল। ফিঙ্গার চার থেকে আট পর্যন্ত এলাকা কারো অধিকারে ছিল না। সেখানে ভারতীয় সেনা পেট্রোলিং করতে পারত। কিন্তু চীন এসে ফিঙ্গার চার পর্যন্ত এলাকা দখল করে নেয়।'' তাঁর মতে, ''এখন তাঁদের ফিঙ্গার পয়েন্ট আটে ফিরতে হবে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, সেনা সরালেও চীন ট্যাঙ্ক ইত্যাদি রেখে যায়। যাতে তারা দরকার হলেই দ্রুত চলে আসতে পারে। এখানে সেনা প্রত্যাহার মানে সব কিছু নিয়ে আগের অবস্থানে ফিরতে হবে।'' 

বিজেপি নেতা ব্রিগেডিয়ার অনিল গুপ্তার মতে, ''সমঝোতা হয়েছে। এখন বাস্তবে কীভাবে সেনা সরানো যায় সেটা দেখতে হবে।'' তাঁর প্রশ্ন, ''ভারত কী করে সেনা সরাবে? সব পাস বরফে ঢাকা। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তারা যেতে পারবে। চীনকে সেনা ও কামান সব সরাতে হবে।''

লেফটান্যান্ট জেনারেল পি এস পান্নু একটি টিভি চ্যানেলে বলেছেন, ''দুই দেশ সেনা সরানোর কথা বলছে, এটা খুবই আশার কথা। কিন্তু সাত থেকে নয় মাস ধরে সেনা সেখানে আছে। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। দুই দেশের সেনার মধ্যে আস্থার অভাব আছে।'' তাঁর মতে, ''ভারত কিছু জায়গা, বিশেষ করে কৈলাস রেঞ্জ থেকে সরে গেলে চীন সেখানে চলে আসতে পারে। তখন কী হবে? তাই চীনকে আগে সেনা ও কামান সরাতে হবে। চীনকে ফিঙ্গার ৮ থেকেও আরো সরতে হবে। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন রেকর্ড করা থাকে।''

ব্রিগেডিয়ার রাহুল ভোঁসলের মতে, ''এই সমঝোতা শুধু প্যাংগং এর উত্তর ও দক্ষিণ তীর নিয়ে হয়েছে। বাকি জায়গায় যে বিরোধ রয়েছে তা নিয়েও দ্রুত সমঝোতায় আসতে হবে।''

জিএইচ/এসজি(রাজ্যসভা টিভি, পিটিআই, এনডিটিভি)